ঈদুল আজহায় ২৫-৩১ মে আদালত ছুটি, ক্ষতিপূরণে খোলা শনিবার

ঢাকা: আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের বিচার ব্যবস্থায় দীর্ঘ ছুটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত টানা সাত দিন দেশের সকল অধস্তন (নিম্ন) আদালত, ট্রাইব্যুনাল এবং সুপ্রিম কোর্টের নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তবে এই দীর্ঘ ছুটির ক্ষতিপূরণ হিসেবে এবং বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি এড়াতে আগামী ২৩ মে (শনিবার) ও ২৪ মে (রবিবার) দেশের আদালতগুলো খোলা রাখার বিশেষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সময়সূচি নিশ্চিত করা হয়েছে।
অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালের সময়সূচি
নিম্ন আদালতগুলোর জন্য জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটির কারণে আদালতে যাতে মামলার জট তৈরি না হয় বা বিচারিক কাজে স্থবিরতা না আসে, সেজন্য সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে কাজের এই বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আগামী ২৫ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত টানা ছুটি থাকলেও, এর ঠিক পূর্ববর্তী ২৩ মে (শনিবার) এবং ২৪ মে (রবিবার) সারা দেশের সকল অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনাল সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিকভাবে খোলা থাকবে। এই দুই দিন নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম এবং মামলার স্বাভাবিক শুনানি যথানিয়মেই অনুষ্ঠিত হবে।
সুপ্রিম কোর্টের দাপ্তরিক কার্যক্রম ও ছুটি
সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের ছুটির বিষয়ে জারি করা পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের গত ১৪ মে’র প্রজ্ঞাপনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ওই প্রজ্ঞাপনের আলোকে এবং প্রধান বিচারপতির নির্দেশনাক্রমে আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে দীর্ঘ এই ছুটির আগে দাপ্তরিক কাজের সুবিধার্থে ২৩ মে (শনিবার) সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের (আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগ) অফিসিয়াল বা দাপ্তরিক কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে চালু থাকবে।
আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের জন্য বড় স্বস্তি
টানা সাত দিনের ছুটির আগে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শনিবার (২৩ মে) সুপ্রিম কোর্টের দপ্তর এবং নিম্ন আদালত খোলা রাখার সিদ্ধান্তটি আইনি অঙ্গনে বেশ ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর ফলে আইনজীবীরা দীর্ঘ ছুটিতে যাওয়ার আগেই তাঁদের অতি জরুরি মোশন, জামিনের আবেদন এবং নতুন মামলার ফাইলিং সম্পন্ন করার পর্যাপ্ত সুযোগ পাবেন। এই সিদ্ধান্ত আদালতে ছুটির আগের বাড়তি চাপ সামলানোর পাশাপাশি বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি বয়ে আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



