হাইকোর্টে মামলা জট নিরসনে কজলিস্ট প্রকাশে নতুন নিয়ম

ঢাকা: দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে দীর্ঘদিন ধরে চলমান মামলার জট নিরসন এবং বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি লাঘবে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। দৈনন্দিন কার্যতালিকা বা কজলিস্ট (Cause List) প্রণয়ন ও মামলা শুনানির ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এর ফলে বিচারিক কার্যক্রমে যেমন গতিশীলতা আসবে, তেমনি স্বচ্ছতাও নিশ্চিত হবে বলে প্রত্যাশা করছেন আইন অঙ্গনের সংশ্লিষ্টরা।

প্রধান বিচারপতির নির্দেশনায় নতুন পরিপত্র

রোববার (২৬ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নতুন নিয়মাবলি জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়। প্রধান বিচারপতির অনুমোদনক্রমে জারি করা এই নির্দেশনায় মূলত প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং বেঞ্চগুলোতে দৈনিক মামলা শুনানির একটি নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এতে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ অফিসার ও সহকারী বেঞ্চ অফিসারদের আদেশটি কঠোরভাবে পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্দেশনার মূল বিষয়বস্তু একনজরে

মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে জারি করা এই বিজ্ঞপ্তিতে কজলিস্ট ব্যবস্থাপনা নিয়ে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট পয়েন্ট উল্লেখ করা হয়েছে:

  • অনলাইন কজলিস্ট বাধ্যতামূলক: এখন থেকে প্রতি মাসের প্রথম কার্যদিবসেই হাইকোর্ট বিভাগের পূর্ণাঙ্গ কার্যতালিকা (কজলিস্ট) আবশ্যিকভাবে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে (www.supremecourt.gov.bd) প্রকাশ করতে হবে।
  • মোশন বেঞ্চে শুনানির নির্দিষ্ট সীমা: প্রতিটি ক্রিমিনাল মোশন এবং রিট মোশন বেঞ্চে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫০০টি মোশন মামলা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যাবে। এর পাশাপাশি, তালিকায় আবশ্যিকভাবে ৪০ থেকে ৫০টি অন্যান্য শুনানি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
  • শুনানি বেঞ্চের রূপরেখা: ক্রিমিনাল ও রিট শুনানি বেঞ্চের ক্ষেত্রেও প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৫০০টি মামলা কার্যতালিকাভুক্ত করার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে।
  • সাধারণ বেঞ্চের নিয়ম: রিট ও ক্রিমিনাল বাদে অন্যান্য সাধারণ বেঞ্চগুলোর দৈনন্দিন শুনানির তালিকা আগের নিয়মেই বহাল থাকবে। অর্থাৎ, তাদের কজলিস্ট সর্বোচ্চ ০২ (দুই) পৃষ্ঠার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে।

বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীদের ভোগান্তি লাঘব

ডিজিটাল যুগে বিচার বিভাগকে সাধারণ মানুষের আরও কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার এটি একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রতিদিনের হালনাগাদ কজলিস্ট অনলাইনে প্রকাশ হওয়ার ফলে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে বিচারপ্রার্থী ও আইনজীবীরা সহজেই তাদের মামলার সর্বশেষ অবস্থা জানতে পারবেন। একই সঙ্গে বেঞ্চগুলোতে মামলার সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেওয়ায় আদালতে দীর্ঘসূত্রতা কমবে এবং দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার পথ সুগম হবে।

Related Articles

Back to top button