ডিজিটাল কোর্ট ও ই-জুডিসিয়ারি: বিচার ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা জানালেন আইনমন্ত্রী

দেশের বিচার ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ ও ডিজিটাল রূপান্তরের লক্ষ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণের কথা জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, ডিজিটাল কোর্ট ব্যবস্থা চালু এবং বিচার প্রক্রিয়াকে সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ করতে সরকার ই-বেইলবন্ড ম্যানেজমেন্ট, ই-ফ্যামিলি কোর্ট, অনলাইন কজলিস্টসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে নেত্রকোনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালীর এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।

আইনমন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশের ৯টি জেলায় ই-বেইলবন্ড ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার চালু রয়েছে। এর মাধ্যমে অনলাইনে বেইলবন্ড দাখিল করা যাচ্ছে, ফলে আইনজীবী, কারা প্রশাসন এবং বিচারপ্রার্থীদের সময় ও ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমছে। পর্যায়ক্রমে এটি দেশের সব জেলায় সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

পারিবারিক বিরোধ নিষ্পত্তিকে সহজ করতে ইতোমধ্যে ২টি জেলায় ই-ফ্যামিলি কোর্ট চালু হয়েছে। এই ব্যবস্থায় মামলা দায়ের থেকে শুরু করে শুনানি পর্যন্ত সব কার্যক্রম অনলাইনে সম্পন্ন হচ্ছে, যা বিচার প্রক্রিয়াকে দ্রুততর ও কম ব্যয়বহুল করে তুলছে।

তিনি আরও জানান, দেশের অধস্তন ও উচ্চ আদালতের কজলিস্ট শতভাগ অনলাইনে নিয়ে আসা হয়েছে। এর ফলে বিচারপ্রার্থীরা ঘরে বসেই মামলার তারিখ ও অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে পারছেন।

এছাড়া দেশের সকল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে তথ্য ও সেবা কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এসব কেন্দ্র থেকে মামলার বর্তমান অবস্থা, পরবর্তী তারিখ এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াগত তথ্য সহজেই জানা যাচ্ছে।

বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থাকেও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ১০টি জেলার ১০২টি ইউনিয়নে মুসলিম বিবাহ আইন অনুযায়ী অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন কার্যক্রম চালু করার প্রস্তুতি চলছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে জালিয়াতি কমবে এবং সংশ্লিষ্ট মামলা হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিচার ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল কাঠামোয় রূপান্তরের লক্ষ্যে ‘ই-জুডিসিয়ারি’ শীর্ষক একটি বড় প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে কমিশনের পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পুনর্গঠনের কাজ চলছে।

এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে মামলা দায়ের, কেস ট্র্যাকিং, কজলিস্ট ব্যবস্থাপনা, নথি সংরক্ষণসহ বিচার সংক্রান্ত সব কার্যক্রম ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরিচালিত হবে। এতে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমবে এবং সেবা গ্রহণ আরও সহজ হবে।

আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার দ্রুত, স্বচ্ছ ও সাশ্রয়ী বিচার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গৃহীত পদক্ষেপগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হলে দেশের আদালতগুলোতে মামলার জট কমবে এবং জনগণ দ্রুত ন্যায়বিচার পাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এছাড়া বিচার ব্যবস্থার উন্নয়ন ও মামলার জট কমাতে জনগণের যেকোনো গঠনমূলক প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে বলেও তিনি জানান।

Related Articles

Back to top button