নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫: গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ও পিডিএফ

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-কে আরও সময়োপযোগী এবং কঠোর করার লক্ষ্যে গত ২৫ মার্চ ২০২৫ তারিখে “নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫” জারি করা হয়েছে। মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রিতা কমানো এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে মহামান্য রাষ্ট্রপতি এই যুগান্তকারী অধ্যাদেশটি প্রণয়ন করেছেন।

সংশোধিত অধ্যাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকসমূহ

এই সংশোধনীর মাধ্যমে আইনে বেশ কিছু নতুন ধারা যুক্ত করা হয়েছে এবং পুরনো অনেক ধারায় ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনগুলো নিচে আলোচনা করা হলো:

  • নতুন সংজ্ঞা ও বলাৎকার: সংশোধিত আইনে ‘বলাৎকার’ (ছেলে শিশুর সাথে যৌনকর্ম) এবং ‘মারাত্মক জখম’-এর সুস্পষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে আইনের ৯ ধারার অধীনে বলাৎকারকেও ধর্ষণ হিসেবে গণ্য করে বিচার করা হবে।
  • বিয়ের প্রলোভনে সম্পর্কের শাস্তি: নতুন যুক্ত হওয়া ৯খ ধারা অনুযায়ী, দৈহিক বলপ্রয়োগ ছাড়া শুধুমাত্র বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ১৬ বছরের অধিক বয়সী কোনো নারীর সাথে যৌনকর্ম করলে তা অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে। এর শাস্তি হিসেবে অনধিক ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
  • জরিমানার পরিমাণ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি: অপরাধীদের আর্থিকভাবে কোণঠাসা করতে আইনের বিভিন্ন ধারায় জরিমানার পরিমাণ অনেক বাড়ানো হয়েছে। যেমন, ৪ ধারার অধীনে জরিমানা ১ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে সরাসরি ২০ লক্ষ টাকা করা হয়েছে। আদায়কৃত এই অর্থদণ্ড ক্ষতিপূরণ হিসেবে নির্যাতিত ব্যক্তি বা তার পরিবারকে দেওয়া হবে।
  • অনলাইনে পরিচয় প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা: ১৪ ধারায় পরিবর্তন এনে নির্যাতিতের নাম, ঠিকানা বা ছবি সাধারণ সংবাদ মাধ্যমের পাশাপাশি “অনলাইনে বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে” প্রকাশেও সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
  • মিথ্যা মামলা দায়েরের কঠোর শাস্তি: ট্রাইব্যুনালে কেউ মিথ্যা বা হয়রানিমূলক অভিযোগ দায়ের করলে, ট্রাইব্যুনাল কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে অভিযোগকারীকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ দিতে পারবে। এর পাশাপাশি তাকে অনধিক ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডও দেওয়া যাবে।
  • শিশু ধর্ষণ অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল: শিশুদের সুরক্ষায় সরকার এখন থেকে প্রতিটি জেলা ও মহানগর এলাকায় বিশেষায়িত “শিশু ধর্ষণ অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল” গঠন করতে পারবে।
  • দ্রুত বিচার ও ডিজিটাল সাক্ষ্যগ্রহণ: ধর্ষণ মামলার বিচার অভিযোগ গঠনের তারিখ থেকে নব্বই কার্যদিবসের মধ্যে শেষ করার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, দূরবর্তী সাক্ষীর সাক্ষ্য এখন থেকে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে (ডিজিটাল উপায়ে) গ্রহণ করার বিধান যুক্ত হয়েছে।
  • যৌতুকের কারণে জখমের বিচার: যৌতুকের জন্য সাধারণ জখমের (ধারা ১১ এর দফা গ) অপরাধটি এখন থেকে প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারযোগ্য, আমলযোগ্য এবং আপসযোগ্য করা হয়েছে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ পিডিএফ ডাউনলোড

আইনপেশায় যুক্ত সকলের জন্য এই সংশোধিত আইনটির প্রতিটি ধারা সম্পর্কে নিখুঁত ধারণা রাখা অপরিহার্য। আপনাদের রেফারেন্সের জন্য নিচে সম্পূর্ণ গেজেটটির পিডিএফ ডাউনলোড লিংক দেওয়া হলো।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর মূল গেজেট পিডিএফ ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন

নিয়মিত নতুন গেজেট, পরিপত্র এবং আইনের সহজ বিশ্লেষণ পেতে আইনপ্রকাশের সাথেই থাকুন।

Related Articles

Back to top button