শিক্ষানবিশদের রিভিউ ফলাফল বাতিল: হাইকোর্টে শুনানি ৪ মে

ঢাকা: বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তের জেরে অনিশ্চয়তায় দিন পার করছেন ১২ শতাধিক শিক্ষানবিশ আইনজীবী। গত ২০২৫ সালের ২৩ নভেম্বর এক আকস্মিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই শিক্ষানবিশদের নিরীক্ষা বা রিভিউ ফলাফল বাতিল ঘোষণা করে বার কাউন্সিল। এই বাতিলের সিদ্ধান্তকে কেন বেআইনি ও অবৈধ ঘোষণা করা হবে না— তা নিয়ে জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানি শুরু করেছেন হাইকোর্ট।
শুনানির অগ্রগতি ও পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ
সোমবার (২৭ এপ্রিল) হাইকোর্টের বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী এবং বিচারপতি জহিরুল হকের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চে এই চাঞ্চল্যকর রিট আবেদনটির শুনানি শুরু হয়। প্রথম দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত বিষয়টির অধিকতর শুনানির জন্য আগামী ৪ মে পরবর্তী তারিখ ধার্য করেছেন। রিটকারীদের পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম. আশরাফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এদিন আদালতে শিক্ষানবিশদের আইনি লড়াইয়ে সমর্থন জানাতে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতিসহ শতাধিক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।
যেভাবে শুরু হলো আইনি জটিলতা
এই নজিরবিহীন আইনি লড়াইয়ের সূত্রপাত মূলত ২০২৫ সালের শেষের দিকে। ওই বছরের ২৫ অক্টোবর বার কাউন্সিলের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়, যেখানে ৭ হাজার ৯১৭ জন পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হন। তবে অনেকেই দাবি করেন, ভালো পরীক্ষা দেওয়া সত্ত্বেও তাদের রোল নম্বর তালিকায় আসেনি। এর প্রেক্ষিতে বার কাউন্সিল খাতা নিরীক্ষা বা রিভিউয়ের সুযোগ দিলে অনেকেই নিয়ম মেনে আবেদন করেন।
যথাযথ যাচাই-বাছাই শেষে ১৮ নভেম্বর বার কাউন্সিল সর্বসম্মতিক্রমে ১ হাজার ৯১৪ জনকে উত্তীর্ণ ঘোষণা করে। এর ফলে তারা ভাইভা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার আইনি অধিকার অর্জন করেন। কিন্তু মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে, ২৩ নভেম্বর আরেকটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পূর্বের সেই রিভিউ ফলাফল সম্পূর্ণ বাতিল ঘোষণা করে নতুন করে খাতা মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত জানায় বার কাউন্সিল।
ফলাফল বাতিলের পেছনের অসঙ্গতি
শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের ক্ষোভ চরম আকার ধারণ করে যখন চলতি বছরের (২০২৬) ৫ মার্চ বার কাউন্সিল নতুন করে রিভিউ ফলাফল প্রকাশ করে। এই নতুন তালিকায় মাত্র ১ হাজার ৫৫০ জনকে উত্তীর্ণ দেখানো হয়। সবচেয়ে বড় আপত্তির জায়গা হলো— প্রথম রিভিউতে উত্তীর্ণ হওয়া ১ হাজার ৯১৪ জনের মধ্যে ১ হাজার ২৯৪ জনকে এই নতুন তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।
রিটকারীদের আইনজীবীর দাবি, নতুন এই ফলাফলে চরম অসঙ্গতি রয়েছে। বার কাউন্সিলের বিজ্ঞপ্তি অমান্য করে তুলনামূলক কম নম্বর (৪৬ বা তার চেয়ে কম) পাওয়া ৯ শতাধিক পরীক্ষার্থীকে পাস করানো হয়েছে, যা পুরো মূল্যায়ন প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
হাইকোর্টের রুল ও ভুক্তভোগীদের প্রত্যাশা
বার কাউন্সিলের কাছে বারবার স্মারকলিপি প্রদান ও মানববন্ধন করেও কোনো সুরাহা না পেয়ে সংক্ষুব্ধ ১ হাজার ২৯৪ জনের পক্ষে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। গত ১২ মার্চ হাইকোর্ট বিষয়টির প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বার কাউন্সিলের ফলাফল বাতিলের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। একইসঙ্গে এই শিক্ষানবিশদের বিষয়ে কেন ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়।
বর্তমানে হাইকোর্টে শুরু হওয়া চূড়ান্ত শুনানির দিকেই তাকিয়ে আছেন ভুক্তভোগী শিক্ষানবিশ আইনজীবীরা। আশা করা হচ্ছে, উচ্চ আদালতের এই রায় দেশের আইনি পেশায় প্রবেশের ক্ষেত্রে একটি স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।



