সন্তানের হেফাজত ও জিম্মাদারি নির্ধারণে পিতার চেয়ে সন্তানের শারীরিক ও মানসিক কল্যাণই প্রধান বিবেচ্য: হাইকোর্ট বিভাগের যুগান্তকারী রায়
⚖️ মামলার সারসংক্ষেপ ও চূড়ান্ত আইনি সিদ্ধান্ত
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত: অভিভাবক ও প্রতিপাল্য আইন, ১৮৯০ (Guardians and Wards Act) এর ১৭ ও ২৫ ধারার অধীনে নাবালক সন্তানের কাস্টডি বা জিম্মাদারি নির্ধারণকালে পিতা ও মাতার আর্থিক শ্রেষ্ঠত্ব বা ব্যক্তিগত অহমিকাকে অগ্রাধিকার না দিয়ে ‘সন্তানের সর্বোচ্চ কল্যাণ’ (Paramount Welfare of the Minor Child)-কে একমাত্র বিচার্য মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। ৭ বছর পার হলেও যদি কন্যা সন্তান মায়ের স্নেহে একটি সুস্থ ও স্বাভাবিক পারিবারিক পরিবেশে বড় হয়ে থাকে এবং মা চিকিৎসাবিদ্যা বা উচ্চশিক্ষায় প্রতিষ্ঠিত হন, তবে কেবল ধর্মীয় নিয়মে বয়ঃসন্ধির অজুহাতে কন্যাকে মায়ের কোল থেকে বিচ্ছিন্ন করে পিতার দ্বিতীয় স্ত্রীর সংসারে ঠেলে দেওয়া শিশুর মানসিক বিকাশ ও শারীরিক নিরাপত্তার সম্পূর্ণ পরিপন্থি। পিতা নিয়মিত সাক্ষাৎকারের অধিকার (Visitation Rights) পেলেও শারীরিক হেফাজত মায়ের কাছেই থাকবে।
ঢাকার ধানমন্ডি এলাকার দুই চিকিৎসকের বিবাহ বিচ্ছেদের পর তাদের ৮ বছর বয়সী কন্যাসন্তানের হেফাজত নিয়ে পিতা পারিবারিক আদালতে মামলা দায়ের করেন। পিতা দাবি করেন যে মুসলিম হানাফি আইন অনুযায়ী কন্যা সন্তান ৭ বছর পার হলে পিতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার প্রাকৃতিক অভিভাবক হিসেবে হেফাজত পাওয়ার অধিকারী। মা যুক্তি দেন যে পিতা ইতিমধ্যে দ্বিতীয় বিবাহ করেছেন এবং সেখানে নতুন সন্তান রয়েছে; সৎ মায়ের সংসারে কন্যা সন্তানের মানসিক ক্ষতি হবে। জেলা জজ আদালত মায়ের অনুকূলে হেফাজত বহাল রাখলে পিতা হাইকোর্টে আসেন।
মাননীয় বিচারপতি কাশেফা হোসেন ও বিচারপতি কাজী ওয়ালী আহমেদ আপিল বিভাগের যুগান্তকারী নজির 50 DLR (AD) 55 এবং Abu Baker Siddique v. Must. Ayesha Guha (38 DLR (AD) 106) বিশ্লেষণ করে বলেন:
হাইকোর্ট বাবার আবেদন খারিজ করে মায়ের হেফাজত পূর্ণ বহাল রাখেন এবং বাবাকে মাসে দুইবার সাক্ষাৎ ও কন্যার পড়াশোনার খরচ বহনের আদেশ দেন।
