[পরিপত্র ও প্রজ্ঞাপন] উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত জমি নামজারি ও ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ সংক্রান্ত সমন্বিত নির্দেশিকা: যৌথ খতিয়ান বনাম পৃথক জমাভাগ নিয়মাবলী

📜 ভূমি মন্ত্রণালয় — অফিশিয়াল প্রশাসনিক পরিপত্র ও প্রজ্ঞাপন
পরিপত্রের বিষয়:
উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত জমি নামজারিকরণ ও ভূমি উন্নয়ন কর স্পষ্টীকরণ
পরিপত্র জারির তারিখ:
১৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ
জারিকারী কর্তৃপক্ষ:
ভূমি মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
আওতাভুক্ত দপ্তরসমূহ:
সকল বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, আরডিসি, এসিল্যান্ড ও তহশিলদার

📥 অফিশিয়াল সরকারি পরিপত্র ও নির্দেশিকা PDF ডাউনলোড

উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জমির নামজারি সংক্রান্ত ভূমি মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ অফিশিয়াল পরিপত্র (স্মারক নং ৩১.০০.০০০০.০৪৬.৯৯.০২০.২০.১১২) এবং আংশিক ব্যক্তি-মালিকানাধীন জমির নামজারি নির্দেশিকার প্রামাণ্য কপি নিচে সরাসরি সংযুক্ত করা হলো:

📜 উত্তরাধিকার নামজারি পরিপত্র (বণ্টননামা দলিল ছাড়া যৌথ খতিয়ান)
স্মারক নং: ৩১.০০.০০০০.০৪৬.৯৯.০২০.২০.১১২ | পৃষ্ঠা: ২ | আকার: ৮২৯ কিলোবাইট | উৎস: ভূমি মন্ত্রণালয়

📄 এই পেজেই সরাসরি পরিপত্রের কপি দেখুন (ক্লিক করুন)


📋 আংশিক ব্যক্তি ও আংশিক খাস ভূমির নামজারি ও কর আদায় নির্দেশিকা
উৎস: ভূমি মন্ত্রণালয় মাঠ প্রশাসন অনুবিভাগ | পৃষ্ঠা: ২ | আকার: ১.২ মেগাবাইট

📄 এই পেজেই সরাসরি নির্দেশিকা প্রিভিউ দেখুন (ক্লিক করুন)


পিতা-মাতা বা পূর্বপুরুষের মৃত্যুর পর ওয়ারিশদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টন ও নামজারি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ে চরম জটিলতা বিরাজ করছিল। বহু সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস এবং ইউনিয়ন ভূমি অফিসে রেজিস্ট্রিকৃত আপস বণ্টননামা দলিল না থাকলে ওয়ারিশদের নামজারির আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেওয়া হতো। এর ফলে লক্ষ লক্ষ নাগরিক নিজেদের নামে খতিয়ান তৈরি করতে পারতেন না এবং অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তেন।

নাগরিকদের এই অবর্ণনীয় দুর্ভোগ লাঘবে ভূমি মন্ত্রণালয় উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত জমি নামজারিকরণ ও কর পরিশোধের বিষয়ে অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট সমন্বিত পরিপত্র জারি করেছে। এই পরিপত্রের মাধ্যমে ওয়ারিশ সনদের ভিত্তিতে “যৌথ নামজারি” এবং রেজিস্ট্রিকৃত দলিলের মাধ্যমে “পৃথক জমাভাগ”-এর আইনি সীমারেখা সুস্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।


১. যৌথ নামজারি: বণ্টননামা দলিলের বাধ্যবাধকতা নেই

পরিপত্রের প্রধানতম ঘোষণা হলো—উত্তরাধিকার সূত্রে অর্জিত জমির ক্ষেত্রে যদি সকল ওয়ারিশ মিলে যৌথভাবে আবেদন করেন, তবে কোনো অবস্থাতেই রেজিস্ট্রিকৃত বণ্টননামা দলিল চাওয়া যাবে না।

  • ওয়ারিশ সনদের ভিত্তি: ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, পৌরসভার মেয়র অথবা সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর কর্তৃক প্রদত্ত বৈধ ওয়ারিশ সনদ (Succession Certificate)-এর ভিত্তিতেই আবেদন গৃহীত হবে।
  • হিস্যাভিত্তিক যৌথ খতিয়ান: সহকারী কমিশনার (ভূমি) মৃত ব্যক্তির রেকর্ডীয় মোট জমির বিপরীতে মুসলিম বা হিন্দু উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী প্রত্যেক ওয়ারিশের সুনির্দিষ্ট হিস্যা (Share) উল্লেখ করে একটি একক যৌথ খতিয়ান প্রস্তুত করে দেবেন।
  • খারিজ নিষিদ্ধকরণ: শুধুমাত্র আপস বণ্টননামা দলিল নেই—এই অজুহাতে কোনো এসিল্যান্ড বা নায়েব নামজারির আবেদন বাতিল বা প্রত্যাখ্যান করলে তা সরকারি আদেশ অমান্যকরণ ও অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে।

২. পৃথক নামজারি ও জমাভাগ (হিস্যা আলাদা করার নিয়ম)

ওয়ারিশগণ যদি প্রত্যেকে নিজ নিজ অংশে নির্দিষ্ট দাগের জমি চিহ্নিত করে আলাদা খতিয়ান করতে চান, তবে তার নিয়মাবলী নিম্নরূপ:

⚖️ পৃথক খতিয়ানের পূর্বশর্ত:

যদি কোনো ওয়ারিশ ভাই-বোন বা অন্যান্য শরিকদের সাথে যৌথ খতিয়ানে না থেকে শুধুমাত্র নিজের নামে পৃথক খতিয়ান (জমাভাগ/জমা একত্রীকরণ) সৃষ্টি করতে চান, তবে রেজিস্ট্রেশন আইন ১৯০৮-এর ১৭ ধারার সংশোধনী মোতাবেক সকল জীবিত ওয়ারিশের সম্মতিক্রমে “রেজিস্ট্রিকৃত আপস বণ্টননামা দলিল” দাখিল করা বাধ্যতামূলক। সাদা কাগজে বা পারিবারিক সালিশের বণ্টননামা দিয়ে পৃথক খতিয়ান করা যাবে না।

৩. যৌথ খতিয়ানে ভূমি উন্নয়ন কর (LD Tax) প্রদানের আধুনিক নিয়ম

নতুন ভূমি উন্নয়ন কর আইন ২০২৩ ও সংশ্লিষ্ট প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, যৌথ খতিয়ানের খাজনা প্রদানের ক্ষেত্রে নাগরিকবান্ধব নিয়ম চালু করা হয়েছে:

বিবেচ্য বিষয় ভূমি মন্ত্রণালয়ের সরকারি নির্দেশনা ও পদ্ধতি
যৌথ হোল্ডিং তৈরি ldtax.gov.bd পোর্টালে যৌথ খতিয়ানের সমস্ত ওয়ারিশের এনআইডি লিংক করে একটিমাত্র পারিবারিক হোল্ডিং তৈরি হবে।
যেকোনো এক ওয়ারিশের পরিশোধ অন্য ওয়ারিশরা প্রবাসে বা দূরে থাকলে যেকোনো একজন ওয়ারিশ সম্পূর্ণ জোতের ভূমি উন্নয়ন কর একসাথে অনলাইনে পরিশোধ করতে পারবেন।
কিউআর কোডযুক্ত দাখিলা অনলাইনে কর পরিশোধের সাথে সাথে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কিউআর কোড সম্বলিত ইলেকট্রনিক দাখিলা (Dakhila) প্রিন্ট করা যাবে, যা দেশের যেকোনো আদালতে ও ব্যাংকে শতভাগ গ্রহণযোগ্য।
কৃষি জমি মওকুফ সুবিধা পরিবারের মোট কৃষি জমির পরিমাণ ২৫ বিঘার নিচে থাকলে যৌথ খতিয়ানের ক্ষেত্রেও বার্ষিক ভূমি উন্নয়ন কর সম্পূর্ণ মওকুফ থাকবে।

৪. মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য বাধ্যতামূলক সময়সীমা ও আচরণবিধি

পরিপত্রে সহকারী কমিশনার (ভূমি), অতিরিক্ত ভূমি কর্মকর্তা ও সার্ভেয়ারদের জন্য কঠোর প্রশাসনিক নির্দেশ জারি করা হয়েছে:

১
সর্বোচ্চ ২৮ কার্যদিবসে নামজারি সম্পন্ন

আবেদন দাখিলের পর প্রস্তাব যাচাই, নোটিশ জারি, শুনানির তারিখ নির্ধারণ এবং চূড়ান্ত আদেশ প্রদান—এই সমস্ত ধাপ সর্বোচ্চ ২৮ কার্যদিবসের মধ্যে সমাপ্ত করতে হবে। প্রবাসীদের জরুরি আবেদনের ক্ষেত্রে সময়সীমা আরও কম।

২
শুনানির ডিজিটাল নোটিশ

আবেদনকারী ও অন্যান্য ওয়ারিশদের শুনানিতে ডাকার জন্য তাদের নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে স্বয়ংক্রিয় এসএমএস (SMS) প্রেরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নোটিশ গোপন করে কোনো নামজারি বাতিল বা অনুমোদন করা যাবে না।

৫. সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

১. বোনদের বাদ দিয়ে ভাইয়েরা কি ওয়ারিশি সম্পত্তি নামজারি করতে পারবে?
কখনোই নয়। ওয়ারিশ সনদে উল্লেখিত সকল কন্যা ও নারী ওয়ারিশদের নাম খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করা বাধ্যতামূলক। কোনো বোনকে বাদ দিয়ে নামজারি করা হলে তা জালিয়াতি হিসেবে গণ্য হবে এবং ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ আইনে ফৌজদারি অপরাধ হবে।
২. যৌথ খতিয়ান দিয়ে কি জমি বিক্রি বা ব্যাংক লোন নেওয়া যায়?
যৌথ খতিয়ানের ভিত্তিতে যেকোনো ওয়ারিশ তার নির্দিষ্ট হিস্যার জমি বিক্রি করতে পারেন। তবে সুনির্দিষ্ট দাগ ও চৌহদ্দি চিহ্নিত করতে চাইলে ক্রেতা ও অন্যান্য শরিকদের নিয়ে আপস বণ্টননামা বা বাটোয়ারা মোকদ্দমা প্রয়োজন হতে পারে।
৩. নামজারির সরকারি ফি কত?
অনলাইনে আবেদনের সরকারি কোর্ট ফি ২০ টাকা, নোটিশ জারি ফি ৫০ টাকা, রেকর্ড সংশোধন ফি ১০০০ টাকা এবং খতিয়ান সরবরাহ ফি ১০০ টাকা—সর্বমোট ১,১৭০ টাকা অনলাইনে নির্ধারিত ব্যাংকিং চ্যানেলে পরিশোধযোগ্য। এর অতিরিক্ত কোনো ফি আইনত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

📌 প্রামাণিক সরকারি সূত্র ও রেফারেন্স:

  • ভূমি মন্ত্রণালয়, মাঠ প্রশাসন অধিশাখা-২, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা।
  • পরিপত্র প্রকাশের তারিখ: ১৭ ডিসেম্বর ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ।
  • ই-নামজারি সেবা প্ল্যাটফর্ম: mutation.land.gov.bd
  • ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থাপনা সিস্টেম: ldtax.gov.bd
Back to top button