ঢাকা বার নির্বাচন: নীল প্যানেলের বিরুদ্ধে কারচুপির অভিযোগ

ঢাকা: ঢাকা আইনজীবী সমিতির (ঢাকা বার) ২০২৬-২০২৭ মেয়াদের কার্যকরী কমিটির সদ্য সমাপ্ত নির্বাচন ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। নির্বাচনে ২৩টি পদের সবকটিতে বিএনপি ও গণঅধিকার পরিষদ সমর্থিত ‘নীল প্যানেল’ নিরঙ্কুশ জয়লাভ করলেও, তাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক কারচুপি, জাল ভোট প্রদান এবং ‘ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের’ গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আইনি সেল ‘ন্যাশনাল লইয়ার্স অ্যালায়েন্স’ এই অভিযোগ তুলে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে যেসব সুনির্দিষ্ট অভিযোগ
শুক্রবার (১ মে) ন্যাশনাল লইয়ার্স অ্যালায়েন্সের মুখ্য সংগঠক অ্যাডভোকেট সাকিল আহমাদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই কারচুপির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। এনসিপির দাবি, গত ২৯ ও ৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের প্রতিটি স্তরেই পূর্বপরিকল্পিত অনিয়ম হয়েছে। তাদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন গঠন থেকে শুরু করে ভোটগ্রহণের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটি নীল প্যানেল একচেটিয়াভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে ফলাফল নিজেদের পক্ষে নিয়েছে।
সংগঠনটি তাদের বিজ্ঞপ্তিতে বেশ কয়েকটি বড় ধরনের অনিয়মের কথা তুলে ধরেছে:
- পরিকল্পিত জাল ভোট: সাধারণ ভোটারদের উপস্থিতি ছাড়াই আগেই জালিয়াতির মাধ্যমে ভোট প্রদান করা হয়েছে।
- বুথ টেম্পারিং ও জোরপূর্বক সিল: বুথের ভেতরে অবৈধভাবে প্রবেশ করে সাধারণ ভোটারদের ব্যালটে জোরপূর্বক সিল মারার মতো ঘটনা ঘটেছে।
- সবুজ প্যানেলের এজেন্টদের বহিষ্কার: ভোটকেন্দ্রে বিরোধী জোট অর্থাৎ জামায়াত ও এনসিপি সমর্থিত ‘সবুজ প্যানেল’-এর নির্বাচন কমিশনার ও এজেন্টদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া এবং কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে।
- যাচাই-বাছাইহীন ব্যালট প্রদান: নিয়মাবলির তোয়াক্কা না করে, কোনো প্রকার যাচাই-বাছাই ছাড়াই অবাধে ব্যালট পেপার বিতরণ করা হয়েছে।
জুলাই বিপ্লবের চেতনার সাথে বেইমানির অভিযোগ
বিবৃতিতে শুধু নির্বাচনী অনিয়মই নয়, বরং আদর্শিক বিচ্যুতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ন্যাশনাল লইয়ার্স অ্যালায়েন্স মন্তব্য করেছে, অতীতে দীর্ঘসময় স্বৈরাচারী শাসনের অধীনে নীল প্যানেল যে দমন-পীড়ন ও অধিকার হরণের শিকার হয়েছিল, আজ তারাই সেই একই কায়দায় নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করছে। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল মানুষের হারানো গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনা। কিন্তু বারের এই নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ আখ্যা দিয়ে তারা বলছে, এটি জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আত্মত্যাগের সাথে চরম বেইমানি।
সুষ্ঠু বিচার ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থার দাবি
বিবৃতির শেষাংশে ন্যাশনাল লইয়ার্স অ্যালায়েন্স অবিলম্বে এই নির্বাচনী জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে দেশের সর্ববৃহৎ এই আইনজীবী সমিতির ঐতিহ্য ও সম্মান রক্ষার্থে ভবিষ্যতে একটি সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্ত, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে তারা। প্রসঙ্গত, সদ্য সমাপ্ত এই নির্বাচনে ২৩টি পদের সবকটিতেই নীল প্যানেল জয়ী হওয়ায় সবুজ প্যানেল কোনো পদেই নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করতে পারেনি।



