বিয়ের দাবিতে সিভিল জজের বাড়িতে স্কুলশিক্ষিকার অনশন, ১১ বছরের সম্পর্কের অভিযোগ
বগুড়ার সিভিল জজ ইউনুস আলীর সঙ্গে দীর্ঘ ১১ বছরের প্রেমের সম্পর্কের দাবি করে বিয়ের দাবিতে তাঁর লালমনিরহাটের গ্রামের বাড়িতে অবস্থান নিয়ে অনশন কর্মসূচি পালন করছেন এক স্কুলশিক্ষিকা। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সম্পর্ক বজায় রাখার পর সম্প্রতি পরিবারসহ বিচারক অন্যত্র বিয়ের তোড়জোড় শুরু করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন ওই নারী।
অনশনরত ওই শিক্ষিকার নাম আনিকা তাবাসসুম প্রাপ্তি। তিনি লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার টংভাঙ্গা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পোস্ট অফিস এলাকার বাসিন্দা জাকির হোসেন লস্করের মেয়ে। প্রাপ্তি বর্তমানে রংপুরের হারাগাছ উচ্চবিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। অন্যদিকে অভিযুক্ত সিভিল জজ ইউনুস আলী একই ইউনিয়নের জহির মোড় এলাকার বাসিন্দা জয়নায়ল আবেদীনের চতুর্থ ছেলে।
অভিযোগ ও অনশনের পটভূমি
গত শুক্রবার দুপুরে বিচারক ইউনুস আলীর গ্রামের বাড়িতে উপস্থিত হয়ে অনশন শুরু করেন আনিকা তাবাসসুম প্রাপ্তি। ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। অনশনরত শিক্ষিকাকে দেখতে প্রতিদিন আশপাশের উৎসুক স্থানীয় লোকজন বিচারকের বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন।
শিক্ষিকা প্রাপ্তির দাবি, ইউনুস আলীর সঙ্গে তাঁর প্রায় ১১ বছরের দীর্ঘ প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে বিয়ের সরাসরি প্রতিশ্রুতি দিয়ে ইউনুস তাঁর সঙ্গে একাধিকবার মেলামেশা করেছেন। তবে সম্প্রতি তিনি নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানতে পারেন যে দীর্ঘদিনের এই প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি সম্পূর্ণ গোপন রেখে ইউনুস আলী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা গোপনে অন্যত্র বিয়ের জন্য পাত্রী দেখা শুরু করেছেন।
তিনি জানান, অন্য জায়গায় বিয়ের উদ্যোগ নেওয়ার খবর পাওয়ার পর কোনো উপায় না পেয়ে গত শুক্রবার দুপুরে তিনি ইউনুস আলীর বাড়িতে সরাসরি গিয়ে অবস্থান নেন। তবে ওই শিক্ষিকা বাড়িতে উপস্থিত হওয়ার খবর পেয়েই সিভিল জজ ইউনুস আলী সেখান থেকে দ্রুত গা-ঢাকা দেন বা চলে যান বলে দাবি করা হয়েছে।
পরিবারের আশ্বাস ও শিক্ষিকার অনড় অবস্থান
অনশনরত ওই শিক্ষিকাকে শান্ত করতে এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে ইউনুস আলীর বড় ভাই হযরত আলী কথা বলেছেন। তিনি জানান, পুরো ঘটনাটি নিয়ে তাঁদের পরিবার অত্যন্ত বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছে। একই সঙ্গে তিনি আশ্বাস দেন যে ইউনুস আলী দুই-এক দিনের মধ্যে বাড়িতে ফিরে এলে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের বিয়ের রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করা হবে।
তবে বিচারকের পরিবারের এমন আশ্বাসে কোনোভাবেই আস্থা রাখতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন প্রাপ্তি। তাঁর বক্তব্য, অতীতেও দীর্ঘদিন ধরে বিয়ের কথা বলে তাঁকে নানাভাবে ফাঁকি দেওয়া ও সময়ক্ষেপণ করা হয়েছে। ফলে সিভিল জজ ইউনুস আলী নিজে সশরীরে এসে সরাসরি বিয়ে না করা পর্যন্ত তিনি বিচারকের বাড়ি ছেড়ে যাবেন না এবং অনশন চালিয়ে যাবেন।
মীমাংসার চেষ্টা ও পুলিশের বক্তব্য
এ ঘটনা প্রসঙ্গে স্থানীয় সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে পুরো এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে দ্রুত একটি সম্মানজনক সমাধানের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
হাতীবান্ধা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মোশাররফ হোসেন জানান, ঘটনাটি সম্পর্কে পুলিশ অবহিত রয়েছে। তবে বিচারকের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে পুরো বিষয়টি পারিবারিকভাবে আপসের মাধ্যমে নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এখন পর্যন্ত অনশনরত শিক্ষিকা বা তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


