[পরিপত্র] ভূমি অফিসে অনুপস্থিত বা নিখোঁজ নামজারি খতিয়ান পুনঃসৃজন, যাচাই ও সিস্টেমে এন্ট্রি পরিপত্র, ২০২৬: ৫ পরিস্থিতিতে রেকর্ড পুনরুদ্ধারের পূর্ণাঙ্গ এসওপি
📌 পরিপত্রের মূল নির্যাস ও তাৎপর্য:
সারা দেশে ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন ও খতিয়ান ডেটা এন্ট্রির সময় দেখা গেছে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুরসহ বহু জেলায় অতীতে সম্পন্ন হওয়া হাজার হাজার বৈধ নামজারি খতিয়ান ও নথি ভূমি অফিসে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না (অনুপস্থিত বা নিখোঁজ)। ফলে নাগরিকরা অনলাইনে খাজনা দিতে পারছিলেন না এবং জমি হস্তান্তরে ভোগান্তিতে পড়ছিলেন। এই পরিপত্রের মাধ্যমে সরকার ৫টি বাস্তব পরিস্থিতিতে রেজিস্টার-১ ও রেজিস্টার-২ (হোল্ডিং রেজিস্টার) যাচাই করে হারানো নামজারি খতিয়ান পুনঃসৃজন ও সিস্টেমে এন্ট্রির সুনির্দিষ্ট এসওপি (SOP) বাধ্যতামূলক করেছে। আগামী ২ মাসের মধ্যে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম আকারে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-গণ এই কাজ সম্পন্ন করবেন।
১. পরিপত্রের পটভূমি: ডিজিটাল ডেটা এন্ট্রি ও নিখোঁজ রেকর্ডের সংকট
ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন কার্যক্রমের আওতায় ইউএনডিপি (UNDP) বাংলাদেশ কর্তৃক মাঠ পর্যায়ে ডেটা এন্ট্রিকালে দেখা যায় যে, বহু উপজেলা ভূমি অফিসে পুরোনো নামজারি খতিয়ান অনুপস্থিত বা হারিয়ে গেছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট নামজারি কার্যক্রম যে অতীতে সম্পন্ন হয়েছিল তার দালিলিক প্রমাণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট উপজেলা ভূমি অফিসের রেজিস্টার-১ (নামজারি রেজিস্টার) এবং ইউনিয়ন ভূমি অফিসের রেজিস্টার-২ (হোল্ডিং ও নামজারি রেজিস্টার)-এ সুনির্দিষ্ট এন্ট্রি ও প্রস্তাবপত্র সংরক্ষিত রয়েছে।
সরকারি অফিসে খতিয়ানের কপি না পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট মালিকের জমি অনলাইন ডাটাবেজে অন্তর্ভুক্ত হতে পারছিল না। এর ফলে ভূমি মালিকগণ ভূমি উন্নয়ন কর দিতে পারছিলেন না এবং ব্যাংক লোন বা বিক্রয়ের ক্ষেত্রে বাধার সম্মুখীন হচ্ছিলেন। এ সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানের লক্ষ্যে ভূমি মন্ত্রণালয় ৫টি বাস্তব পরিস্থিতির আলোকে খতিয়ান পুনঃসৃজনের বিস্তারিত কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করে দিয়েছে।
২. ৫টি বাস্তব পরিস্থিতিতে খতিয়ান পুনঃসৃজনের সরকারি এসওপি (SOP)
পরিপত্রে মাঠ পর্যায়ের ভূমি কর্মকর্তাদের জন্য ৫টি ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতির জন্য সুস্পষ্ট কার্যপ্রণালী বেঁধে দেওয়া হয়েছে:
পরিস্থিতি-১: নামজারি নথি ও প্রস্তাবপত্র আছে, রেজিস্টার-১ ও ২ আছে, কিন্তু খতিয়ান নেই
পদ্ধতি: নামজারি মামলার নথির আদেশপত্র ও রেজিস্টার-১ এর সাথে তথ্যের সঠিকতা যাচাই করতে হবে। ইউনিয়ন/পৌর ভূমি অফিসের রেজিস্টার-২ এর সাথে হোল্ডিং তথ্যের মিল যাচাই করে খতিয়ান নম্বর নিশ্চিত হতে হবে। নির্ধারিত ছক অনুযায়ী সিস্টেমে এন্ট্রি ও ভ্যালিডেট করে রেজিস্টার-১, ২ ও প্রস্তাবপত্র স্ক্যান করে আপলোড করতে হবে।
পরিস্থিতি-২: নামজারি নথি, প্রস্তাবপত্র ও রেজিস্টার-১ আছে, কিন্তু খতিয়ান ও রেজিস্টার-২ নেই
পদ্ধতি: পরিস্থিতি-১ এর যাবতীয় নিয়ম অনুসরণ করে সিস্টেমে ডেটা এন্ট্রি ও আপলোড সম্পন্ন করার পর রেজিস্টার-২ হালনাগাদ করতে হবে।
পরিস্থিতি-৩: নামজারি খতিয়ান ও মূল নথি নেই, কিন্তু রেজিস্টার-১ ও রেজিস্টার-২ রয়েছে
পদ্ধতি: প্রথমে রেজিস্টার-১ এর তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করতে হবে। ভূমি অফিসের রেজিস্টার-২ এর সাথে হোল্ডিং মিলিয়ে নির্ভুলতা যাচাই করে অবশিষ্ট এন্ট্রি ও ভ্যালিডেশন সম্পন্ন করতে হবে।
পরিস্থিতি-৪: খতিয়ান ও নথি নেই, রেজিস্টার-২ তে তথ্য নেই, শুধু রেজিস্টার-১ এ তথ্য আছে
পদ্ধতি: রেজিস্টার-১ এর সঠিকতা নিশ্চিত করতে হবে। সন্দেহ থাকলে কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। ভূমি মালিককে নোটিশ দিয়ে খতিয়ানের কপি দাখিল করতে বলা যাবে। কপি পাওয়া গেলে তা সিস্টেমে যাচাই ও এন্ট্রি হবে। কপি না পাওয়া গেলে রেজিস্টার-১ এর ভিত্তিতে খতিয়ান এন্ট্রি হবে এবং রেজিস্টার-২ হালনাগাদ করা হবে।
পরিস্থিতি-৫: খতিয়ান ও নথি নেই, রেজিস্টার-১ এ তথ্য নেই, শুধু রেজিস্টার-২ তে তথ্য আছে
পদ্ধতি: রেজিস্টার-২ এর তথ্যের সঠিকতা যাচাই করতে হবে। ভূমি উন্নয়ন কর নিয়মিত পরিশোধ করা হচ্ছে কি না তা দেখে ভূমি মালিককে নোটিশ দিয়ে খতিয়ান দাখিল করতে বলা যাবে। সঠিকতা পাওয়া গেলে সিস্টেমে এন্ট্রি ও ভ্যালিডেট করতে হবে।
৩. সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর বাধ্যতামূলক প্রত্যয়ন ও সিল-স্বাক্ষর
পরিপত্রের ৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, এন্ট্রিযুক্ত খতিয়ান প্রিন্ট করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) স্বহস্তে নিম্নরূপ প্রত্যয়ন প্রদানপূর্বক স্বাক্ষর করবেন:
“খতিয়ানটি পাওয়া না যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র ও রেজিস্টার এর ভিত্তিতে দাপ্তরিক প্রয়োজন, ভূমিসেবা সিস্টেমে ডেটা এন্ট্রি ও নাগরিকদের ভূমিসেবা প্রদানের স্বার্থে পুনঃসৃজন করা হলো। ভবিষ্যতে মূল খতিয়ানটি পাওয়া গেলে সেটাই প্রতিস্থাপিত হবে।”
প্রিন্টেড খতিয়ানের ১ কপি সংশ্লিষ্ট নথিতে সংরক্ষণ করতে হবে এবং প্রতি ১০০ বা ২০০টি খতিয়ানের কপি একত্রে বাঁধাই করে সংরক্ষণ করতে হবে।
৪. গুরুত্বপূর্ণ আইনি সতর্কতা ও ২ মাসের ক্র্যাশ প্রোগ্রাম
- নতুন স্বত্ব বা নামজারি নয়: খতিয়ান পুনঃসৃজনের মাধ্যমে নতুন করে কোনো নামজারি অনুমোদন বা নতুন কোনো স্বত্ব সৃষ্টি হয়েছে মর্মে গণ্য করা যাবে না। এটি পূর্বে অনুমোদিত নামজারির খতিয়ান পুনঃসৃজন হিসেবেই বিবেচিত হবে।
- অনুমানের ভিত্তিতে সংযোজন নিষিদ্ধ: তথ্যের ক্ষেত্রে কোনো সন্দেহ বা অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হলে অনুমানের ভিত্তিতে কোনো তথ্য সংযোজন করা যাবে না। নির্ভরযোগ্য তথ্য না পাওয়া গেলে পুনঃসৃজন বন্ধ থাকবে।
- সময়সীমা: পরিপত্র জারির ২ মাসের মধ্যে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-গণ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম হিসেবে অনুপস্থিত খতিয়ান পুনঃসৃজনের এই মহাযজ্ঞ সম্পন্ন করবেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সার্বিক তদারকি করবেন।
📥 অফিশিয়াল সরকারি পরিপত্রের মূল কপি ও PDF ডাউনলোড
ভূমি মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারিকৃত মূল অফিস আদেশ ও পরিপত্রের স্বাক্ষরিত পূর্ণাঙ্গ স্ক্যান কপি (স্মারক নং ৩১.০০.০০০০.০৫৭.০৬.০০৩.২৪-৭১৯) নিচে সরাসরি সংযুক্ত করা হলো:
স্মারক নং: ৩১.০০.০০০০.০৫৭.০৬.০০৩.২৪-৭১৯ | তারিখ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আকার: ৪.১২ মেগাবাইট | উৎস: ভূমি মন্ত্রণালয়
📄 এই পেজেই সরাসরি পরিপত্রের কপি দেখুন (ক্লিক করুন)

