দেনমোহর পরিশোধের মৌখিক দাবি বা অপ্রমাণিত সালিশনামা আদালতে অচল, লিখিত রসিদ ছাড়া দেনমোহর দায়মুক্ত নয়: হাইকোর্টের রায়
⚖️ মামলার সারসংক্ষেপ ও চূড়ান্ত আইনি সিদ্ধান্ত
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত: মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইনের অধীনে রেজিস্ট্রিকৃত নিকাহনামা (কাবিননামা) একটি অত্যন্ত পবিত্র সংবিধিবদ্ধ সরকারি দলিল (Public Document)। সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ৯১ ও ৯২ ধারার মৌলিক অনুশাসন অনুযায়ী, কোনো লিখিত ও রেজিস্ট্রিকৃত চুক্তির শর্তাবলীর বিপরীতে মৌখিক সাক্ষ্য দ্বারা তা পরিবর্তন বা দায়মুক্তির দাবি আইনত সম্পূর্ণ বারিত (Inadmissible in Law)। কাবিননামায় নির্ধারিত দেনমোহর পরিশোধের স্বপক্ষে যদি স্বামীর অনুকূলে কোনো বৈধ ব্যাংকিং লেনদেন, পে-অর্ডার বা স্ত্রীর নিজ স্বাক্ষরিত সুস্পষ্ট লিখিত রসিদ না থাকে, তবে আত্মীয়স্বজনের মৌখিক দাবি বা কোনো একতরফা সামাজিক সালিশনামার কাগজ দাখিল করে দেনমোহর খালাসের আবেদন সরাসরি অগ্রাহ্য হবে। স্বামীকে কাবিননামার পূর্ণ মোহরানা পরিশোধ করতেই হবে।
টাঙ্গাইল জেলার পারিবারিক আদালতে মোছাঃ শাহনাজ পারভীন তার সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে কাবিননামায় লিখিত ১০ লাখ টাকার বকেয়া দেনমোহর দাবি করে মামলা দায়ের করেন। স্বামী আদালতে লিখিত আপত্তিতে দাবি করেন যে তালাকের পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি ঘরোয়া সালিশে নগদ ২ লাখ টাকা ও কিছু স্বর্ণালংকার দিয়ে দেনমোহরের বিষয় সম্পূর্ণ মিটিয়ে ফেলা হয়েছিল এবং স্ত্রী মৌখিকভাবে বাকি দেনমোহর মাফ করে দিয়েছেন।
পারিবারিক আদালত ও আপিল আদালত উভয়ই উক্ত মৌখিক খালাসের দাবি প্রত্যাখ্যান করে পূর্ণ ১০ লাখ টাকার ডিক্রি প্রদান করেন। সংক্ষুব্ধ স্বামী হাইকোর্টে রিভিশন দায়ের করেন।
মহামান্য বিচারপতি আব্দুর রহমান সুপ্রিম কোর্টের নজির 52 DLR (AD) 85 এবং 18 BLC 412 উল্লেখ করে বলেন:
হাইকোর্ট রিভিশন সরাসরি খারিজ করেন এবং স্বামীর ওপর ১০ হাজার টাকা প্রতীকী খরচসহ কাবিনের সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধের নির্দেশ বহাল রাখেন।
