চাঁপাইনবাবগঞ্জ বারে সালিস নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আটক ৭

চাঁপাইনবাবগঞ্জ: জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনের অভ্যন্তরে একটি মামলার সালিস বৈঠককে কেন্দ্র করে আইনজীবী ও বহিরাগতদের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রড ও লোহার পাইপ নিয়ে উভয়পক্ষের দফায় দফায় মারামারিতে পুরো সমিতি ভবন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এই নজিরবিহীন হামলায় অন্তত ৬ জন আইনজীবীসহ উভয়পক্ষের ১০-১২ জন আহত হয়েছেন এবং ঘটনাস্থল থেকে ৭ জন বহিরাগতকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ও সংঘর্ষের বিবরণ

আইনজীবী সমিতি ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সোনামসজিদ স্থলবন্দরে পাথর ব্যবসার টাকা-পয়সার লেনদেনের জেরে আদালতে একটি সিআর (CR) মামলা দায়ের করা হয়েছিল। মামলার বাদী ছিলেন স্বয়ং আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট মো. রাসেল আহম্মেদ রনি। আদালতের নির্দেশেই রবিবার (১৭ মে) আইনজীবী সমিতি ভবনে মামলার বাদী ও বিবাদী উভয়পক্ষকে নিয়ে আইনি সালিস বা আপস-মীমাংসার বৈঠক চলছিল।

সালিস চলাকালীন আকস্মিকভাবে কিছু বহিরাগত ব্যক্তি জোরপূর্বক একটি সালিশনামায় (মীমাংসাপত্র) মামলার বাদী অ্যাডভোকেট রনির স্বাক্ষর নেওয়ার চেষ্টা করেন। উপস্থিত আইনজীবীরা এতে বাধা দিলে বহিরাগতরা উগ্র আচরণ শুরু করেন। একপর্যায়ে বারের নির্মাণাধীন একটি ভবন থেকে রড ও লোহার পাইপ সংগ্রহ করে উভয়পক্ষ একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

আহত আইনজীবী এবং পুলিশের পদক্ষেপ

বহিরাগতদের অতর্কিত লাঠিসোঁটা ও রডের হামলায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ বারের ৬ জন আইনজীবী গুরুতর আহত হন। তারা হলেন:

  • অ্যাডভোকেট আব্দুর বারী-১
  • অ্যাডভোকেট আব্দুর বারী-২
  • অ্যাডভোকেট বশির আহম্মেদ
  • অ্যাডভোকেট নাহিদ ইবনে মিজান
  • অ্যাডভোকেট ফরহাদ হোসেন
  • অ্যাডভোকেট সামিউল ইসলাম মিলন

আইনজীবীদের প্রতিরোধে বহিরাগতদের কয়েকজনও আহত হন। ঘটনার পরপরই আইনজীবীরা ধাওয়া দিয়ে ৭ জন বহিরাগতকে আটকে রেখে সদর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন জানান, আটককৃতদের মধ্যে ৫ জন থানা হাজতে এবং ২ জন পুলিশি পাহারায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মামলা দায়ের ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য

রবিবার রাতেই আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু হাসিব বাদী হয়ে সদর থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। তবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ জানান, এজাহারে কিছু আইনি বিষয় সংশোধনের প্রয়োজন থাকায় মামলাটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে রুজু হয়নি। মামলা রুজু হওয়া মাত্রই আটককৃতদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

বিবাদী পক্ষের আইনজীবী মাসুদ রানা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, সম্পূর্ণ বহিরাগতদের উগ্র আচরণের কারণেই এই সংঘর্ষ হয়েছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা সাবেক পৌর কাউন্সিলর দুলাল হোসেন নিজের দায় অস্বীকার করে জানান, তিনি শৌচাগার থেকে ফিরে এসে মারামারি দেখতে পান এবং এর সূত্রপাত সম্পর্কে কিছু জানেন না।

এদিকে, সংঘর্ষের পর আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের অবরুদ্ধ করার যে গুঞ্জন উঠেছিল, তা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক। তবে খোদ সমিতি ভবনের ভেতরে এমন সহিংস হামলার ঘটনায় সাধারণ আইনজীবীদের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আদালত প্রাঙ্গণে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

Related Articles

Back to top button