হাইকোর্ট পারমিশন পরীক্ষার সিলেবাস ও প্রস্তুতি ২০২৬ | লিখিত, ভাইভা, মার্কিং ও Drafting Guid

হাইকোর্ট পারমিশন পরীক্ষার সিলেবাস ও প্রস্তুতি ২০২৬: পূর্ণাঙ্গ বর্ণনামূলক গাইডলাইন

বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে প্র্যাকটিস করার অনুমতি লাভ করা প্রতিটি আইনজীবীর পেশাগত জীবনের একটি অনন্য মাইলফলক। এটি কেবল একটি সনদ নয়, বরং আপনার আইনি প্রজ্ঞা, সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ ক্ষমতা এবং ড্রাফটিং দক্ষতার চূড়ান্ত স্বীকৃতি। হাইকোর্ট পারমিশন পরীক্ষার সিলেবাস মূলত দেওয়ানী (Civil), ফৌজদারী (Criminal) এবং রিট (Writ) ড্রাফটিংয়ের ওপর ভিত্তি করে সাজানো হয়েছে। লিখিত পরীক্ষার মোট ২৫ নম্বর এবং সমমানের ২৫ নম্বরের ভাইভা অনুষ্ঠিত হয়। যারা ২০২৬ সালের High Court Division Enrollment Examination এর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাদের জন্য এই ৪০০০+ শব্দের বিস্তারিত গাইডে অফিসিয়াল সিলেবাসের প্রতিটি ধারা, ড্রাফটিং কৌশল, মার্কিং সিস্টেম এবং বাস্তবমুখী গাইডলাইন তুলে ধরা হয়েছে।

হাইকোর্ট পারমিশন পরীক্ষার পাস মার্ক কত?

হাইকোর্ট পারমিশন লিখিত পরীক্ষায় ২৫ নম্বরের মধ্যে কমপক্ষে ১২ নম্বর এবং ভাইভায় ২৫ নম্বরের মধ্যে কমপক্ষে ১২ নম্বর পেতে হয়। তবে চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য লিখিত ও ভাইভা—উভয় পরীক্ষায় মোট প্রাপ্ত নম্বর কমপক্ষে ২৫ হতে হবে। মনে রাখবেন, যদি কোনো পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষায় ১২ পান, তবে তাকে ভাইভায় অবশ্যই ১৩ পেয়ে মোট ২৫ পূর্ণ করতে হবে। অন্যথায় তিনি অকৃতকার্য বলে গণ্য হবেন। এই ভারসাম্য বজায় রাখাই এই পরীক্ষার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

১. হাইকোর্ট পারমিশন পরীক্ষার অফিসিয়াল সিলেবাস ২০২৬

বার কাউন্সিল নির্ধারিত অফিসিয়াল সিলেবাসটি মূলত উচ্চ আদালতের দৈনন্দিন ড্রাফটিং প্র্যাকটিসকে কেন্দ্র করে তৈরি। প্রস্তুতির শুরুতে সিলেবাসের প্রতিটি গ্রুপ সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকা আবশ্যক। নিচে একটি বিস্তারিত টেবিলের মাধ্যমে অফিসিয়াল সিলেবাসের পূর্ণাঙ্গ রূপ তুলে ধরা হলো:

গ্রুপ (Group) বিষয় (Subject) অফিসিয়াল সিলেবাসের অন্তর্ভুক্ত টপিকসমূহ
Group A দেওয়ানী (Civil) ১. Memo of Appeal (দেওয়ানী আপিল)
২. Civil Revision (Section 115 CPC)
Group B ফৌজদারী (Criminal) ১. Criminal Memo of Appeal (ফৌজদারী আপিল)
২. 561A Application (মামলা বাতিল)
৩. Habeas Corpus under Section 491
Group C রিট (Writ) সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে ৫টি প্রধান রিট: Mandamus, Certiorari, Habeas Corpus, Prohibition, Quo-Warranto।

২. পরীক্ষক যেভাবে নম্বর প্রদান করেন: মার্কিং ক্রাইটেরিয়া ব্রেকডাউন

অধিকাংশ পরীক্ষার্থী ড্রাফট অনেক বড় করেন কিন্তু আশানুরূপ নম্বর পান না। এর কারণ হলো তারা জানেন না যে পরীক্ষক খাতার কোন কোন জায়গায় ফোকাস করেন। হাইকোর্ট পারমিশন পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে একটি সুনির্দিষ্ট ‘Marking Scheme’ অনুসরণ করা হয়।

মূল্যায়নের বিষয় বিস্তারিত গুরুত্ব ও মানদণ্ড
Formal Structure Cause title, Jurisdiction, এবং Parties এর নাম-ঠিকানা নির্ভুলভাবে লেখা হয়েছে কি না। এটি ড্রাফটের প্রথম ইমপ্রেশন।
Arrangement of Facts মামলার ঘটনা বা ফ্যাক্টগুলো কত সুন্দর ও ধারাবাহিকভাবে (Chronologically) সাজানো হয়েছে।
Prayer Formulation আপনি আদালতের কাছে ঠিক কী চাচ্ছেন? প্রার্থনার ভাষা আইনি এবং সুনির্দিষ্ট হতে হবে। সঠিক রিট বা প্রতিকার না চাইলে নম্বর পাওয়া যায় না।
Language & Style আইনি ভাষার (Legal Jargon) সঠিক ব্যবহার এবং ড্রাফটিংয়ের প্রাঞ্জলতা। এখানে সাধারণ ইংরেজি বা বাংলার চেয়ে ‘Legal Style’ বেশি কাম্য।
Application of Law সঠিক ধারা (Sections) এবং আইনি গ্রাউন্ডস (Grounds) প্রয়োগ। বিশেষ করে হাইকোর্টের রুলস এবং নজিরের উল্লেখ থাকলে নম্বর বেড়ে যায়।
প্র্যাকটিস টিপস:
বাস্তব অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, যারা ড্রাফটিং করার সময় Index, Synopsis এবং List of Dates যুক্ত করেন, তারা অন্যদের তুলনায় ২০-৩০% বেশি নম্বর পান। এটি আপনার ড্রাফটকে একজন সিনিয়রের প্রফেশনাল ড্রাফটের মতো উপস্থাপন করে।

৩. দেওয়ানী (Civil) ড্রাফটিং প্রস্তুতি: বিস্তারিত আলোচনা

দেওয়ানী বিভাগে মোট ৮ নম্বর বরাদ্দ থাকে। এখানে মূলত দুই ধরনের ড্রাফটিং গুরুত্বপূর্ণ। এর প্রস্তুতি হতে হবে অত্যন্ত গভীর ও বিশ্লেষণধর্মী।

সিভিল রিভিশন (Section 115 CPC) – গভীর বিশ্লেষণ

দেওয়ানী কার্যবিধির ১১৫ ধারার অধীনে রিভিশন ড্রাফটিং করা এই পরীক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। হাইকোর্ট বিভাগে রিভিশন তখনই চলে যখন অধঃস্তন আদালতের রায়ে কোনো ‘Jurisdictional Error’ বা এখতিয়ারগত ত্রুটি থাকে।

কীভাবে রিভিশন গ্রাউন্ডস সাজাবেন? রিভিশন গ্রাউন্ডসে আপনাকে প্রমাণ করতে হবে যে নিম্ন আদালত হয় এমন একটি ক্ষমতা ব্যবহার করেছে যা তার ছিল না (Exercise of jurisdiction not vested by law), অথবা তার ওপর অর্পিত ক্ষমতা ব্যবহার করতে সে ব্যর্থ হয়েছে (Failure to exercise jurisdiction), অথবা সে তার ক্ষমতা ব্যবহার করতে গিয়ে বড় ধরনের কোনো আইনি ভুল করেছে (Material Irregularity)। গ্রাউন্ডসে অবশ্যই এই টার্মগুলো ব্যবহার করতে হবে।

মেমো অফ আপিল (Memo of Appeal)

সিভিল আপিল তৈরির সময় প্রতিটি ঘটনার ধারাবাহিকতা এবং জজ কোর্টের রায়ের আইনি ভুলগুলো পয়েন্ট আকারে তুলে ধরতে হয়। এখানে মূল ডিক্রি (Decree) বা চূড়ান্ত আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়। ড্রাফটে অবশ্যই উল্লেখ করতে হবে যে কেন নিম্ন আদালতের রায়টি টিকে থাকার যোগ্য নয়।

সতর্কতা:
মনে রাখবেন, আপিল হলো তথ্যের ভুল (Error of Fact) এবং আইনের ভুল (Error of Law) উভয়ের বিরুদ্ধে। কিন্তু রিভিশন মূলত আইনের ভুল এবং এখতিয়ারগত ভুলের বিরুদ্ধে। এই পার্থক্যটি আপনার ড্রাফটে ফুটিয়ে তুলতে না পারলে মার্কস কমে যাবে।

৪. ফৌজদারী (Criminal) ড্রাফটিং ও কৌশলগত বিশ্লেষণ

ফৌজদারী সেকশনে ৮ নম্বরের জন্য অফিসিয়াল সিলেবাসে তিনটি মূল বিষয় রয়েছে যা আপনাকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে জানতে হবে। এই সেকশনটি তুলনামূলক দ্রুত শেষ করা যায় যদি আপনার বেসিক ক্লিয়ার থাকে।

১. ক্রিমিনাল মেমো অফ আপিল (Criminal Memo of Appeal)

নিম্ন আদালতের সাজা বা দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যে আপিল করা হয় তার খসড়া এটি। এখানে আসামীর পক্ষে যুক্তি দিতে হয় যে কেন নিম্ন আদালতের সাক্ষ্য মূল্যায়ন (Evaluation of Evidence) ভুল ছিল। ড্রাফটে অবশ্যই জিম্মিনামা এবং জামিনের প্রার্থনা যুক্ত করতে হবে।

২. সেকশন ৫৬১এ (Section 561A CrPC) – মামলা বাতিল

এটি হাইকোর্ট বিভাগের অন্তর্নিহিত ক্ষমতা (Inherent Power)। যখন কোনো মামলার কার্যক্রম দ্বারা ন্যায়বিচার ব্যাহত হয় বা আদালতের প্রক্রিয়ার অপব্যবহার (Abuse of the process of the court) হয়, তখন মামলা বাতিলের জন্য ৫৬১এ ধারায় আবেদন করতে হয়। পরীক্ষায় একটি কাল্পনিক এফআইআর (FIR) বা চার্জশিট থেকে আপনাকে কুয়াশমেন্ট (Quashment) পিটিশন ড্রাফট করতে বলা হতে পারে।

৩. সেকশন ৪৯১ (Habeas Corpus under Section 491)

যদি কোনো ব্যক্তিকে বেআইনিভাবে আটকে রাখা হয়, তবে ফৌজদারী কার্যবিধির ৪৯১ ধারার অধীনে তাকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ চাওয়া হয়। এটি ড্রাফটিং করার সময় আটকের অবৈধতা এবং মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি ফোকাস করতে হয়। এটি মূলত “ক্রিমিনাল হেবিয়াস কর্পাস” হিসেবে পরিচিত।

৫. রিট (Writ) পিটিশন ড্রাফটিং: ৫টি রিটের বিস্তারিত ব্যাখ্যা

সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে ৯ নম্বরের এই অংশটি পরীক্ষার সাফল্যের জন্য সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে। রিটের বানান ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে **”সার্টিওরারি” (Certiorari)** বানানটি সতর্কভাবে ব্যবহার করবেন।

১. রিট অফ ম্যান্ডামাস (Writ of Mandamus)

যখন কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষ বা কর্মকর্তা তাদের আইনগত দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেন, তখন হাইকোর্ট তাদের সেই দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়ে ম্যান্ডামাস রিট ইস্যু করে। ড্রাফটে দেখাতে হয় যে আপনার একটি আইনি অধিকার আছে এবং কর্তৃপক্ষের সেটি পালন করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

২. রিট অফ সার্টিওরারি (Writ of Certiorari)

নিম্ন আদালত বা ট্রাইব্যুনাল যদি আইনের সীমা লঙ্ঘন করে কোনো রায় দেয়, তবে সেই রায় বাতিল করার জন্য সার্টিওরারি রিট করা হয়। ড্রাফটিংয়ের সময় ‘Error of law apparent on the face of the record’ বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হয়। এটি জজ কোর্টের প্র্যাকটিসে অতি আবশ্যক একটি টুল।

৩. রিট অফ হেবিয়াস কর্পাস (Writ of Habeas Corpus)

কোনো ব্যক্তিকে কেন বা কোন অধিকারে আটক করা হয়েছে তা জানতে চেয়ে এই রিট করা হয়। ড্রাফটে আটকের অবৈধতা এবং মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি ফোকাস করতে হবে। এটি ব্যক্তি স্বাধীনতার শ্রেষ্ঠ রক্ষা কবচ।

৪. রিট অফ প্রোহিবিশন (Writ of Prohibition)

নিম্ন আদালত বা কর্তৃপক্ষকে তাদের এখতিয়ারের বাইরে কোনো কাজ করা থেকে বিরত রাখার জন্য এই রিট করা হয়। এটি চলমান কোনো বেআইনি প্রক্রিয়াকে বন্ধ করার নির্দেশ দেয়।

৫. রিট অফ কো-ওয়ারেন্টো (Writ of Quo-Warranto)

কোনো ব্যক্তি কোন অধিকারে একটি সরকারি পাবলিক অফিস দখল করে আছেন, তা চ্যালেঞ্জ করার জন্য এই রিট ব্যবহার করা হয়। এটি মূলত পদের বৈধতা যাচাই করে।

৬. মৌখিক পরীক্ষা বা ভাইভা প্রস্তুতির পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন

লিখিত পরীক্ষায় পাস করার পর ২৫ নম্বরের ভাইভা অনুষ্ঠিত হয়। এটি আপনার আইনজীবী হিসেবে ব্যক্তিত্ব এবং উপস্থিত বুদ্ধি যাচাইয়ের জায়গা।

  • ড্রেস কোড: শতভাগ ফরমাল কোর্ট ড্রেস। পরিচ্ছন্ন কালো কোট, সাদা শার্ট এবং টাই।
  • ব্যক্তিত্ব: বিচারপতির সামনে কথা বলার সময় বিনয় এবং আত্মবিশ্বাস—উভয়ের ভারসাম্য বজায় রাখুন।
  • কোর এরিয়া: সিভিল ও ক্রিমিনাল রিভিশনের পার্থক্য, রিট করার পূর্বশর্ত, এবং ল্যান্ডমার্ক জাজমেন্টগুলো (যেমন: ৭ম সংশোধনী বা মাজদার হোসেন মামলা) সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখুন।

লেখক অভিজ্ঞতা নোট: বাস্তব কোর্ট প্র্যাকটিসে দেখা যায়, অধিকাংশ পরীক্ষার্থী ড্রাফটিং স্ট্রাকচার (Drafting structure) ঠিকভাবে ফলো না করার কারণে নম্বর হারান। বিশেষ করে Prayer এবং Grounds formulation অংশে বেশি ভুল হয়। গ্রাউন্ডস হতে হবে সুনির্দিষ্ট আইনি পয়েন্ট ভিত্তিক, গল্পের মতো বর্ণনা নয়। অধিকাংশ পরীক্ষার্থী জজ কোর্টের স্টাইলে ড্রাফট করেন, কিন্তু মনে রাখতে হবে হাইকোর্ট মূলত ‘Question of Law’ বা আইনের ব্যাখ্যার জায়গা। তাই ড্রাফটে ধারা ও নজিরের সঠিক প্রয়োগই আপনাকে অন্যদের থেকে এগিয়ে রাখবে।

৯. সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) – হাইকোর্ট পারমিশন পরীক্ষা

১. হাইকোর্ট পারমিশন পরীক্ষার মোট নম্বর কত?

হাইকোর্ট পারমিশন পরীক্ষার মোট নম্বর ৫০। এর মধ্যে লিখিত ড্রাফটিং পরীক্ষায় ২৫ নম্বর এবং ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষায় ২৫ নম্বর বরাদ্দ থাকে।

২. লিখিত পরীক্ষায় পাসের জন্য কত নম্বর প্রয়োজন?

লিখিত পরীক্ষায় ২৫ নম্বরের মধ্যে কমপক্ষে ১২ নম্বর পেলে আপনি পাসের জন্য বিবেচিত হবেন।

৩. চূড়ান্ত উত্তীর্ণ হওয়ার মোট পাস মার্ক কত?

লিখিত এবং ভাইভা উভয় পরীক্ষায় আলাদাভাবে ১২ পাওয়ার পাশাপাশি মোট ৫০ নম্বরের মধ্যে অন্তত ২৫ নম্বর পেতে হয়।

৪. সিলেবাসে ক্রিমিনাল সেকশনে কী কী থাকে?

ফৌজদারী বা ক্রিমিনাল সেকশনে থাকে—Criminal Memo of Appeal, 561A Application এবং Section 491 (Habeas Corpus)।

৫. রিট (Writ) অংশে কত নম্বর বরাদ্দ থাকে?

রিট অংশে সবচেয়ে বেশি ৯ নম্বর বরাদ্দ থাকে। ড্রাফটিং পাসের জন্য এই অংশটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৬. Section 561A এর প্রয়োগ কখন হয়?

৫৬১এ ধারাটি হাইকোর্টের অন্তর্নিহিত ক্ষমতা। কোনো মামলার কার্যক্রম বাতিল (Quashment) বা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে এটি ব্যবহৃত হয়।

৭. সিভিল রিভিশন (Section 115) করার মূল কারণ কী?

অধঃস্তন আদালতের আদেশে এখতিয়ারগত ত্রুটি (Jurisdictional Error) বা পদ্ধতিগত ভুল থাকলে তা সংশোধনের জন্য এটি করা হয়।

৮. লিখিত পরীক্ষার জন্য মোট কত সময় পাওয়া যায়?

লিখিত পরীক্ষা ৩ ঘণ্টা সময়ব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়। এই সময়ের মধ্যে ৩টি পূর্ণাঙ্গ ড্রাফট শেষ করা বেশ চ্যালেঞ্জিং।

৯. ম্যান্ডামাস রিট করার প্রধান শর্ত কী?

ম্যান্ডামাস রিট করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একটি লিগ্যাল ডিমান্ড নোটিশ (Demand Justice Notice) প্রদান করা বাধ্যতামূলক।

১০. প্রস্তুতির সময় Bare Act কেন পড়া জরুরি?

বেয়ার অ্যাক্ট বা মূল আইন পড়া অত্যন্ত জরুরি কারণ ড্রাফটিংয়ে আইনি ভাষা এবং ধারার নির্ভুল প্রয়োগ নম্বর পেতে সাহায্য করে।

১১. সিভিল আপিল ও রিভিশনের মধ্যে পার্থক্য কী?

আপিল হয় তথ্যের ও আইনের ভুলের বিরুদ্ধে, কিন্তু রিভিশন হয় কেবল পদ্ধতিগত বা এখতিয়ারগত ত্রুটির বিরুদ্ধে।

১২. রিট পিটিশনে এফিডেভিট (Affidavit) কি দিতেই হয়?

হ্যাঁ, হাইকোর্ট বিভাগে প্রতিটি পিটিশনের সাথে অবশ্যই একটি হলফনামা বা এফিডেভিট যুক্ত করা বাধ্যতামূলক।

১৩. ড্রাফটিংয়ে লিস্ট অফ ডেটস (List of Dates) কেন দেওয়া হয়?

লিস্ট অফ ডেটস ড্রাফটিংকে পেশাদার লুক দেয় এবং বিচারক বা পরীক্ষকের জন্য মামলার ফ্যাক্ট বোঝা সহজ করে দেয়।

১৪. হাইকোর্ট পরীক্ষায় পাসের হার কত?

এটি প্রতি বছর ভিন্ন হয়, তবে সাধারণত যারা ড্রাফটিংয়ে নিখুঁত ভাষা ব্যবহার করেন তারা সহজেই উত্তীর্ণ হন।

১৫. ভাইভা বোর্ডে সাধারণত কারা থাকেন?

ভাইভা বোর্ডে সাধারণত সুপ্রীম কোর্টের মাননীয় বিচারপতিগণ এবং বার কাউন্সিলের উচ্চপদস্থ আইনজীবীগণ উপস্থিত থাকেন।

১৬. ড্রাফটে ভুল ধারা ব্যবহার করলে কী হয়?

ভুল ধারা ব্যবহার করলে আপনার পিটিশনটি আইনিভাবে অগ্রহণযোগ্য হয়ে যায় এবং আপনি ওই প্রশ্নে কোনো নম্বর পাবেন না।

১৭. প্রস্তুতির জন্য কতদিন সময় প্রয়োজন?

পরিকল্পিতভাবে অন্তত ৩ থেকে ৪ মাস নিয়মিত ড্রাফটিং প্র্যাকটিস করলে একটি ভালো ফলাফল নিশ্চিত করা সম্ভব।

১৮. ড্রাফটিং শেখার শ্রেষ্ঠ উপায় কী?

সফল সিনিয়র আইনজীবীদের করা ড্রাফট কপিগুলো সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণ করা এবং নিজে হাতে লিখে বারবার প্র্যাকটিস করা।

১৯. হাইকোর্ট পারমিশন সনদ পেলে কী সুবিধা হয়?

এই সনদ পাওয়ার পর আপনি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ আদালত অর্থাৎ সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে প্র্যাকটিস করার আইনি ক্ষমতা লাভ করবেন।

২০. নিয়মিত প্রস্তুতির জন্য কোন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সেরা?

ainprokash.com সাইটটি নিয়মিত আপডেট সিলেবাস, ড্রাফটিং ফরম্যাট এবং মডেল টেস্টের জন্য আইনজীবীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়।

Related Articles

Back to top button