স্ত্রীর সাথে দাম্পত্য বিরোধ বা পৃথক বসবাসের অজুহাতে নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ বন্ধ করা যাবে না: হাইকোর্টের দ্ব্যর্থহীন রায়
⚖️ মামলার সারসংক্ষেপ ও চূড়ান্ত আইনি সিদ্ধান্ত
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত: মুসলিম আইন ও পারিবারিক আদালত আইন, ২০২৩ এর সুস্পষ্ট বিধান অনুসারে, নাবালক সন্তানের লালন-পালন, খাদ্য, বস্ত্র, শিক্ষা ও চিকিৎসার যাবতীয় ভরণপোষণ (Child Maintenance) প্রদান করা পিতার একটি নিঃশর্ত, পরম ও আইনগত বাধ্যবাধকতা। পিতামাতার মধ্যে দাম্পত্য কলহ, বিচ্ছেদ বা স্ত্রী কর্তৃক স্বেচ্ছায় স্বামীর গৃহ ত্যাগ করে নাবালক সন্তানকে সাথে নিয়ে বাবার বাড়িতে পৃথক বসবাস করার অজুহাতে কোনো পিতা সন্তানের ভরণপোষণ বন্ধ রাখতে পারেন না। সন্তানের ভরণপোষণের অধিকার কোনো অবস্থাতেই স্ত্রীর চারিত্রিক অভিযোগ বা পৃথক বসবাসের বৈধতার ওপর নির্ভরশীল নয়। পিতা আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান হলে সন্তানের জীবনযাত্রার মান ও পড়াশোনার ব্যয় বিবেচনায় সম্মানজনক মাসিক খোরপোশ প্রদানে আদালত ডিক্রি দিতে সম্পূর্ণ এখতিয়ারবান।
রাজশাহী জেলার পারিবারিক আদালতে এক মা তার ৪ বছর বয়সী নাবালক পুত্রের জন্য মাসিক ১০ হাজার টাকা ভরণপোষণ দাবি করে মোকদ্দমা দায়ের করেন। বিবাদী পিতা আদালতে জবাব দাখিল করে দাবি করেন যে স্ত্রী নিজে অবাধ্য হয়ে স্বামীর সংসার ত্যাগ করেছেন এবং সন্তানকে জোরপূর্বক আটকে রেখেছেন, কাজেই সন্তানকে পিতার হেফাজতে না দেওয়া পর্যন্ত কোনো ভরণপোষণ তিনি দেবেন না। সহকারী জজ পারিবারিক আদালত পিতার এই যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে সন্তানের জন্য মাসিক ৮ হাজার টাকা খোরপোশ প্রদানের আদেশ দেন। পিতা জেলা জজ আদালতে আপিল করে ব্যর্থ হয়ে হাইকোর্টে রিভিশন দায়ের করেন।
মহামান্য বিচারপতি মোঃ সোহরাওয়ার্দী সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহ্যবাহী নজির 49 DLR (AD) 172 এবং 21 BLC (AD) 115 আলোচনা করে বলেন:
হাইকোর্ট পিতার রিভিশন সরাসরি খারিজ করেন এবং প্রতি মাসের ৭ তারিখের মধ্যে বিকাশে বা ব্যাংকে সন্তানের খোরপোশ জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
