অধস্তন আদালত মনিটরিংয়ে ১৩ বিচারপতি: নতুন কমিটি গঠন

ঢাকা: দেশের অধস্তন বা নিম্ন আদালতগুলোতে মামলার জট নিরসন এবং বিচারিক কার্যক্রমে আরও গতিশীলতা আনতে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। দেশের আটটি বিভাগের বিচারিক কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যে ১৩টি পৃথক মনিটরিং কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন থেকে সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে, যার সাথে প্রাসঙ্গিক নথিপত্র 1000232863.jpg ফাইলে সংরক্ষিত রয়েছে।
মনিটরিং কমিটির মূল লক্ষ্য ও গঠনপ্রণালি
সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৬৪টি জেলার অধস্তন আদালতের কার্যক্রম সুচারুভাবে পরিচালনার জন্য হাইকোর্ট বিভাগের ১৩ জন বিচারপতিকে এই মনিটরিং কমিটিগুলোর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কমিটি তাদের সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর বিচারিক কাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং প্রশাসনিক তদারকিতে কাজ করবে। পাশাপাশি, এই কমিটিগুলোকে প্রয়োজনীয় সাচিবিক সহায়তা প্রদানের জন্য প্রতিটি কমিটিতে একজন করে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাকেও (জুডিশিয়াল অফিসার) দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিচারপতিদের দায়িত্বপ্রাপ্ত অঞ্চলসমূহ
কাজের সুবিধার্থে পুরো দেশকে ১৩টি অঞ্চলে ভাগ করে বিচারপতিদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে। নিচে এর একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা দেওয়া হলো:
- ঢাকা-১ বিভাগ (ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী ও টাঙ্গাইল): বিচারপতি জে বি এম হাসান।
- ঢাকা-২ বিভাগ (কিশোরগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর ও মাদারীপুর): বিচারপতি ফাতেমা নজীব।
- চট্টগ্রাম-১ বিভাগ (চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি): বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান।
- চট্টগ্রাম-২ বিভাগ (নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চাঁদপুর): বিচারপতি আহমেদ সোহেল।
- রাজশাহী-১ বিভাগ (রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও নাটোর): বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীর।
- রাজশাহী-২ বিভাগ (বগুড়া, জয়পুরহাট, পাবনা ও সিরাজগঞ্জ): বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি।
- খুলনা-১ বিভাগ (খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, যশোর ও নড়াইল): বিচারপতি মো. মুজিবুর রহমান মিয়া।
- খুলনা-২ বিভাগ (কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ ও মাগুরা): বিচারপতি মো. জাফর আহমেদ।
- বরিশাল বিভাগ (পুরো বিভাগ): বিচারপতি শেখ মো. জাকির হোসেন।
- ময়মনসিংহ বিভাগ (ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর ও নেত্রকোণা): বিচারপতি রাজিক আল জলিল।
- সিলেট বিভাগ (সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ): বিচারপতি মো. আতাবুল্লাহ।
- রংপুর-১ বিভাগ (রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট): বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার।
- রংপুর-২ বিভাগ (দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও নীলফামারী): বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম।
কমিটি গঠনের প্রেক্ষাপট
অধস্তন আদালতগুলোকে সরাসরি মনিটরিং করার এই উদ্যোগটি প্রথম শুরু হয় ২০২২ সালের ২৭ জানুয়ারি। সে সময় তৎকালীন প্রধান বিচারপতি দেশের বিচারিক কার্যক্রম তদারকির জন্য ৮ জন বিচারপতিকে এই দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তবে মামলার চাপ ও কাজের ব্যাপকতা বিবেচনায় ২০২৩ সালের অক্টোবরে এই সংখ্যা বাড়িয়ে ১৩ জন করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বর্তমান বিচারিক কাঠামোর বাস্তবতা বিবেচনা করে প্রধান বিচারপতি পুনরায় এই মনিটরিং কমিটিগুলো ঢেলে সাজিয়েছেন।



