[পরিপত্র] যৌথ খতিয়ানের বণ্টননামামূলে নামজারি ও ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ পরিপত্র, ২০২৬: কর বকেয়া থাকলেও বণ্টননামা ও নামজারি মঞ্জুরের যুগান্তকারী নিয়ম
📌 পরিপত্রের মূল নির্যাস ও নাগরিক স্বস্তি:
ভূমি উন্নয়ন কর আইন, ২০২৩ এর ৬(৩) ধারা অনুযায়ী পূর্বে যৌথ খতিয়ানের সকল শরিকের কর একসাথে পরিশোধ না করলে কোনো একক অংশীদার নিজের অংশের কর দিতে পারতেন না। ফলে অন্য শরিকরা কর না দিলে একজন সচেতন মালিকও কর দিতে বা জমি রেজিস্ট্রি করতে পারতেন না। ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জারিকৃত এই ঐতিহাসিক পরিপত্রের মাধ্যমে সরকার সুস্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছে যে: ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ বা দাখিলা ছাড়াই রেজিস্টার্ড বণ্টননামা দলিল সম্পাদন করা যাবে এবং দাখিলা ছাড়াই সহকারী কমিশনার (ভূমি) নামজারি মঞ্জুর করবেন। নতুন পৃথক খতিয়ান সৃজনের পর মালিক কেবল নিজ অংশের বকেয়া ও চলতি কর পরিশোধ করে পৃথক দাখিলা গ্রহণ করবেন।
১. যৌথ খতিয়ান ও ভূমি উন্নয়ন কর আইন, ২০২৩ এর ৬(৩) ধারার সংকট
বাংলাদেশের জমিজমার ক্ষেত্রে অন্যতম বড় একটি দুর্ভোগ ছিল যৌথ খতিয়ানের ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান। ‘ভূমি উন্নয়ন কর আইন, ২০২৩’ এর ৬(৩) ধারায় স্পষ্ট বিধান রয়েছে:
“উত্তরাধিকারসূত্রে বা অন্য কোনোভাবে হস্তান্তরের ফলে ভূমির মালিকানা একাধিক ব্যক্তির উপর বর্তাইলে এবং তাহারা জমা-খারিজ করিয়া পৃথক নামজারি না করাইয়া থাকিলে, উক্ত ভূমি একই খতিয়ানভুক্ত গণ্য করিয়া উহার ভূমি উন্নয়ন কর নির্ধারণ করিতে হইবে।”
এই আইনি বিধানের কারণে যদি কোনো যৌথ খতিয়ানে ১০ জন শরিক থাকতেন এবং তাদের মধ্যে ৯ জন কর পরিশোধে অনীহা প্রকাশ করতেন, তবে অবশিষ্ট ১ জন মালিক চাইলেও শুধুমাত্র নিজের অংশের খাজনা দিতে পারতেন না। আবার সম্পূর্ণ যৌথ খতিয়ানের কর একার পক্ষে বহন করা অসম্ভব ও অযৌক্তিক। এর ফলে তিনি নিজের জমি বিক্রয়, হেবা বা ব্যাংকে ঋণ নিতে পারতেন না। এই অচলাবস্থা নিরসনে ভূমি মন্ত্রণালয় ৬টি সুস্পষ্ট আদেশ সংবলিত পরিপত্র জারি করেছে।
২. ভূমি মন্ত্রণালয়ের ৬ দফা আদেশ ও আইনি সমাধান
উক্ত জটিলতা ও নাগরিক হয়রানি নিরসনে ভূমি মন্ত্রণালয় নিম্নবর্ণিত সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করেছে:
(ক) দাখিলা ছাড়াই বণ্টননামা দলিল বা আদালতের বাটোয়ারা ডিক্রি:
অনিবার্য কারণে যৌথ মালিকানার খতিয়ানের সম্পূর্ণ ভূমির ভূমি উন্নয়ন কর একসাথে প্রদান করা সম্ভব না হলে ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান বা দাখিলা ছাড়াই রেজিস্টার্ড বণ্টননামা দলিল বা আদালতের মাধ্যমে বণ্টননামা সম্পাদন করা যাবে। সাব-রেজিস্ট্রারগণ দাখিলার অভাবে বণ্টননামা দলিল রেজিস্ট্রি করতে অস্বীকৃতি জানাতে পারবেন না।
(খ) কর পরিশোধ ব্যতিরেকেই পৃথক খতিয়ানের নামজারি আবেদন:
বণ্টননামার ভিত্তিতে যৌথ মালিকানার খতিয়ানের এক বা একাধিক মালিক পূর্বতন ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ ব্যতিরেকেই একক/পৃথক খতিয়ান সৃজনের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর নামজারির আবেদন করতে পারবেন।
(গ) দাখিলা ছাড়াই সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্তৃক নামজারি মঞ্জুর:
সহকারী কমিশনার (ভূমি) মালিকানার সঠিকতা ও বণ্টননামা যাচাইান্তে ভূমি উন্নয়ন কর আদায় বা দাখিলা ছাড়াই নামজারির আবেদন মঞ্জুর করতে পারবেন। দাখিলা নেই এই অজুহাতে নামজারি নামঞ্জুর করা সম্পূর্ণ বেআইনি ঘোষণা করা হয়েছে।
(ঘ) পৃথক খতিয়ান সৃজনের পর নিজ হিস্যানুযায়ী বকেয়া ও চলতি কর পরিশোধ:
নামজারি অনুমোদনের পর নতুন সৃজিত খতিয়ানের মালিক তাঁর হিস্যানুযায়ী পূর্বতন যৌথ খতিয়ানের প্রযোজ্য হারের বকেয়া কর এবং চলতি বছরের হালদাবি পরিশোধ করে নিজস্ব নামে ডিজিটাল দাখিলা গ্রহণ করবেন। অন্য শরিকদের বকেয়া তাঁর উপর বর্তাবে না।
(ঙ) পৃথক খতিয়ান ব্যতীত যৌথ খতিয়ানে একক কর আদায় নিষিদ্ধ:
যৌথ খতিয়ান হতে বণ্টননামামূলে নামজারি করে পৃথক খতিয়ান সৃজন ব্যতীত কোনো মালিক এককভাবে তাঁর অংশের ভূমি উন্নয়ন কর প্রদান করতে পারবেন না। অর্থাৎ যৌথ খতিয়ানে জমা-খারিজ বা বণ্টননামা ছাড়া আংশিক কর নেওয়া হবে না।
(চ) অটোমেটেড ভূমিসেবা সিস্টেমে মডিউল সংযোজন:
অনলাইন ও অটোমেটেড ভূমিসেবা সিস্টেমে উক্ত পরিবর্তনের আলোকে সফটওয়্যারে প্রয়োজনীয় মডিউল ও ডেটা ফিচার সংযোজন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
৩. নাগরিক নির্দেশিকা: যৌথ খতিয়ান থেকে একক খতিয়ান করার ৩ ধাপ
| ধাপ | কার্যক্রম | আইনি সুরক্ষা ও সুবিধা |
|---|---|---|
| ধাপ ১: বণ্টননামা | অন্য শরিকদের সাথে আপস বণ্টননামা দলিল সম্পাদন করে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে রেজিস্ট্রি করুন অথবা আদালতে বাটোয়ারা মামলা করে ডিক্রি নিন। | পরিপত্রের দফা (ক) অনুযায়ী সাব-রেজিস্ট্রার পূর্বতন কর বা দাখিলা ছাড়াই দলিল রেজিস্ট্রি করবেন। |
| ধাপ ২: ই-নামজারি | রেজিস্টার্ড বণ্টননামা দলিল দিয়ে mutation.land.gov.bd পোর্টালে পৃথক খতিয়ান সৃজনের নামজারি আবেদন করুন। | পরিপত্রের দফা (খ) ও (গ) অনুযায়ী দাখিলা না থাকলেও AC Land নামজারি অনুমোদন করবেন। |
| ধাপ ৩: কর পরিশোধ | পৃথক নামজারি খতিয়ান ও ডিসিআর পাওয়ার পর ldtax.gov.bd-তে হোল্ডিং এন্ট্রি করে শুধু নিজের হিস্যার বকেয়া ও চলতি কর পরিশোধ করুন। | পরিপত্রের দফা (ঘ) অনুযায়ী নিজের একক নামে শতভাগ নিরাপদ ডিজিটাল দাখিলা পাওয়া যাবে। |
📥 অফিশিয়াল সরকারি পরিপত্রের মূল কপি ও PDF ডাউনলোড
ভূমি মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত মূল অফিস আদেশ ও পরিপত্রের স্বাক্ষরিত স্ক্যান কপি (স্মারক নং ৩১.০০.০০০০.০৫৭.০৬.০০৩.২৪-৭১৮) নিচে সরাসরি সংযুক্ত করা হলো। নাগরিক, আইনজীবী ও দলিল লেখকদের জন্য এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি আইনগত প্রামাণ্য দলিল:
স্মারক নং: ৩১.০০.০০০০.০৫৭.০৬.০০৩.২৪-৭১৮ | তারিখ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আকার: ১.৬০ মেগাবাইট | উৎস: ভূমি মন্ত্রণালয়
📄 এই পেজেই সরাসরি পরিপত্রের কপি দেখুন (ক্লিক করুন)


