প্রতিকূল দখলে স্বত্ব অর্জনের কঠোর শর্ত ও দেবোত্তর সম্পত্তি: হাইকোর্টের রায়
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ প্রতিকূল দখলে স্বত্ব অর্জন (Title by Adverse Possession), দেবোত্তর সম্পত্তির আইনি পবিত্রতা এবং তামাদি আইনের ১৪৪ অনুচ্ছেদের অপরিহার্য শর্তাবলি প্রসঙ্গে এক ঐতিহাসিক ও কঠোর রায় প্রদান করেছেন। হাইকোর্ট বিভাগ দ্ব্যর্থহীন ভাষায় পর্যবেক্ষণ ও সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, (১) প্রতিকূল দখলে স্বত্ব দাবি হলো স্থাবর সম্পত্তিতে স্বত্ব অর্জনের সবচেয়ে ‘বন্যতম ও চরম রূপ’ (Wildest form of acquisition of title); প্রতিকূল দখলের দাবিদারকে সুনির্দিষ্টভাবে চারটি উপাদান প্রমাণ করতে হবে— (ক) জমিতে তার বা তার পূর্বসূরির প্রথম প্রবেশের সুনির্দিষ্ট তারিখ, (খ) প্রকৃত মালিকের জ্ঞাতসারে ঠিক কোন তারিখ থেকে সেই দখল প্রকাশ্য শত্রুভাবাপন্ন ও প্রতিকূল (Hostile and Adverse) হয়ে উঠেছিল, (গ) নিরবচ্ছিন্নভাবে ১২ বছর যাবৎ সেই প্রতিকূল দখল অব্যাহত থাকার প্রমাণ, এবং (ঘ) কোন সুনির্দিষ্ট তারিখে তা বৈধ স্বত্বে রূপ লাভ (Matured into valid title) করেছিল; (২) প্রতিকূল দখলের মামলায় প্রকৃত মালিকের বৈধ স্বত্ব স্বীকার করে নিয়েই কেবল তার বিরুদ্ধে বিরুদ্ধ দখল দাবি করা যায়; যে বিবাদীর স্বত্ব আরজিতে অস্বীকার করা হয়, তার বিরুদ্ধে প্রতিকূল দখলে স্বত্ব ঘোষণার মামলা আইনত স্ববিরোধী ও অচল; (৩) সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক ইতিপূর্বে রিট পিটিশনে যে জমিকে দেবতার দেবোত্তর সম্পত্তি ঘোষণা করে অকার্যকর ঘোষণা করা হয়েছে, সেই জমিতে উচ্ছেদ নোটিশ পাওয়ার পর জবরদখলদারদের মামলা করার কোনো আইনি ভিত্তি নেই; এবং (৪) গাফিলতি ও দুর্বলতা দূর করার জন্য রিমান্ড মঞ্জুর করা চলে না; বিধায় প্রথম আপিল খরচসহ সরাসরি খারিজ করে অধস্তন আদালতের খারিজ রায় বহাল রাখা হলো।
মামলাটি মুন্সীগঞ্জের ২য় যুগ্ম জেলা জজ আদালতে ২০০৭ সালে বিগ্রহ শ্রী শ্রী লক্ষ্মী নারায়ণ জিউক ঠাকুরের ৩.১৯ একর দেবোত্তর ভূমিতে প্রতিকূল দখলে স্বত্ব ঘোষণার দাবিতে দায়েরকৃত Other Class Suit No. 67 of 2007 থেকে উদ্ভূত।
মামলার মূল প্রেক্ষাপট, পক্ষগণের বিতর্ক ও দীর্ঘ বিচারিক ইতিহাস নিম্নরূপ:
- নদীভাঙন ও ১৯৪৭ সালে প্রবেশের দাবি: বাদিপক্ষ দাবি করে যে নালিশী ৩.১৯ একর ভূমি মূলত নন্দলাল রায় চৌধুরী, যশোদা লাল রায় চৌধুরী ও তড়িৎ ভূষণ রায় চৌধুরীর সিএস খতিয়ানভুক্ত সম্পত্তি ছিল। নদীভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে বাদীদের পিতৃপুরুষগণ ১৯৪৭ সালের ৪ জুলাই উক্ত জমিতে প্রবেশ করে বসতঘর নির্মাণ করেন এবং তখন থেকেই তারা প্রকৃত মালিকদের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধ বা প্রতিকূল দখলে বসবাস করছেন।
- বিগ্রহের দেবোত্তর স্বত্ব ও শত্রু সম্পত্তি ঘোষণার ইতিহাস: ১ নম্বর বিবাদী ‘শ্রী শ্রী লক্ষ্মী নারায়ণ জিউক ঠাকুর’ পক্ষে সেবায়েত লিখিত জবাব দিয়ে জানান যে, উক্ত জমি পুলিন কৃষ্ণ রায়ের এসএ রেকর্ডীয় সম্পত্তি ছিল। পুলিন কৃষ্ণ রায় তার বসতবাড়িতে বিগ্রহ স্থাপন করে দেবোত্তর উৎসর্গ করেন এবং আরএস ১১৬৬ নম্বর খতিয়ানে দেবোত্তর হিসেবে বিগ্রহের নামে রেকর্ড প্রস্তুত হয়। পাকিস্তান ও বাংলাদেশ আমলে ভূমিটি অন্যায়ভাবে শত্রু সম্পত্তি (ভেস্টেড প্রপার্টি কেস নং ১৬৪/১৯৭৪) হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল।
- বিগ্রহ সেবায়েতের আইনি লড়াই ও হাইকোর্টের রিট রায়: শত্রু সম্পত্তির অবৈধ তালিকার বিরুদ্ধে সেবায়েত ১৯৭৪ সালে সাব-অর্ডিনেট জজ আদালতে স্বত্ব মোকদ্দমা নং ১৬০/১৯৭৪ দায়ের করে ডিক্রি লাভ করেন। ভূমি সংস্কার বোর্ড সম্পত্তি অবমুক্ত না করায় সেবায়েত রঞ্জিত কুমার দাস হাইকোর্ট বিভাগে Writ Petition No. 424 of 1990 দায়ের করেন। ১৯৯৮ সালের ১৩ জুলাই হাইকোর্ট রুল অ্যাবসলিউট করে সম্পত্তিটি ১ নম্বর বিবাদী বিগ্রহের নিজস্ব দেবোত্তর সম্পত্তি ঘোষণা করেন এবং জেলা প্রশাসককে তা অবমুক্তের নির্দেশ দেন।
- উচ্ছেদ নোটিশ ও বাদীদের প্রতিকূল দখলের মামলা: হাইকোর্টের রিট রায়ের আলোকে মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসন ২০০৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বর অবৈধ দখলদার হিসেবে বাদীদের ওপর উচ্ছেদ নোটিশ জারি করে। উচ্ছেদ নোটিশ পেয়ে বাদীরা তড়িঘড়ি করে নিজেদের প্রতিকূল দখলে মালিক দাবি করে ২০০৭ সালে Other Class Suit No. 67 of 2007 দায়ের করে।
- যুগ্ম জেলা জজ আদালত কর্তৃক মামলা খারিজ: বিচারিক আদালতে বাদিপক্ষে ৭ জন এবং বিবাদীপক্ষে ৩ জন সাক্ষী পরীক্ষা করা হয়। বাদিপক্ষ কোনো সিএস খতিয়ান বা দালিলিক প্রমাণ দাখিল করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। বিজ্ঞ ২য় যুগ্ম জেলা জজ ২০১১ সালের ১৯ মে বাদীদের মামলা সম্পূর্ণরূপে খারিজ করে দেন।
- হাইকোর্টে প্রথম আপিল: বিচারিক আদালতের উক্ত খারিজ রায়ের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ হয়ে মূল বাদিদের ওয়ারিশগণ হাইকোর্ট বিভাগে First Appeal No. 213 of 2011 দায়ের করেন।
🛡️ আপিলকারী বাদিপক্ষের যুক্তি (Appellants)
- ১৯৪৭ সাল থেকে ৬০ বছরের নিরবচ্ছিন্ন দখল: নদীভাঙনে ভিটেহারা হয়ে ১৯৪৭ সাল থেকে বাদীদের পরিবার বাড়িঘর ও পুকুর তৈরি করে শান্তিপূর্ণ দখলে আছে; জমিতে কোনো মন্দির বা পূজা নেই।
- আইন সংস্কার অধ্যাদেশ ১৯৭২-এর সুরক্ষা: ল রিফর্মস অর্ডিন্যান্স ১৯৭২ অনুযায়ী কাউকে বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করা যায় না; রিট মামলার আদেশে বাদিরা পক্ষভুক্ত ছিলেন না।
- আইনজীবীর ভুলে তথ্যের ত্রুটি ও রিমান্ড প্রার্থনা: ট্রায়ালে নিযুক্ত আইনজীবীর অদক্ষতার কারণে উপযুক্ত খতিয়ান জমা দেওয়া যায়নি; ন্যায়বিচারের স্বার্থে আরজি সংশোধন ও পুনঃতদন্তের জন্য রিমান্ড দেওয়া হোক।
🏛️ রেসপনডেন্ট বিবাদীপক্ষের যুক্তি (Respondents)
- হাইকোর্ট কর্তৃক দেবোত্তর স্বত্ব নিশ্চিত: রিট পিটিশন ৪২৪/১৯৯০-এ হাইকোর্ট জমিটি বিগ্রহের দেবোত্তর সম্পত্তি ঘোষণা করেছেন; এটি কোনোভাবেই প্রতিকূল দখলের জমি নয়।
- স্বত্ব অস্বীকারের মারাত্মক বৈপরীত্য: বাদিরা ১ নম্বর বিবাদীর স্বত্ব আরজিতে অস্বীকার করেছেন; আইনের প্রতিষ্ঠিত নীতি হলো মূল মালিকের স্বত্ব স্বীকার না করে তার বিরুদ্ধে বিরুদ্ধ দখল চাওয়া যায় না।
- উচ্ছেদ নোটিশ আটকাতে মিথ্যা মামলা: জেলা প্রশাসকের উচ্ছেদ নোটিশ পাওয়ার পরই কেবল বাদিরা এই কাল্পনিক মামলা দায়ের করেছেন; তাদের কোনো খতিয়ান বা খাজনার রসিদ নেই।
স্থাবর সম্পত্তিতে জবরদখল বা বিরুদ্ধ দখলের মাধ্যমে স্বত্ব অর্জনের ক্ষেত্রে তামাদি আইন ১৯০৮-এর ১৪৪ অনুচ্ছেদের নীতিসমূহ:
তামাদি আইনের ১৪৪ অনুচ্ছেদ (Article 144 of Limitation Act 1908):
প্রতিকূল দখল (Adverse Possession) হলো অপরের জমিতে বিনা অধিকারে দখলের মাধ্যমে মালিকানা হরণের এক ব্যতিক্রমী আইনগত ব্যবস্থা। এটি প্রমাণের জন্য তিনটি মৌলিক নীতি প্রমাণ করতে হয়: Nec vi, nec clam, nec precario (দখল হতে হবে শান্তিপূর্ণ, প্রকাশ্য এবং মূল মালিকের অনুমতিবিহীন ও বৈরী)।
বাধ্যতামূলক শর্তসমূহ: কোনো দাবিদার কেবল জমিতে শারীরিক অবস্থানের জোরে প্রতিকূল দখল দাবি করতে পারে না। তাকে প্রমাণ করতে হবে যে তার দখল ছিল আইনসঙ্গত মালিকের স্বত্বকে প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ করে (Hostile animus) এবং সমগ্র এলাকার মানুষের চোখের সামনে। তাছাড়া যার বিরুদ্ধে বিরুদ্ধ দখল চাওয়া হচ্ছে, তার অনুকূলে যে মূল মালিকানা রয়েছে তা স্বীকার করেই কেবল প্রতিকূল দখলের ডিক্রি প্রার্থনা করা যায়।
মাননীয় বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান এবং বিচারপতি তামান্না রহমান খালিদীর ডিভিশন বেঞ্চ আপিল শুনানিকালে বাদীদের দাবির অসারতা তুলে ধরেন:
ক. প্রতিকূল দখল স্বত্ব অর্জনের সবচেয়ে ‘বন্যতম’ রূপ (Wildest Form of Acquisition):
হাইকোর্ট রায়ে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় উল্লেখ করেন— প্রতিকূল দখল হলো সম্পত্তিতে স্বত্ব দাবির সবচেয়ে উগ্র ও চরম পন্থা। একজন বাদি যখন দলিলপত্র ছাড়া কেবল অন্যের জমিতে জোরপূর্বক বসবাসের ভিত্তিতে মালিকানা দাবি করে, তখন আদালত অত্যন্ত কঠোর প্রমাণের দাবি রাখে। বাদিকে অবশ্যই চারটি তারিখ ও স্তর সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে হবে— প্রবেশের তারিখ, বৈরিতা শুরুর তারিখ, ১২ বছরের স্থায়িত্বকাল এবং স্বত্বে পরিপক্ব হওয়ার দিনক্ষণ। বর্তমান মামলায় বাদিরা এর একটি তারিখও প্রমাণ করতে পারেনি।
খ. আরজি ও সাক্ষ্যের মারাত্মক বৈপরীত্য:
আরজিতে বলা হয়েছে তাদের পিতা ১৯৪৭ সালের ৪ জুলাই জমিতে প্রবেশ করেন। অথচ ২০০৯ সালে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে মূল সাক্ষী PW-1 দাবি করেন যে তিনি নিজে ১৯৪৭ সালের ৪ জুলাই জমিতে প্রবেশ করেছিলেন! কিন্তু ১৯৪৭ সালের ঘটনা স্বচক্ষে দেখার বা সাক্ষ্য দেওয়ার কী আইনগত যোগ্যতা তার রয়েছে তা তিনি বলেননি। তাছাড়া কথিত সিএস রেকর্ডীয় মালিক নন্দলালদের মামলায় পক্ষভুক্ত পর্যন্ত করা হয়নি।
গ. স্বত্ব অস্বীকার করে প্রতিকূল দখল চাওয়া আইনি বিভ্রান্তি:
বাদিরা আরজির প্রতিকার অংশে ১ নম্বর বিবাদী শ্রী শ্রী লক্ষ্মী নারায়ণ ঠাকুরের বিরুদ্ধে ডিক্রি চেয়েছেন, অথচ মামলার বর্ণনায় ১ নম্বর বিবাদীর কোনো স্বত্ব নেই বলে দাবি করেছেন। হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দেন— যার বিরুদ্ধে প্রতিকূল দখল দাবি করা হচ্ছে তার মূল স্বত্ব স্বীকার না করলে প্রতিকূল দখলের মামলা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অচল হয়ে পড়ে।
ঘ. ত্রুটি মেরামতে রিমান্ডের অগ্রহণযোগ্যতা:
আপিলকারী পক্ষের আইনজীবী আবেদন জানিয়েছিলেন যে বাদীর পূর্ববর্তী আইনজীবীর ভুলের কারণে মামলাটি রিমান্ডে পাঠিয়ে পুনরায় শুনানির সুযোগ দেওয়া হোক। হাইকোর্ট তা কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করে জানান— কোনো পক্ষের নিজের অবহেলা বা প্রমাণের ঘাটতি পূরণ করার জন্য আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করতে পারে না। এমন রিমান্ড বৈধ মালিক দেবোত্তর এস্টেটকে অন্যায্য হয়রানি করার শামিল।
- প্রথম আপিল খরচসহ খারিজ (Dismissed with Cost): আপিলকারীদের First Appeal No. 213 of 2011 আইনগত ভিত্তিহীন হওয়ায় খরচসহ সরাসরি খারিজ করা হলো।
- বিচারিক আদালতের খারিজ রায় বহাল: মুন্সীগঞ্জের ২য় যুগ্ম জেলা জজ আদালত কর্তৃক Other Class Suit No. 67 of 2007-এ ১৯.০৫.২০১১ তারিখে প্রদত্ত মামলা খারিজের রায় ও ডিক্রি সম্পূর্ণ বহাল রাখা হলো।
- বিগ্রহের দেবোত্তর স্বত্ব অটুট: ১ নম্বর বিবাদী শ্রী শ্রী লক্ষ্মী নারায়ণ জিউক ঠাকুরের নামে আরএস ১১৬৬ খতিয়ানের দেবোত্তর স্বত্ব চূড়ান্তভাবে সংরক্ষিত রইল।
- নথিপত্র দ্রুত ফেরত: বিচারিক আদালতের নথিপত্র অবিলম্বেই সংশ্লিষ্ট আদালতে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ প্রদান করা হলো।
এই রায়ের প্রধান আইনি মূলনীতিসমূহ:
- প্রতিকূল দখলের ৪টি বাধ্যতামূলক উপাদান: বাদিকে প্রমাণ করতে হবে— (১) প্রবেশের সঠিক তারিখ, (২) প্রতিকূল মনোভাব সৃষ্টির তারিখ, (৩) প্রকৃত মালিকের জ্ঞাতসারে ১২ বছরের নিরবচ্ছিন্ন বিরুদ্ধ দখল, এবং (৪) স্বত্বে রূপান্তরের সময়।
- স্বত্ব অস্বীকারে বিরুদ্ধ দখল অচল: বিবাদীর মালিকানা অস্বীকার করে তার বিরুদ্ধেই প্রতিকূল দখলের ডিক্রি চাওয়া আত্মঘাতী ও আইনত অচল।
- দেবোত্তর সম্পত্তির আইনি মর্যাদা: যে জমি সুপ্রিম কোর্টের রিট রায়ে বিগ্রহের দেবোত্তর সম্পত্তি ঘোষিত হয়েছে, সেখানে উচ্ছেদ নোটিশ আটকাতে জবরদখলদারদের প্রতিকূল দখলের মামলা ভিত্তিহীন।
- গাফিলতি পূরণে রিমান্ড নিষিদ্ধ: নিজস্ব সাক্ষ্য-প্রমাণের ত্রুটি বা আইনজীবীর অদক্ষতার অজুহাতে আপিল আদালত কোনো দেওয়ানী মামলা রিমান্ড করতে পারে না।
আরজিতে প্রবেশের তারিখ এবং কাঠগড়ায় সাক্ষীর জবানবন্দির যেন কোনো বৈপরীত্য না থাকে; সামান্য অমিল পুরো মামলা ধ্বংস করে দেয়।
বিবাদীর স্বত্ব অস্বীকার করে প্রতিকূল দখল চাওয়া যাবে না; স্পষ্ট বলুন বিবাদী মালিক ছিল কিন্তু ১২ বছর বৈরী দখলের কারণে তার স্বত্ব নিভে গেছে।
যার বিরুদ্ধে আপনি প্রতিকূল দখল দাবি করছেন তাকে বা তার ওয়ারিশদের বিবাদী না করলে মামলা ডিফেক্ট অব পার্টিজে শুরুতেই খারিজ হবে।
নালিশী জমি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রিট বা অর্পিত সম্পত্তির রায় থাকলে তা গোপন করবেন না; অন্যথায় বিপরীত পক্ষ তা উপস্থাপন করে মামলা খারিজ করাবে।
নিম্ন আদালতের সাক্ষ্যের ঘাটতি ঢাকতে পূর্ববর্তী আইনজীবীর অদক্ষতার অজুহাতে রিমান্ড চাইলে উচ্চ আদালত তা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে।
| মামলার শিরোনাম ও নম্বর | প্রথম আপিল নং ২১৩ / ২০১১ (First Appeal No. 213 of 2011) |
| উচ্চ আদালত ও বেঞ্চ | বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগ (দেওয়ানী আপিল এখতিয়ার: মাননীয় বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান ও মাননীয় বিচারপতি তামান্না রহমান খালিদী) |
| পক্ষসমূহ | মোঃ শাহজাহান সরদার (মৃত), ওয়ারিশগণ মাহফুজা বেগম ও অন্যান্য (বাদী-আপিলকারীগণ) বনাম শ্রী শ্রী লক্ষ্মী নারায়ণ জিউক ঠাকুর ও অন্যান্য (বিবাদী-রেসপনডেন্টগণ) |
| বিজ্ঞ আইনজীবীবৃন্দ | আপিলকারী পক্ষে: জনাব মো: হারুন-অর-রশিদ, জনাব মো: মোজাম্মেল হোসেন ও মাহফুজা বেগম, অ্যাডভোকেটগণ | ১ নম্বর রেসপনডেন্ট পক্ষে: জনাব বিভাস চন্দ্র বিশ্বাস, উৎপল বিশ্বাস, দিপালী রানী দাস ও শেবানী বিশ্বাস, অ্যাডভোকেটগণ |
| অধস্তন আদালতের মামলা ও রায় | ২য় যুগ্ম জেলা জজ আদালত, মুন্সীগঞ্জ (আদার ক্লাস স্যুট নং ৬৭/২০০৭, রায় ও ডিক্রি: ১৯.০৫.২০১১; মামলা খারিজের রায়) |
| শুনানি ও রায় ঘোষণার তারিখ | শুনানি অনুষ্ঠিত: ২৯ জুলাই ২০২৬ | রায় ঘোষণা: ৩০ জুলাই ২০২৬ (আপলোড: ২৪ আগস্ট ২০২৬) |
| আইনি বিষয়বস্তু ও মূল ধারা | তামাদি আইন ১৯০৮-এর ২৮ ধারা ও ১৪৪ অনুচ্ছেদ; প্রতিকূল দখলে স্বত্ব (Title by Adverse Possession); দেবোত্তর সম্পত্তি (Debottor Property); সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ১৮৭৭-এর ৪২ ধারা; দেওয়ানী কার্যবিধির ৪১ আদেশ ২৩ বিধি (রিমান্ডের অযোগ্যতা) |
| অফিসিয়াল রায় ও পিডিএফ লিংক |
📥 সুপ্রিম কোর্ট অফিসিয়াল PDF ডাউনলোড 🌐 সুপ্রিম কোর্ট পোর্টাল |

