আইনজীবী, বিচারক, বার কাউন্সিল ও বিজেএস পরীক্ষার্থী এবং সচেতন নাগরিকদের জন্য বাংলাদেশের নির্ভরযোগ্য, প্রামাণ্য ও প্রায়োগিক আইন বইসমূহের গভীর পর্যালোচনা, রেটিং ও সংগ্রহ নির্দেশিকা।
বিচারপতি ছিদ্দিকুর রহমান মিয়ার লেখা "অগ্রক্রয় আইন" একটি অত্যন্ত গভীর, নির্ভরযোগ্য ও প্রায়োগিক গ্রন্থ। বাংলাদেশে জমিজমার ক্রয়-বিক্রয়ে অংশীদার (Co-sharer) এবং সংলগ্ন জমির মালিকের অগ্রক্রয়ের আইনি অধিকার (Pre-emption Right), প্রজাস্বত্ব আইন ১৯৫০ এর ধারা ৯৬ এর প্রয়োগ, মামলা দায়েরের নিয়ম ও সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ নজিরসমূহ এতে প্রাঞ্জলভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।
ব্যারিস্টার মোঃ আব্দুল হালিমের রচিত "সাক্ষ্য আইন: তত্ত্ব এবং বিশ্লেষণ" গ্রন্থে সাক্ষ্য আইন ১৮৭২ (Evidence Act, 1872) এর তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক দিকগুলোকে চমৎকারভাবে উন্মোচন করা হয়েছে। আদালতে সাক্ষ্যের গ্রহণযোগ্যতা, প্রাসঙ্গিকতা, ডিজিটাল এভিডেন্স এবং বিচার প্রক্রিয়ায় সাক্ষীর প্রমাণের দায় অত্যন্ত গভীরতার সাথে আলোচিত।
বিবেকানন্দ সরকারের "জমিজমার খতিয়ান এবং কবলা স্বত্ত্ব" বাংলাদেশের ভূমি সংক্রান্ত দলিলের সবচেয়ে তথ্যবহুল ও জনপ্রিয় ব্যবহারিক গ্রন্থ। সিএস, এসএ, আরএস থেকে শুরু করে বিএস ও সিটি জরিপের খতিয়ান চেনা, দলিলের প্রকারভেদ ও মালিকানা স্বত্ব যাচাইয়ের প্রতিটি ধাপ এতে বিশদভাবে বর্ণিত।
বিচারপতি মোঃ হামিদুল হকের "বিচার প্রক্রিয়া: দেওয়ানী ও ফৌজদারী" বাংলাদেশের আইন সাহিত্যের এক অনন্য মাস্টারপিস। দেওয়ানি কার্যবিধি (CPC 1908) এবং ফৌজদারি কার্যবিধি (CrPC 1898) অনুযায়ী মামলা দায়ের থেকে শুরু করে রায় কার্যকর ও আপিল পর্যন্ত বিচার প্রক্রিয়ার প্রতিটি খুঁটিনাটি পদক্ষেপ এই গ্রন্থে সুবিন্যস্ত।
গাজী শামছুর রহমানের রচিত "ফারায়েজ আইন" মুসলিম পারিবারিক আইনের অন্যতম জটিল বিষয় ‘উত্তরাধিকার বণ্টন’কে সহজতম উপায়ে সমাধান করার একটি ক্লাসিক গ্রন্থ। কোরআন ও সুন্নাহর বিধানের পাশাপাশি গাণিতিক সমাধান ও বাংলাদেশের আইনি কাঠামোর চমৎকার সমন্বয় ঘটেছে এই বইয়ে।
ফৌজদারি মামলা পরিচালনার প্রারম্ভিক স্তরগুলোকে নিখুঁতভাবে ব্যাখ্যা করেছে বিচারপতি ছিদ্দিকুর রহমান মিয়ার গ্রন্থ "এজাহার, তদন্ত, তল্লাশি ও গ্রেফতার"। এফআইআর দায়ের, পুলিশ কর্মকর্তার তদন্তের পরিধি, বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার ও রিমান্ডের সাংবিধানিক সুরক্ষা নিয়ে এটি এক প্রামাণ্য দলিল।
আরিফ খানের "সহজ ভাষায় বাংলাদেশের সংবিধান" গ্রন্থটি সংবিধানের গুরুগম্ভীর ভাষাকে সাধারণ মানুষের উপযোগী করে তোলার এক চমৎকার প্রয়াস। রাষ্ট্র পরিচালনা, মৌলিক অধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং নাগরিকের অধিকারসমূহ অত্যন্ত সহজ-সরল বাংলায় এতে তুলে ধরা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলের রচিত "মানবাধিকার" গ্রন্থটি বৈশ্বিক ও জাতীয় প্রেক্ষাপটে নাগরিকের মানবিক মর্যাদার সুরক্ষা বিষয়ক এক প্রামাণ্য রচনা। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদের তাত্ত্বিক বিকাশ থেকে শুরু করে বাংলাদেশে মানবাধিকারের বাস্তব চিত্র এতে তীব্র অন্তর্দৃষ্টির সাথে উঠে এসেছে।
আবদুল্লাহ আল মামুন সংকলিত "লিগ্যাম প্রশ্নব্যাংক" জুডিশিয়াল সার্ভিস (BJS) এবং বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট পরীক্ষার জন্য অন্যতম সেরা সহায়ক গ্রন্থ। বিগত বছরের প্রশ্নপত্রসমূহকে বিষয়ভিত্তিক সাজিয়ে নির্ভুল ব্যাখ্যা ও রেফারেন্স সহকারে উপস্থাপন করায় এটি পরীক্ষার্থীদের আস্থার প্রতীক।
মুরাদ মোর্শেদের "আইনের ধারাপাত" সাধারণ মানুষের জন্য আইনের এক অনবদ্য বর্ণমালা। আইনের খটমট ভাষা ও আদালতের জটিল পদ্ধতিকে ভয় পাওয়া সাধারণ নাগরিকদের জন্য এটি আইনের সহজ পাঠ, যা প্রতিদিনের জীবনে প্রয়োজনীয় আইনি সুরক্ষা তুলে ধরে।
মোঃ জাহাঙ্গীর আলমের"আইন পাঠ (এমসিকিউ) ভলিউম-১" বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট ও বিজেএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার একটি সম্পূর্ণ গাইডবুক। দেওয়ানি কার্যবিধি, সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ও তামাদি আইনের প্রতিটি ধারার সম্ভাব্য এমসিকিউ এতে সুবিন্যস্ত।
আইন প্রকাশ সম্পূর্ণ অলাভজনক ও উন্মুক্ত। অসহায় মানুষের বিনামূল্যে আইনি সহায়তা ও শিক্ষার্থীদের ২৫,০০০+ প্রশ্নব্যাংক চালু রাখতে আপনার এক কাপ কফির মূল্যের অনুদানও আমাদের অনেক বড় অনুপ্রেরণা!