[গেজেট] নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ – বিস্তারিত আলোচনা ও পিডিএফ ডাউনলোড

বাংলাদেশ সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক ২৫ মার্চ, ২০২৫ তারিখে “নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫” গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-কে আরও সময়োপযোগী করার লক্ষ্যে মহামান্য রাষ্ট্রপতি সংবিধানের ৯৩ (১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে এই অধ্যাদেশটি প্রণয়ন ও জারি করেছেন।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনসমূহ
- নতুন সংজ্ঞা সংযোজন: এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে আইনের ২ ধারায় “বলাৎকার” (ছেলে শিশুর মুখ বা পায়ুপথে সংঘটিত যৌনকর্ম) এবং “মারাত্মক জখম” এর সুস্পষ্ট সংজ্ঞা যুক্ত করা হয়েছে। ৯ ধারার উদ্দেশ্য পূরণে এখন থেকে বলাৎকারকেও ধর্ষণ হিসেবে গণ্য করা হবে।
- বিয়ের প্রলোভনে যৌনকর্মের শাস্তি: নতুন যুক্ত হওয়া ৯খ ধারা অনুযায়ী, দৈহিক বলপ্রয়োগ ছাড়া শুধুমাত্র বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আস্থাভাজন সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে ১৬ বছরের অধিক বয়সী কোনো নারীর সাথে যৌনকর্ম করলে তা অপরাধ বলে বিবেচিত হবে। এর শাস্তি হিসেবে সর্বোচ্চ সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
- জরিমানার পরিমাণ বৃদ্ধি: সংশোধিত আইনে জরিমানার পরিমাণ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। যেমন, ৪ ধারার অধীনে জরিমানা এক লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে অনধিক বিশ লক্ষ টাকা পর্যন্ত করা হয়েছে। আদায়কৃত এই অর্থদণ্ড ক্ষতিপূরণ হিসেবে সরাসরি অপরাধের শিকার ব্যক্তি বা তার পরিবারকে প্রদান করা হবে।
- অনলাইন মাধ্যমে গোপনীয়তা রক্ষা: ১৪ ধারায় সংশোধনী এনে নির্যাতিতের নাম, ঠিকানা বা ছবি সাধারণ সংবাদ মাধ্যমের পাশাপাশি “অনলাইনে বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে” প্রকাশে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
- মিথ্যা মামলা দায়েরের শাস্তি: কেউ যদি ট্রাইব্যুনালে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক অভিযোগ দায়ের করেন, তবে ট্রাইব্যুনাল কারণ দর্শানোর সুযোগ দিয়ে অভিযোগকারীকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের আদেশ দিতে পারবে এবং এর পাশাপাশি অনধিক দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করতে পারবে।
- দ্রুত বিচার ও তদন্ত প্রক্রিয়া: ধর্ষণ সংক্রান্ত মামলার বিচারকার্য অভিযোগ গঠনের তারিখ হতে নব্বই কার্যদিবসের মধ্যে সমাপ্ত করার বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে বিচার বা তদন্ত শেষ করতে ব্যর্থ হলে এবং সরকারি কর্মকর্তার গাফিলতি প্রমাণিত হলে, তা সরাসরি অদক্ষতা ও অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে।
- শিশু ধর্ষণ অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল: শিশুদের সুরক্ষায় সরকার জেলা ও মহানগর এলাকায় এক বা একাধিক বিশেষায়িত “শিশু ধর্ষণ অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল” গঠন করতে পারবে।
- যৌতুকের কারণে জখমের বিচার: ধারা ১১ এর দফা (গ) এর অধীন যৌতুকের কারণে জখমের অপরাধটি এখন থেকে প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারযোগ্য, আমলযোগ্য এবং আপসযোগ্য করা হয়েছে।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ গেজেট পিডিএফ ডাউনলোড লিংক
আইনজীবী, আইনের শিক্ষার্থী এবং বার কাউন্সিল পরীক্ষার্থীদের জন্য এই সংশোধিত আইনটির প্রতিটি ধারা এবং শব্দগত পরিবর্তন সম্পর্কে জানা অত্যন্ত জরুরি। আপনাদের রেফারেন্সের জন্য নিচে সম্পূর্ণ গেজেটটির পিডিএফ ডাউনলোড লিংক দেওয়া হলো।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর মূল গেজেট পিডিএফ ডাউনলোড করতে এখানে ক্লিক করুন
নিয়মিত নতুন গেজেট, পরিপত্র এবং বিষয়ভিত্তিক মডেল টেস্ট দিয়ে নিজেকে যাচাই করতে আইনপ্রকাশের সাথেই থাকুন।
