কাবিননামায় জালিয়াতি: ১০ লাখের মোহরানা ১ লাখ করায় কাজী কারাগারে

গাইবান্ধা: বিয়ের সময় কাবিননামায় ১০ লাখ টাকা মোহরানা ধার্য থাকলেও চতুরতার আশ্রয় নিয়ে তা পরিবর্তন করে মাত্র ১ লাখ ১০ হাজার টাকা করার অভিযোগে আব্দুল গোফফার নামের এক বিবাহ রেজিস্ট্রি কাজীকে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। জালিয়াতি ও প্রতারণার এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

জালিয়াতির নেপথ্যে: মোহরানা পরিবর্তন ও প্রতারণা

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১ এপ্রিল গাইবান্ধা পৌরসভার ডেভিড কোম্পানিপাড়ার কাজী অফিসে সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের নশরতপুর গ্রামের আব্দুল হামিদ খন্দকারের ছেলে শরিফ আল কামালের সাথে মুসলিম শরিয়ত মোতাবেক রিক্তা আক্তার শিখার বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের সময় উভয় পক্ষের সম্মতিতে মোহরানা ধার্য করা হয় ১০ লাখ টাকা। কিন্তু বিয়ের কয়েকদিন পর রিক্তা আক্তার কাবিননামার কপি তুলতে গেলে অভিযুক্ত কাজী তালবাহানা শুরু করেন।

ভুয়া কাবিননামা প্রদান ও হুমকি

কাবিননামা না পেয়ে গত ৩ মে ভুক্তভোগী রিক্তা আক্তার কাজীকে অফিসে না পেয়ে সরাসরি তার বাড়িতে যান। সেখানে কাজী প্রথমে কাবিননামা দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং পরে মাত্র ১ লাখ ১০ হাজার টাকা মোহরানা লেখা একটি ভুয়া কাবিননামা ধরিয়ে দেন। রিক্তা তাৎক্ষণিকভাবে এটি ভুয়া বলে প্রতিবাদ করলে কাজী গোফফার তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে তাড়িয়ে দেন। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে স্বামীর যোগসাজশে কাজী এই জালিয়াতি করে চরম বিশ্বাস ভঙ্গ করেছেন।

অভিযোগ দায়ের এবং পুলিশের পদক্ষেপ

নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী রিক্তা আক্তার গত ৪ মে গাইবান্ধা সদর থানায় স্বামী শরিফ আল কামাল ও কাজী আব্দুল গোফফারের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করে প্রাথমিক সত্যতা পায়। এর প্রেক্ষিতে গতকাল বৃহস্পতিবার (১৪ মে) স্বামী ও কাজীর বিরুদ্ধে নিয়মিত প্রতারণা মামলা রুজু করে পুলিশ। এরপর শুক্রবার সকালে পৌরসভা এলাকা থেকে অভিযুক্ত ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাজী গোফফারকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আদালত ও প্রশাসনের বক্তব্য

গাইবান্ধা সদর কোর্টের জেনারেল রেজিস্ট্রার অফিসার (জিআরও) গোবিন্দ চন্দ্র রায় কাজীকে কারাগারে পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ বিষয়ে গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন গণমাধ্যমকে জানান, “কাবিননামায় মোহরানা পরিবর্তনের অভিযোগে দায়ের করা প্রতারণা মামলায় অভিযুক্ত কাজীকে গ্রেপ্তার করে আজ শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অপর আসামি ও ভুক্তভোগীর স্বামীকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

Related Articles

Back to top button