তামাদি আইনের ধারা ১৯ ও ২০ অনুযায়ী ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে স্বীকারোক্তি (Acknowledgment) ও কিস্তিতে পরিশোধের প্রভাব

📜 তামাদি আইন, ১৯০৮-এর ধারা ১৯ ও ২০ ঋণ বা দায় স্বীকার এবং কিস্তিতে পরিশোধের ক্ষেত্রে তামাদি সময় গণনার ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।


🔸 ধারা ১৯: ঋণের স্বীকারোক্তির (Acknowledgment) প্রভাব

👉 যদি কোনো ব্যক্তি বা তার প্রতিনিধি তামাদি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে কোনো ঋণ বা দায় স্বীকার করে লিখিতভাবে স্বাক্ষর করেন, তবে নতুন করে তামাদি সময় গণনা শুরু হবে।

📌 শর্তসমূহ:
1️⃣ লিখিত স্বীকারোক্তি (Acknowledgment) থাকতে হবে।
2️⃣ স্বীকারোক্তি স্বাক্ষরকারী ব্যক্তির নিজের হাতে লেখা বা স্বাক্ষরিত হতে হবে।
3️⃣ এটি তামাদি সময় শেষ হওয়ার আগে দিতে হবে।
4️⃣ স্বীকারোক্তিতে সরাসরি ঋণের কথা উল্লেখ থাকা বাধ্যতামূলক নয়, তবে ঋণ বা দায়ের অস্তিত্ব বোঝা যেতে হবে।

📌 উদাহরণ:

  • ‘A’ ‘B’-এর কাছ থেকে টাকা ঋণ নেন এবং ঋণ ফেরতের জন্য ৩ বছরের তামাদি সময় নির্ধারিত।
  • ২ বছর পর ‘A’ একটি চিঠিতে ‘B’-কে জানান যে তিনি ঋণ শোধ করবেন।
  • যেহেতু এটি একটি স্বীকারোক্তি (Acknowledgment), তাই নতুন করে ৩ বছরের তামাদি সময় এই চিঠির তারিখ থেকে গণনা শুরু হবে।

🔸 ধারা ২০: কিস্তিতে পরিশোধের প্রভাব

👉 যদি তামাদি সময় শেষ হওয়ার আগে ঋণ পরিশোধের অংশবিশেষ (কিস্তি) দেওয়া হয় বা সুদ প্রদান করা হয়, তাহলে নতুন করে তামাদি সময় গণনা শুরু হবে।

📌 শর্তসমূহ:
1️⃣ মূল ঋণ পরিশোধ বা সুদ প্রদান হতে হবে।
2️⃣ তামাদি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে অর্থ প্রদান করতে হবে।
3️⃣ অর্থ প্রদান ঋণগ্রহীতার হাতে বা তার অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে দিতে হবে।
4️⃣ লিখিত বা স্বাক্ষরিত স্বীকৃতি থাকা আবশ্যক (শুধুমাত্র সুদের ক্ষেত্রে নয়)।

📌 উদাহরণ:

  • ‘C’ ‘D’-এর কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা ঋণ নেন এবং তামাদি সময় ৩ বছর।
  • ২ বছর পর ‘C’ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন।
  • নতুন করে তামাদি সময় এই পরিশোধের দিন থেকে গণনা শুরু হবে।

🔸 ধারা ১৯ ও ২০-এর গুরুত্ব

ঋণদাতাকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে, যাতে তিনি সময়সীমার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হন।
ঋণগ্রহীতাকে সময়সীমার সুযোগ নিয়ে দায় এড়ানো থেকে বিরত রাখে।
ঋণ পরিশোধে নমনীয়তা আনে এবং কিস্তিতে পরিশোধের সুবিধা দেয়।
সুদের ক্ষেত্রে নতুন তামাদি সময় নিশ্চিত করে।


🔸 উপসংহার

📌 তামাদি আইনের ধারা ১৯ ঋণের স্বীকারোক্তি এবং ধারা ২০ কিস্তিতে পরিশোধের ক্ষেত্রে তামাদি সময় নতুন করে গণনা করার বিধান দেয়। এটি ঋণদাতাদের জন্য বিশেষ সুবিধাজনক, কারণ এটি ঋণ পুনরুদ্ধারের সুযোগ বৃদ্ধি করে এবং ঋণগ্রহীতাকে সময়সীমার সুযোগ নিয়ে দায় এড়ানো থেকে বিরত রাখে।

Related Articles

Back to top button