রিট পিটিশনের ফাইল ‘গায়েব’ অভিযোগ: অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের কর্মচারী আটক

একটি গুরুত্বপূর্ণ রিট পিটিশনের ফাইল আদালতে যথাসময়ে উপস্থাপন না করে ‘গায়েব’ রাখার অভিযোগে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের এক কর্মচারীকে আটক করেছে পুলিশ। ঘটনাটি বিচার অঙ্গনে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

আটক ব্যক্তির নাম মো. ইমরান হোসেন, যিনি অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে শাহবাগ থানা পুলিশ তাকে আটক করে।

শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কে এম রেজাউল করিম জানান, অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তার ভিত্তিতে নিয়মিত ফৌজদারি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, এনটিআরসিএ সংশ্লিষ্ট ৪৩৫২/২০২৬ নম্বর রিট পিটিশনটি গত ১৩ এপ্রিল অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে গ্রহণ করা হয়। পরদিন ১৫ এপ্রিল হাইকোর্টের ‘বিজয়-৭১’ ভবনের ১ নম্বর কোর্টে মামলাটি শুনানির জন্য নির্ধারিত ছিল।

নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সরকারি আইনজীবীর কাছে পৌঁছে দেওয়ার কথা থাকলেও অভিযুক্ত কর্মচারী তা করেননি। ফলে প্রয়োজনীয় ফাইল না থাকায় রাষ্ট্রপক্ষের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খন্দকার বাহার রুমি আদালতে সরকারের পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারেননি।

ফাইল ছাড়াই শুনানি শেষে আদালত রাষ্ট্রপক্ষের বিরুদ্ধে আদেশ প্রদান করে, যা ঘটনাটিকে আরও গুরুতর করে তোলে।

চাঞ্চল্যকরভাবে, পরদিন ১৬ এপ্রিল অভিযুক্ত ইমরান হোসেন ওই ফাইল নিয়ে আদালতে হাজির হন, যা সন্দেহের সৃষ্টি করে।

ঘটনার পর অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলে তিনি বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিনের দায়ের করা অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে অভিযুক্ত ব্যক্তি কোনো প্রলোভনে পড়ে বা সংঘবদ্ধ চক্রের হয়ে রাষ্ট্রীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে কাজ করেছেন।

এতে আরও বলা হয়, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’ অনুযায়ী গুরুতর অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত।

পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আইন অঙ্গনের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ঘটনাটি বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে এবং দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন জরুরি।

Related Articles

Back to top button