সাতক্ষীরায় বজ্রপাতে নারী আইনজীবী কামরুন নাহারের মর্মান্তিক মৃত্যু

সাতক্ষীরা: কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে সাতক্ষীরায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। আকস্মিক বজ্রপাতে কামরুন নাহার (৫০) নামের সাতক্ষীরা জেলা জজ কোর্টের এক পরিচিত নারী আইনজীবীর অকাল মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৮ মে) রাত আনুমানিক আটটার দিকে পৌর শহরের রাজারবাগান এলাকায় এই বেদনাদায়ক ঘটনা ঘটে। তার এই আকস্মিক মৃত্যুতে স্থানীয় আইনি অঙ্গন ও পরিচিতজনদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
যেভাবে ঘটল এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা
পারিবারিক সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনামতে, সোমবার রাতে সাতক্ষীরা অঞ্চলে হঠাৎ করেই তীব্র কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রবৃষ্টি শুরু হয়। এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেই কামরুন নাহার বাড়ির পাশের নিজস্ব আম বাগানে গিয়েছিলেন। ঝড়ের তীব্রতা কিছুটা কমে আসার পর বাগানের একজন কর্মচারী তাকে একটি গাছের নিচে নিথর ও অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
মরহুমার ভগ্নিপতি এবং সাতক্ষীরা বারের আইনজীবী ফাহিমুল হক কিসলু দুর্ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, “ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে সে বাগানে গিয়েছিল। কর্মচারীর কাছে খবর পেয়ে আমরা অত্যন্ত দ্রুততার সাথে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাই। কিন্তু ততক্ষণে সব শেষ হয়ে গেছে। চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (RMO) ডা. আবদুর রহমানও বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, হাসপাতালে আনার আগেই বজ্রপাতে ওই নারী আইনজীবীর মৃত্যু হয়েছিল।
ক্রীড়ামোদী পরিবারে শোকের মাতম
মৃত কামরুন নাহার পেশায় একজন আইনজীবী হওয়ার পাশাপাশি একটি ক্রীড়ামোদী পরিবারের সদস্য ছিলেন। তার স্বামী একরামুল ইসলাম লালু জেলা শহরের সাবেক পরিচিত ক্রিকেটার এবং বর্তমানে ‘ক্লেমন সাতক্ষীরা ক্রিকেট একাডেমি’র পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের একমাত্র সন্তান সাতক্ষীরা জেলা অনূর্ধ্ব-১৪ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক। এমন একটি সাজানো সংসারে এই দুর্ঘটনা এক অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে এনেছে।
জানাজা ও দাফন সম্পন্ন
শোকাহত পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার (১৯ মে) বাদ জোহর সাতক্ষীরা শহরের দারুস সালাম জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে মরহুমা আইনজীবী কামরুন নাহারের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে। সহকর্মীর এমন অকাল মৃত্যুতে সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতির সদস্যরাও গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।


