বিচারক ‘ম্যানেজের’ নামে ৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ, তদন্তে পিবিআই

ঢাকা: সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের ‘ম্যানেজ’ করে মামলার রায় নিজেদের পক্ষে এনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৫ কোটি ২১ লাখ টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে আবুল হাসেম নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী বার কাউন্সিলে অভিযোগ দেওয়ার পাশাপাশি শাহবাগ থানায় একটি প্রতারণা মামলা দায়ের করেছেন। আদালত মামলাটির তদন্তভার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দিয়েছেন।
প্রতারণার ছক ও বিপুল অর্থ আত্মসাৎ
রাজধানীর ফুলবাড়িয়ার সিটি প্লাজা মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এবং আদি বাংলা গার্মেন্টসের মালিক কে এম সোহেল এই গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। মঙ্গলবার (১৯ মে) হাই কোর্ট প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, সিটি প্লাজার বেজমেন্টে থাকা ৫৩১টি দোকানের বৈধতা নিয়ে সিটি করপোরেশনের সাথে দ্বন্দ্ব দেখা দিলে ব্যবসায়ীরা আইনি লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নেন। সে সময় মামলা পরিচালনার জন্য নিজেকে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী পরিচয় দিয়ে আবুল হাসেম চুক্তিবদ্ধ হন।
সোহেলের অভিযোগ, হাসেম তাকে মামলায় অ্যাডেড পার্টি (Added Party) করার কথা বলে প্রথমেই ৫০ লাখ টাকা নেন, কিন্তু তা করেননি। পরবর্তীতে আদালতের রায় নিজেদের পক্ষে আনতে বিভিন্ন স্তরে বিচারকদের ম্যানেজ করতে হবে— এমন ভুয়া অজুহাত দেখিয়ে বিভিন্ন ধাপে মোট ৫ কোটি ২১ লাখ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন হাসেম।
ভুয়া পরিচয় ও বিচারপতির খাস কামরায় প্রবেশের নাটক
বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের দাপ্তরিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, অভিযুক্ত আবুল হাসেম মূলত ঢাকা আইনজীবী সমিতির (ঢাকা বার) একজন সাধারণ সদস্য; তিনি সুপ্রিম কোর্টের কোনো নিবন্ধিত আইনজীবী নন।
ভুক্তভোগী সোহেল জানান, বিচারকদের সাথে কোনো অর্থনৈতিক লেনদেন হয়নি, বরং হাসেম তাদের নাম ভাঙিয়ে প্রতারণা করেছেন। এমনকি বিশ্বাস অর্জনের জন্য হাসেম একবার তাকে পেছনের দরজা দিয়ে এক বিচারপতির ফাঁকা খাস কামরায় নিয়ে গিয়ে চা খাইয়েছিলেন এবং দম্ভ করে বলেছিলেন, ওই কক্ষগুলো তার নিয়ন্ত্রণে। প্রতারণা বুঝতে পেরে পরবর্তীতে ব্যবসায়ীরা জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের (জয়নুল আবেদীন, প্রবীর নিয়োগী ও শিশির মনির) নিয়োগ দিয়ে নিজেদের আইনি লড়াই চালিয়ে রায় নিজেদের পক্ষে আনেন।
অভিযুক্তের অস্বীকার ও পাল্টা অভিযোগ
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আবুল হাসেম ৫ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন। তিনি উল্টো ব্যবসায়ী সোহেলের মামলার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, “সে কি মামলার বাদী না বিবাদী? তার তো কোনো পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নেই। তার থেকে আমি টাকা নেব কেন?”
নিজেকে ঢাকা বারের আইনজীবী হিসেবে স্বীকার করে হাসেম দাবি করেন, তিনি হাই কোর্টে কোনো মামলার কন্ট্রাক্ট নেননি। বিচারপতির কক্ষে নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি উল্টো ভুক্তভোগী সোহেলের বিরুদ্ধেই বিচারপতির কক্ষ থেকে “রায় চুরির” পাল্টা ও বিতর্কিত অভিযোগ তোলেন।



