প্রতিষ্ঠিত জালিয়াতির অকাট্য প্রমাণ ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি ও এলসি পেমেন্টে আদালতের নিষেধাজ্ঞা প্রদান সম্পূর্ণ বেআইনি: সুপ্রিম কোর্টের রায়
⚖️ মামলার সারসংক্ষেপ ও চূড়ান্ত আইনি সিদ্ধান্ত
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত: আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং ব্যাংকিং আইনে ব্যাংক গ্যারান্টি (Bank Guarantee) ও লেটার অব ক্রেডিট (Letter of Credit) মূল বাণিজ্যিক চুক্তি থেকে সম্পূর্ণ পৃথক, স্বয়ংসম্পূর্ণ ও স্বাধীন একটি চুক্তি (Independent Autonomous Contract)। চুক্তির মূল পক্ষদ্বয়ের মধ্যে পণ্য সরবরাহের মান বা সময় নিয়ে যে কোনো বিরোধ থাকলেও ব্যাংক গ্যারান্টি দাবিমাত্র পরিশোধ করতে ব্যাংক আইনত বাধ্য। আদালত শুধুমাত্র দুটি ক্ষেত্রে ব্যাংক গ্যারান্টি নগদায়নে অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা প্রদান করতে পারে—(১) যদি ব্যাংকের অবগতিতে অকাট্য ও প্রতিষ্ঠিত জালিয়াতি (Clear Case of Established Fraud) প্রমাণিত হয়, অথবা (২) নিষেধাজ্ঞা না দিলে অপূরণীয় বিশেষ অবিচার (Irretrievable Injustice) সংঘটিত হবে। নিছক চুক্তিভঙ্গের অভিযোগ এনে দেওয়ানি আদালতের মাধ্যমে ব্যাংক গ্যারান্টি বা এলসির অর্থ আটকে দেওয়া আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ব্যাংকিং শৃঙ্খলার পরিপন্থি।
একটি তৈরি পোশাক কারখানা বিদেশি বায়ারের অনুকূলে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক পিএলসির মাধ্যমে ২০ কোটি টাকার আনকন্ডিশনাল পারফরম্যান্স ব্যাংক গ্যারান্টি প্রদান করে। বায়ার নির্দিষ্ট সময়ে মালামাল না পেয়ে ব্যাংক গ্যারান্টি এনক্যাশ করার আবেদন জানায়। পোশাক কারখানাটি ঢাকার যুগ্ম জেলা জজ আদালতে মানি স্যুট দায়ের করে দাবি করে যে বায়ার নিজে শর্ত লঙ্ঘন করেছে এবং সিপিসির ৩৯ আদেশে ব্যাংক গ্যারান্টির টাকা ছাড়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রার্থনা করে। ট্রায়াল আদালত অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা প্রদান করলে ব্যাংক হাইকোর্টে প্রথম বিবিধ আপিল (FMA) দায়ের করে।
মহামান্য বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান ও বিচারপতি তামান্না রহমান খালিদী আপিল বিভাগের নজির 49 DLR (AD) 255 এবং U.P. State Sugar Corporation v. Sumac International ((1997) 1 SCC 568) আলোচনা করেন:
হাইকোর্ট ট্রায়াল আদালতের নিষেধাজ্ঞার আদেশ সরাসরি বাতিল ঘোষণা করেন এবং ব্যাংককে গ্যারান্টির টাকা ছাড়ের পূর্ণ অনুমতি দেন।
