ভূমি উন্নয়ন করের আপত্তি ৭ দিনে নিষ্পত্তির কড়া নির্দেশ

ঢাকা: সাধারণ মানুষের হয়রানি কমানো এবং ভূমি সেবায় গতিশীলতা আনতে এক যুগান্তকারী নির্দেশনা জারি করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। এখন থেকে ভূমি উন্নয়ন কর সংক্রান্ত যেকোনো নাগরিক আপত্তি ঝুলিয়ে রাখা যাবে না; বরং তা সর্বোচ্চ সাত (৭) কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। সম্প্রতি দেশের সকল সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ডদের কাছে পাঠানো এক দাপ্তরিক চিঠিতে এই কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

হোল্ডিং খোলার আবেদনে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম

ভূমি উন্নয়ন কর আদায় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ ও সেবার মান বৃদ্ধির লক্ষ্যে চিঠিতে হোল্ডিং খোলার বিষয়েও একটি সুস্পষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, কোনো নাগরিক অনলাইনে বা সরাসরি ভূমি উন্নয়ন কর প্রদানের জন্য হোল্ডিং খোলার আবেদন করলে, তা যাচাই-বাছাই শেষে সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে।

শুধু তা-ই নয়, যদি কোনো কারণে নাগরিকের আবেদনটি অনুমোদনযোগ্য না হয়, তবে তা বিনা নোটিশে ফেলে রাখা যাবে না। বাতিল করার ক্ষেত্রে উপযুক্ত কারণ সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে হবে, যাতে আবেদনকারী নাগরিক সহজেই তার আবেদন বাতিলের কারণ জানতে পারেন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশোধন করে পুনরায় আবেদন করতে পারেন।

যেসব আপত্তি ৭ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে

মাঠপর্যায়ে অনেক সময় ভূমির শ্রেণি পরিবর্তন বা অতিরিক্ত কর নির্ধারণ নিয়ে সাধারণ মানুষের নানা আপত্তি থাকে, যা বছরের পর বছর নিষ্পত্তিহীন অবস্থায় পড়ে থাকে। এই দীর্ঘসূত্রতা দূর করতেই এসিল্যান্ডদের সরাসরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে যেসব বিষয়ে আপত্তি দায়ের হলে তা সর্বোচ্চ ৭ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানিয়ে নিষ্পত্তি করতে হবে, সেগুলো হলো:

  • নির্ধারিত ভূমি উন্নয়ন করের পরিমাণ নিয়ে নাগরিকের কোনো আপত্তি থাকলে।
  • ভূমি করের বকেয়া সাল বা বছর সংক্রান্ত কোনো হিসাবের গরমিল বা জটিলতা দেখা দিলে।
  • জমির ব্যবহারভিত্তিক শ্রেণি (যেমন: কৃষি, আবাসিক, বাণিজ্যিক বা শিল্প) নির্ধারণ নিয়ে আপত্তি উত্থাপিত হলে।

রাজস্ব আদায়ে নতুন গতি আনার প্রত্যাশা

ভূমি রাজস্ব আদায় কার্যক্রমকে আরও বেগবান করতে এবং ডিজিটাল ভূমি সেবার শতভাগ সুফল প্রান্তিক মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাকে এই নির্দেশনাগুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবায়নের অনুরোধ জানিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। আইনজ্ঞ ও সেবাগ্রহীতারা মনে করছেন, এই নির্দেশনা মাঠপর্যায়ে যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে ভূমি অফিসগুলোতে সাধারণ নাগরিকদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি ও হয়রানি অনেকটাই লাঘব হবে এবং সরকারের রাজস্ব আদায়েও বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

Related Articles

Back to top button