অর্থ ঋণ আদালত আইনের ৩৩ ধারায় নিলাম বিক্রয় ও রিট পিটিশনের সীমাবদ্ধতা: সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত

আইনি সারসংক্ষেপ: অর্থ ঋণ আদালত আইন একটি বিশেষ আইন এবং সংবিধিবদ্ধ প্রতিকারের অগ্রাধিকার

অর্থ ঋণ আদালত আইন, ২০০৩ একটি বিশেষ আইন (Special Law), যার উদ্দেশ্য দ্রুত খেলাপি ব্যাংক ঋণ আদায় নিশ্চিত করা। আইনের ৩৩ ধারার অধীনে অর্থ জারি মামলায় বন্ধকি সম্পত্তি নিলাম বিক্রয় বা ৩৩(৫)/৩৩(৭) ধারায় ব্যাংকের অনুকূলে মালিকানা প্রত্যর্পণ সার্টিফিকেট ইস্যুর বিরুদ্ধে আইনে নির্দিষ্ট হারে অর্থ জমা দিয়ে অর্থ ঋণ আদালতে আপত্তি দাখিল বা আপিল করার বিধান রয়েছে। প্রচলিত সংবিধিবদ্ধ প্রতিকার এড়িয়ে ঋণখেলাপি পক্ষ যদি সরাসরি সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুসারে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন, তবে তা গ্রহণযোগ্য (Maintainable) নয়।

১. মামলার প্রাথমিক তথ্য

মহামান্য বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের স্পেশাল অরিজিনাল জুরিসডিকশনে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ কর্তৃক রিট পিটিশন নং ৬২৪১/২০২৩ নিষ্পন্ন হয়। বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক লিমিটেড কর্তৃক অর্থ জারি মোকদ্দমায় বন্ধকি জমি নিলামে বিক্রয়ের বিরুদ্ধে পিটিশনার মেসার্স টেকনো ট্রেডিং কর্পোরেশন রিট দায়ের করেছিলেন।

২. বিরোধের পটভূমি

পিটিশনার কোম্পানি ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের ঋণ গ্রহণ করে তা পরিশোধে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। ব্যাংক অর্থ ঋণ আদালতে মামলা করে অনুকূলে ডিক্রি লাভ করে এবং অর্থ জারি মামলা রুজু করে। জারি আদালত আইন অনুযায়ী বহুল প্রচারিত জাতীয় দৈনিকে নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। পিটিশনার কোনো অর্থ জমা না দিয়ে নিলাম প্রক্রিয়া স্থগিত চেয়ে মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন এই মর্মে যে সম্পত্তিটির বাজারমূল্য নিলামের মূল্যায়নের চেয়ে অনেক বেশি।

৩. হাইকোর্টের আইনি পর্যবেক্ষণ ও নীতি

ডিভিশন বেঞ্চ তাদের রায়ে উল্লেখ করেন যে, অর্থ ঋণ আদালত আইনের ৪১ ও ৪২ ধারায় আপিল বা রিভিশন দায়ের করতে হলে ডিক্রিকৃত অর্থের নির্দিষ্ট অংশ জমা দেওয়া সংবিধিবদ্ধ শর্ত। কোনো পক্ষ যদি শুধুমাত্র ওই শর্ত এড়ানোর উদ্দেশ্যে হাইকোর্টে রিট দায়ের করে জারি মামলার কার্যক্রম বিলম্বিত করতে চায়, তবে আদালত তাতে প্রশ্রয় দিতে পারেন না। আপিল বিভাগের সুস্পষ্ট রায় রয়েছে যে, অর্থ ঋণ সংক্রান্ত বিরোধে কার্যকর বিকল্প প্রতিকার (Equally efficacious alternative remedy) বিদ্যমান থাকলে রিট পিটিশন সরাসরি খারিজযোগ্য।

৪. চূড়ান্ত আদেশ

মহামান্য হাইকোর্ট ডিভিশন রিট পিটিশনটি খারিজ করে দেন এবং পূর্বে প্রদত্ত অন্তর্বর্তীকালীন স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেন। ফলে অর্থ ঋণ আদালতের জারি প্রক্রিয়ায় বন্ধকি সম্পত্তি নিলাম বিক্রয় ও ব্যাংকের পাওনা আদায়ের সমস্ত আইনি পথ উন্মুক্ত হয়।

৫. ঋণখেলাপি ও জামিনদারদের জন্য আইনি বার্তা

  • নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর: নিলাম স্থগিত করতে হলে অর্থ ঋণ আদালতে আইনানুযায়ী অর্থ জমার মাধ্যমে সমঝোতার আবেদন করুন।
  • রিট পিটিশনের ঝুঁকি: সংবিধিবদ্ধ ফোরাম এড়িয়ে রিট করলে শেষ পর্যন্ত সময়ক্ষেপণ ছাড়া কোনো স্থায়ী আইনি সুরক্ষা মেলে না।
  • জামানতকারীর দায়: মূল ঋণগ্রহীতার মতো জামিনদার এবং বন্ধকদাতার সম্পত্তিও আইনের ৩৩ ধারায় সরাসরি নিলামে উঠতে পারে।

৬. অফিসিয়াল তথ্য ও রেফারেন্স

মামলা নম্বর Writ Petition No. 6241 of 2023
বিচারপতি বেঞ্চ Division Bench of High Court Division
আইন ও ধারা Artha Rin Adalat Ain, 2003 Sections 12, 33, 41; Constitution of Bangladesh Article 102
অফিশিয়াল কপি সুপ্রিম কোর্ট ওয়েবসাইট থেকে মূল রায় (PDF) ডাউনলোড করুন

Related Articles

✍️ আইনি মতামত বা প্রশ্ন প্রকাশ করুন

Back to top button