নোটারি পাবলিকের নোটিশবিহীন হলফনামা তালাক সম্পূর্ণ অবৈধ, স্ত্রীর বকেয়া খোরপোশ ও মোহরানা প্রদানে বাধ্য স্বামী: সুপ্রিম কোর্টের রায়
⚖️ মামলার সারসংক্ষেপ ও চূড়ান্ত আইনি সিদ্ধান্ত
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত: ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের (MFLO) ৭(১) ধারার বিধানমতে, স্বামী বা স্ত্রী যে কোনো পক্ষ কর্তৃক তালাক উচ্চারণের পরপরই সংশ্লিষ্ট স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র বরাবর লিখিত নোটিশ প্রেরণ করা এবং অপর পক্ষকে তার অনুলিপি রেজিস্ট্রি ডাকে পাঠানো একটি বাধ্যতামূলক সাংবিধিবদ্ধ পূর্বশর্ত। কেবল নোটারি পাবলিকের নিকট সম্পাদিত একতরফা এফিডেভিট বা হলফনামা (Notarized Affidavit of Talaq) প্রস্তুত করে পকেটে রেখে দিলে বা চেয়ারম্যানকে নোটিশ না দিয়ে গোপনে স্ত্রীকে বাড়ি থেকে বের করে দিলে তা আইনের চোখে তালাক হিসেবে গণ্য হবে না। এরূপ হলফনামা আইনিভাবে সম্পূর্ণ অকার্যকর (Void and inoperative)। চেয়ারম্যানের নোটিশ ও ৯০ দিনের আপস প্রক্রিয়ার ব্যত্যয় ঘটলে বিবাহ আইনত বলবৎ থাকে এবং স্ত্রী বিয়ের বৈধ অধিকার অনুযায়ী নিয়মিত বকেয়া ও ভবিষ্যৎ ভরণপোষণ এবং পূর্ণ দেনমোহর পাওয়ার অধিকারী।
ঝিনাইদহ জেলার পারিবারিক আদালতে মোছাঃ রোজিনা খাতুন তার স্বামী মোঃ এনামুল হকের বিরুদ্ধে বকেয়া ভরণপোষণ ও সন্তানের খরচের দাবিতে মোকদ্দমা দায়ের করেন। স্বামী আদালতে হাজির হয়ে দাবি করেন যে তিনি বিগত দুই বছর আগেই নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে হলফনামা সম্পাদন করে স্ত্রীকে তালাক প্রদান করেছেন, ফলে তিনি কোনো ভরণপোষণ দিতে বাধ্য নন। তবে জেরায় স্বামী স্বীকার করেন যে তিনি ইউপি চেয়ারম্যানের নিকট কোনো নোটিশ পাঠাননি। পারিবারিক আদালত স্বামীর তালাকের দাবি বাতিল করে স্ত্রীর বকেয়া ভরণপোষণ মঞ্জুর করেন। জেলা জজ আদালতও তা বহাল রাখলে স্বামী হাইকোর্টে রিভিশন দায়ের করেন।
মহামান্য বিচারপতি মোঃ রিয়াজ উদ্দিন খান আপিল বিভাগের যুগান্তকারী রায় Syed Ali Nawaz Gardezi v. Lt. Col. Muhammad Yusuf (15 DLR (SC) 9) এবং আমাদের সুপ্রিম কোর্টের 48 DLR 305 উল্লেখ করে রায় দেন:
হাইকোর্ট স্বামীর রিভিশন খারিজ করে স্ত্রীর অনুকূলে পারিবারিক আদালতের বকেয়া ও চলতি ভরণপোষণের ডিক্রি পূর্ণ বহাল রাখেন।
