বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ বাতিল ভালো ফল দেবে না: মাসদার হোসেনের সতর্কবার্তা

বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্ত দেশের বিচার ব্যবস্থার জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিচার বিভাগ পৃথককরণ মামলার বাদী ও সাবেক জেলা জজ মাসদার হোসেন।

শনিবার (১১ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক মুক্ত আলোচনায় তিনি এ মন্তব্য করেন। হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন এবং ‘আইন ও বিচার’ পত্রিকার যৌথ উদ্যোগে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় আরও বক্তব্য দেন আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আবদুল মতিন, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার এহসান এ সিদ্দিক, ব্যারিস্টার ওমর ফারুক, আইনজীবী হাসান তারিক চৌধুরী, সাবেক যুগ্ম জজ ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন এবং জুলাই আন্দোলনের নেতা আরিফ সোহেল।

মাসদার হোসেন বলেন, ক্ষমতার প্রভাবে গুরুত্বপূর্ণ আইনগুলো দ্রুত বাতিল করা হচ্ছে, যা জনগণের বৃহৎ অংশের মতামতের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তিনি দাবি করেন, এই বিষয়ে যদি গণভোট বা জরিপ করা হয়, তবে অধিকাংশ মানুষ সরকারের এই সিদ্ধান্তের বিপক্ষে মত দেবে।

গুমের সংজ্ঞা নির্ধারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা গুমের শিকার হয়ে মৃত্যুর প্রহর গুনেছেন এবং বর্তমানে সংসদ সদস্য হয়েছেন, তাদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এ সংজ্ঞা নির্ধারণ করা উচিত।

তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, সীমিত কয়েকজন মানুষের চিন্তাভাবনা থেকে নেওয়া এসব সিদ্ধান্ত দেশের জন্য শুভ ফল বয়ে আনবে না। জনগণ শেষ পর্যন্ত সঠিক পথ নির্দেশ করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ফেসবুক স্ট্যাটাস দেওয়ার কারণে ২৮ জন বিচারকের কাছে আইন মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা চাওয়ার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মাসদার হোসেন। তিনি বলেন, বিচারকদের প্রশাসনিক বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের কর্তৃত্ব থাকা সত্ত্বেও আইন মন্ত্রণালয় কীভাবে এ ধরনের পদক্ষেপ নেয়, তা স্পষ্ট নয়।

জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই আন্দোলনের ত্যাগের ভিত্তিতেই বর্তমান নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাই সেই আত্মত্যাগের প্রতি অবিচার করা উচিত নয়।

আলোচনায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আবদুল মতিন বলেন, মাসদার হোসেন মামলার রায়ের ধারাবাহিকতায়ই সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশ দুটি প্রণয়ন করা হয়েছিল।

তিনি উল্লেখ করেন, আইন বাতিল করার আগে আরও উন্নত আইন প্রণয়ন করে পরে সংশোধনের সুযোগ রাখা যেত। সরাসরি বাতিল করার সিদ্ধান্তকে তিনি আত্মঘাতী বলে অভিহিত করেন।

উল্লেখ্য, ‘সরকার বনাম মাসদার হোসেন’ মামলার রায় বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত। ১৯৯৯ সালে আপিল বিভাগ এ মামলায় ১২ দফা নির্দেশনা প্রদান করে, যার মাধ্যমে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার ভিত্তি স্থাপিত হয়।

এই রায়ের ধারাবাহিকতায় ২০০৭ সালে দেশে কার্যকরভাবে বিচার বিভাগ পৃথক হয়, যা রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হয়।

Related Articles

Back to top button