অর্থ ঋণ আদালতের নিলাম বিজ্ঞপ্তিতে বহুল প্রচারিত জাতীয় দৈনিকে প্রচার বাধ্যতামূলক, গোপন বা নামকাওয়াস্তে নিলাম অবৈধ: হাইকোর্টের রায়
⚖️ মামলার সারসংক্ষেপ ও চূড়ান্ত আইনি সিদ্ধান্ত
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত: অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩ এর ৩৩ ধারায় বর্ণিত নিলাম বিক্রয় প্রক্রিয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো বন্ধকীকৃত সম্পত্তির প্রকৃত বাজারমূল্য উদ্ধার করে ব্যাংকের পাওনা সমন্বয় করা এবং ঋণগ্রহীতার ইক্যুইটি সুরক্ষা দেওয়া। আইনের ৩৩(১) ধারার আদেশসূচক বিধান অনুযায়ী নিলাম বিজ্ঞপ্তি অবশ্যই অন্তত একটি বহুল প্রচারিত জাতীয় বাংলা দৈনিকে যথাযথ তফসিল ও মূল্যসহ বিজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করতে হবে। কোনো নামসর্বস্ব, প্রচারহীন স্থানীয় পত্রিকায় অথবা গোপন আঁতাতের মাধ্যমে দায়সারা বিজ্ঞপ্তি দিয়ে কোটি টাকার সম্পত্তি পানির দরে কোনো বিশেষ ব্যক্তির নিকট নিলামে বিক্রি করে ৩৩(৫) বা ৩৩(৭) ধারায় সনদ প্রদান করা আইনের দৃষ্টিতে সুস্পষ্ট জালিয়াতি ও বাতিলযোগ্য। এইরূপ ত্রুটিপূর্ণ নিলাম সম্পূর্ণ বাতিল ঘোষণা করে নতুন করে স্বচ্ছ নিলাম আয়োজনের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।
অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি ঢাকার একটি কারখানার বন্ধকি জমি অর্থ ঋণ আদালতের জারি মোকদ্দমায় নিলাম বিক্রয়ের উদ্যোগ নেয়। কারখানার বাজারমূল্য ছিল প্রায় ১০ কোটি টাকা। কিন্তু ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ঢাকার অপ্রচলিত একটি অখ্যাত পত্রিকায় দায়সারাভাবে ছোট আকারে নিলামের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে মাত্র ২ কোটি টাকায় জমিটি ব্যাংকের পছন্দের একজন ক্রেতার নিকট নিলাম অনুমোদন করিয়ে নেয়। ঋণগ্রহীতা বিষয়টি জানার পর অর্থ ঋণ আদালতে আবেদন করে প্রতিকার না পেয়ে মহামান্য হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।
মহামান্য বিচারপতি মোঃ ইকবাল কবির ও বিচারপতি সরদার মোঃ রাশেদ জাহাঙ্গীর সুপ্রিম কোর্টের রায় 57 DLR (AD) 160 এবং 20 BLC (AD) 120 উদ্ধৃত করে বলেন:
হাইকোর্ট উক্ত নিলাম ও বিক্রয় সনদ সরাসরি বাতিল করেন এবং শীর্ষ দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে পুনরায় স্বচ্ছ নিলাম অনুষ্ঠানের নির্দেশ দেন।
