চেক ডিজঅনার মামলায় সাজার বিরুদ্ধে আপিল করতে হলে ৫০ ভাগ টাকা জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক: হাইকোর্টের আইনি ব্যাখ্যা
⚖️ মামলার সারসংক্ষেপ ও চূড়ান্ত আইনি সিদ্ধান্ত
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত: নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১ এর ১৩৮এ ধারার সুস্পষ্ট বিধান অনুসারে, বিচারিক ট্রায়াল আদালত কর্তৃক ১৩৮ ধারায় প্রদত্ত কোনো দণ্ডাদেশ বা জরিমানার রায়ের বিরুদ্ধে দায়রা জজ আদালত বা হাইকোর্ট বিভাগে ফৌজদারি আপিল দায়ের করতে হলে জরিমানাকৃত অর্থের নূন্যতম ৫০% (পঞ্চাশ শতাংশ) অর্থ নগদে বা পে-অর্ডারের মাধ্যমে বিচারিক আদালতে জমা প্রদানের প্রমাণপত্র (Challan Receipt) দাখিল করা আপিল আদালতের জন্য একটি অলঙ্ঘনীয় আইনি পূর্বশর্ত। ৫০% টাকা জমা প্রদান ব্যতীত কোনো দায়রা আদালত সরাসরি আপিল গ্রহণ বা সাজা স্থগিতাদেশ (Stay of Execution) প্রদান করতে পারেন না। যদি কোনো আদালত ভুলবশত অর্থ জমা ছাড়াই আপিল গ্রহণ করেন, তবে হাইকোর্ট বিভাগ রিভিশন শুনানিকালে আসামিকে অর্থ জমাদানের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সময়সীমা বেঁধে দেবেন, অন্যথায় আপিল সরাসরি বাতিল বলে গণ্য হবে।
যমুনা ব্যাংক পিএলসি ঢাকার গুলশান শাখার অনুকূলে ইস্যুকৃত ৩০ লাখ টাকার একটি চেকে যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালত আসামিকে ১ বছরের কারাদণ্ড এবং ৩০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। দণ্ডিত আসামি ৫০% টাকা জমা দেওয়ার আর্থিক সঙ্গতি না থাকার অজুহাত দেখিয়ে মহানগর দায়রা জজ আদালতে সরাসরি আপিল দায়ের করেন এবং আপিল আদালত মানবিক কারণে ৫০% অর্থ জমা ছাড়াই আপিলটি গ্রহণ করে সাজার ওপর স্থগিতাদেশ দেন। সংক্ষুব্ধ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিভিশন দায়ের করে।
মহামান্য বিচারপতি ইউসুফ আব্দুল্লাহ সুমন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায় 65 DLR (AD) 140 উল্লেখ করে রায় দেন:
হাইকোর্ট বিভাগ আসামিকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে ৫০% অর্থ (১৫ লাখ টাকা) ট্রায়াল কোর্টের ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে জমা দেওয়ার চূড়ান্ত নির্দেশ দেন; ব্যর্থতায় আপিল খারিজ ও আসামিকে গ্রেফতারে পরোয়ানা কার্যকরের আদেশ দেওয়া হয়।
