[গেজেট] সাইবার সুরক্ষা আইন ও অধ্যাদেশ: ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলা বাতিল, এআই ও সাইবার স্পেস সুরক্ষায় ৩৬ পৃষ্ঠার অফিশিয়াল গেজেট

📜 বাংলাদেশ গেজেট অতিরিক্ত সংখ্যা | আইন ও বিচার বিভাগ

সাইবার সুরক্ষা আইন ও অধ্যাদেশ: ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলা বাতিল, এআই ও সাইবার স্পেস সুরক্ষা

রেফারেন্স / গেজেট নম্বর:
অধ্যাদেশ নং ২৫, ২০২৫ ও বা.জা.স. বিল নং ৮২/২০২৬
গেজেট প্রকাশের তারিখ:
১০ এপ্রিল, ২০২৬
কর্তৃপক্ষ / উৎস:
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়
আইনের প্রয়োগ ক্ষেত্র:
সাইবার নিরাপত্তা, মামলা বাতিল ও ডিজিটাল পরিকাঠামো

📥 অফিশিয়াল সরকারি গেজেট ও প্রজ্ঞাপন PDF ডাউনলোড

বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় (BG Press) / সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত মূল গেজেট ও প্রজ্ঞাপন কপি নিচে সরাসরি ডাউনলোড ও ব্রাউজারে পড়ার জন্য উন্মুক্ত রয়েছে:

📜 সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ ও সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ (৩৬ পৃষ্ঠার গেজেট)
প্রকাশের তারিখ: ১০ এপ্রিল, ২০২৬ | পৃষ্ঠা: ৩৬ | আকার: ৩৮০ কিলোবাইট | বিজি প্রেস অফিশিয়াল গেজেট | উৎস: বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় (বিজি প্রেস) / সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়

📄 এই পেজেই সরাসরি মূল অফিশিয়াল গেজেট প্রিভিউ দেখুন (ক্লিক করুন)


আইনের ঐতিহাসিক পটভূমি ও কালো আইনের অবসান

বাংলাদেশ সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ১০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে প্রকাশ করেছে ৩৬ পৃষ্ঠার সুবিশাল গেজেট “সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ ও সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬”। বিগত সরকারের আমলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ (ডিএসএ) এবং সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩ (সিএসএ)-এর মাধ্যমে যে দমন-পীড়ন ও মুক্তচিন্তার পথ রুদ্ধ করা হয়েছিল, এই নতুন আইনের মাধ্যমে তার ইতি টানা হয়েছে।

যুগান্তকারী ধারা ৫০: বিচারাধীন সমস্ত মামলা বাতিল ও অব্যাহতি

আইনের ধারা ৫০-এ সুস্পষ্ট ঘোষণা দেওয়া হয়েছে:

  • কালো আইনের বিলোপ: সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩ (২০২৩ সনের ৩৯ নং আইন) সম্পূর্ণভাবে রহিত (Repeal) করা হলো।
  • বিচারাধীন সমস্ত মামলা প্রত্যাহার ও খালাস: রহিত সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩ এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮-এর ধারা ২১, ২৪, ২৫, ২৬, ২৭, ২৮, ২৯, ৩১ এবং ৩২ এর অধীন দেশের সমস্ত সাইবার ট্রাইব্যুনাল বা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন সকল মামলা, এফআইআর, জিআর মামলা এবং পুলিশের তদন্ত স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল (Abated & Discharged) ঘোষণা করা হয়েছে।
  • আসামিদের আর আদালতে হাজিরা দিতে হবে না এবং তাদের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার গ্রেফতারি পরোয়ানা বহাল থাকবে না।

নতুন আইনের আধুনিক দিক: হ্যাকিং, আর্থিক জালিয়াতি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)

মতপ্রকাশ দমন নয়, বরং সাইবার স্পেসকে নিরাপদ রাখাই এই আইনের একমাত্র উদ্দেশ্য। এর মূল ভিত্তিগুলো হলো:

  1. জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি: দেশের সাইবার স্পেস ও রাষ্ট্রীয় সংবেদনশীল ডাটা সুরক্ষায় স্বাধীন ও ক্ষমতাপ্রাপ্ত এজেন্সি গঠন।
  2. গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো (CII) সুরক্ষা: বিদ্যুৎ গ্রিড, ব্যাংক, জাতীয় পরিচয়পত্র ও টেলিকম সার্ভারে সাইবার হামলা বা সাইবার সন্ত্রাস প্রতিরোধে সর্বোচ্চ কঠোর শাস্তির বিধান।
  3. এআই প্রতারণা ও ডিপফেক অপরাধ: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (Artificial Intelligence) মাধ্যমে নারীর অবমাননাকর ডিপফেক ছবি তৈরি, ব্ল্যাকমেইলিং ও আর্থিক জালিয়াতিকে গুরুতর অজামিনযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

❓ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়েরকৃত ফেসবুক পোস্টের মামলাগুলো কি বাতিল হয়েছে?
হ্যাঁ, নতুন সাইবার সুরক্ষা আইনের ধারা ৫০ অনুযায়ী ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এবং সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩ এর বাকস্বাধীনতা সংক্রান্ত সমস্ত ধারার বিচারাধীন মামলা ও তদন্ত সম্পূর্ণ বাতিল ও খারিজ ঘোষণা করা হয়েছে।
নতুন আইনে সাইবার অপরাধের বিচারের আদালত কোনটি?
জেলা পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত সাইবার ট্রাইব্যুনাল এবং উচ্চ পর্যায়ের জন্য সাইবার আপিল ট্রাইব্যুনাল এসব অপরাধের বিচার পরিচালনা করবে।

Related Articles

Back to top button