মামলা বিচারাধীন অবস্থায় বেআইনি দখলচ্যুতি ও সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৮ ধারায় খাস দখল উদ্ধার: হাইকোর্টের নির্দেশ
আইনি মূলনীতি: বিচারাধীন অবস্থায় দখলচ্যুতি ও আদালতের মাধ্যমে খাস দখল প্রত্যাবর্তন
সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন (Specific Relief Act), ১৮৭৭-এর ৮ ধারা অনুযায়ী মূল স্বত্বের (Title) ভিত্তিতে এবং ৯ ধারা অনুযায়ী স্বত্ব প্রমাণ ছাড়াই শুধুমাত্র বেআইনি উচ্ছেদের বিরুদ্ধে ৬ মাসের মধ্যে খাস দখল পাওয়ার মামলা করা যায়। তবে দেওয়ানি আদালতে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় বিবাদী যদি বলপ্রয়োগ করে বাদীকে দখলচ্যুত করে, তবে আদালত মূল আরজি সংশোধন (Amendment of Plaint) করে ৮ ধারার অধীনে খাস দখল উদ্ধারের ডিক্রি প্রদান করতে পারেন। গায়ের জোরে দখল নিয়ে কেউ আইনি সুবিধা পেতে পারে না।
১. মামলার পরিচিতি ও বেঞ্চ
মহামান্য বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের দেওয়ানি রিভিশন বেঞ্চে রায় প্রদান করেন মাননীয় বিচারপতি মো. সোহ্রাওয়ার্দী (Mr. Justice Md. Shohrowardi)। ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের দেওয়ানি মামলা ও জেলা জজ আদালতের আপিল আদেশের বিরুদ্ধে পিটিশনার মো. এখলাছ উদ্দিন রিভিশন দায়ের করেছিলেন।
২. বিরোধের পটভূমি ও মূল ঘটনা
বাদীর দাতা ১৯৯৭ সালে রেজিস্ট্রি দলিলের মাধ্যমে সিএস ও বিআরএস খতিয়ানের জমি ক্রয় করে বাদীর অনুকূলে হস্তান্তর করেন। বাদী উক্ত জমিতে শান্তিপূর্ণ দখলে থাকা অবস্থায় বিবাদীপক্ষ জমি জবরদখলের হুমকি দিলে সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে স্বত্ব বজায় রেখে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার (Title Suit No. 150 of 2017) মামলা দায়ের করেন। মামলাটিতে যখন চূড়ান্ত শুনানির দিন ধার্য ছিল, তখন বিবাদীপক্ষ দলবল নিয়ে এসে বাদীর ঘরবাড়ি ভেঙে বাদীকে জমি থেকে বলপূর্বক বেদখল করে দেয়। বাদী তাৎক্ষণিকভাবে আরজি সংশোধন করে বেদখলের ঘটনা অন্তর্ভুক্ত করেন এবং স্বত্ব ঘোষণা সহ খাস দখল উদ্ধারের প্রার্থনা জানান।
৩. হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ ও সিদ্ধান্ত
মাননীয় বিচারপতি সোহ্রাওয়ার্দী সাক্ষ্য-প্রমাণ পরীক্ষা করে দেখেন যে, মামলার দাখিলের সময় বাদী জমিতে সশরীরে দখলে ছিলেন এবং বিচারাধীন অবস্থায় তাকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করা হয়েছে। আদালত পর্যবেক্ষণ করেন যে, বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা না রেখে যারা আদালতের চোখকে ফাঁকি দিয়ে পেশিশক্তির মাধ্যমে দখল পরিবর্তন করে, আদালত তাদের কোনো সুবিধা দিতে পারেন না। রেজিস্ট্রি দলিল ও ধারাবাহিক চেইনের ভিত্তিতে বাদীর স্বত্ব সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিবাদীকে জমি থেকে উচ্ছেদ করে বাদীর অনুকূলে খাস দখল বুঝিয়ে দেওয়ার আদেশই একমাত্র ন্যায়সঙ্গত প্রতিকার।
৪. চূড়ান্ত রায় ও নির্দেশ
হাইকোর্ট বিভাগ নিম্ন আদালতের বাদীর পক্ষে খাস দখলের ডিক্রি বহাল রাখেন এবং সহকারী জজ আদালতকে নির্দেশ দেন যেন আদালতের নাজির ও পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় বিবাদীর সমস্ত স্থাপনা অপসারণ করে বাদীর কাছে জমির দখল অবিলম্বে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
৫. ভূমি মালিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
- মামলা চলাকালীন বেদখল হলে: নতুন মামলা না করে চলমান মামলার আরজি সংশোধন (Amendment under Order VI Rule 17 CPC) করে খাস দখলের প্রার্থনা যোগ করুন।
- পুলিশ ও স্থানীয় প্রমাণ: জোরপূর্বক উচ্ছেদের সাথে সাথে থানায় জিডি করুন এবং জরুরি ভিত্তিতে ৯৯৯ বা স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে বেদখলের প্রমাণ সংগ্রহে রাখুন।
- সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারা: স্বত্বে কোনো জটিলতা থাকলে দ্রুত ৬ মাসের মধ্যে ৯ ধারায় মামলা করে দখল উদ্ধার করা সবচেয়ে দ্রুততম পথ।
৬. অফিসিয়াল তথ্য ও রেফারেন্স
| মামলা নম্বর | Civil Revision No. 2353 of 2025 |
| বিচারপতি | Mr. Justice Md. Shohrowardi |
| আইন ও ধারা | Specific Relief Act, 1877 Sections 8, 9, 42; CPC Order VI Rule 17 & Sec 115 |
| অফিশিয়াল কপি | সুপ্রিম কোর্ট ওয়েবসাইট থেকে মূল রায় (PDF) ডাউনলোড করুন |

