ফেনী ইউনিভার্সিটিতে প্রথমবারের মতো জাতীয় আইন সম্মেলন, গবেষণাপত্র আহ্বান
দেশের আইন ও গবেষণাঙ্গনে জ্ঞানচর্চার প্রসার, নতুন গবেষণার বিকাশ এবং সমসাময়িক বৈশ্বিক ও জাতীয় আইনি চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে গঠনমূলক একাডেমিক আলোচনা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ফেনী ইউনিভার্সিটিতে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘জাতীয় আইন সম্মেলন ২০২৬’। এই সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক, শিক্ষক, আইন পেশাজীবী ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে গবেষণাপত্রের সারসংক্ষেপ আহ্বান করা হয়েছে।
সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ও একাডেমিক লক্ষ্য
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবারের সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘সীমানার ঊর্ধ্বে আইন: পরিবর্তনশীল বিশ্বে সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা’। সমসাময়িক বিশ্বে ভৌগোলিক সীমারেখা পেরিয়ে আন্তর্জাতিক আইন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং সুশাসনের যেসব সংকট তৈরি হচ্ছে, তা গভীরভাবে পর্যালোচনাই এই সম্মেলনের অন্যতম লক্ষ্য। বিশেষ করে দ্রুত পরিবর্তনশীল ভূ-রাজনীতি, তথ্যপ্রযুক্তির অভাবনীয় বিকাশ এবং পরিবেশগত বিপর্যয়ের মতো জটিল ইস্যুগুলো কীভাবে প্রচলিত আইনকাঠামোকে চ্যালেঞ্জ করছে, তা বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় প্রাধান্য পাবে।
গবেষণার ক্ষেত্রসমূহ
সম্মেলনে উপস্থাপনের জন্য বহুমুখী বিষয়ের ওপর গবেষণাপত্র আহ্বান করা হয়েছে। উল্লেখযোগ্য ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক
- মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইন
- আন্তর্জাতিক অপরাধ, শরণার্থী সুরক্ষা ও রাষ্ট্রহীনতা সংকট
- পরিবেশগত ন্যায়বিচার ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত আইনি সমস্যা
- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক আইনব্যবস্থা
আয়োজক প্রতিনিধিদের প্রত্যাশা, এই আয়োজন বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক গবেষক, শিক্ষক ও ভবিষ্যৎ আইনজীবীদের মধ্যে অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান আদান-প্রদানের একটি সেতুবন্ধ তৈরি করবে। নতুন গবেষকেরা তাঁদের গবেষণালব্ধ পর্যবেক্ষণ উপস্থাপন করতে পারবেন এবং অভিজ্ঞ আইনজ্ঞদের মতামতের মাধ্যমে সমসাময়িক আইনি সংকটের টেকসই সমাধান খোঁজার সুযোগ পাবেন। বিশেষ করে মানবাধিকার, শরণার্থী আইন, পরিবেশ আইন এবং প্রযুক্তির সঙ্গে আইনের ক্রমবর্ধমান সম্পর্কের বিষয়ে আগ্রহী তরুণদের জন্য সম্মেলনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
গবেষকদের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা
গবেষণার উৎকর্ষ সাধন, একাডেমিক আগ্রহ বৃদ্ধি এবং তরুণদের অনুপ্রাণিত করতে সম্মেলনে চার ক্যাটাগরিতে সম্মানজনক পুরস্কারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পুরস্কারগুলো হলো—
- শ্রেষ্ঠ গবেষণাপত্র পুরস্কার
- প্রতিটি আলোচনাপর্বের শ্রেষ্ঠ উপস্থাপক পুরস্কার
- উদীয়মান গবেষক পুরস্কার
- গবেষণায় অসামান্য অবদান পুরস্কার
এ ছাড়াও সম্মেলনের প্রচারণা ও সফল আয়োজনে সক্রিয় ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে ক্যাম্পাস প্রতিনিধিদের জন্যও ‘শ্রেষ্ঠ ক্যাম্পাস প্রতিনিধি পুরস্কার’ প্রদান করা হবে।
আবেদনের নিয়মাবলি ও গুরুত্বপূর্ণ তারিখ
আগ্রহী গবেষকদের নিজ নিজ বিষয়ের সর্বোচ্চ ৩০০ শব্দের মধ্যে একটি সারসংক্ষেপ প্রস্তুত করে জমা দিতে হবে। সারসংক্ষেপের সঙ্গে গবেষণার মূল দিক নির্দেশক তিন থেকে পাঁচটি প্রাসঙ্গিক মূল শব্দ (কি-ওয়ার্ড) যুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
সম্মেলন সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ সময়সূচি নিম্নরূপ—
- সারসংক্ষেপ জমার শেষ তারিখ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬
- গৃহীত সারসংক্ষেপের ফলাফল ঘোষণা: ৯ নভেম্বর ২০২৬
- পূর্ণাঙ্গ গবেষণাপত্র জমার শেষ সময়: ১৫ নভেম্বর ২০২৬
- সম্মেলন অনুষ্ঠানের তারিখ: ২০ নভেম্বর ২০২৬
আয়োজক ও যোগাযোগের মাধ্যম
জাতীয় পর্যায়ের এই গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক আয়োজনটির সার্বিক দায়িত্বে রয়েছে ফেনী ইউনিভার্সিটি ল’ মুটিং সোসাইটি (ফুলমস)। আয়োজকরা জানান, আগ্রহীরা সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক প্রচারপত্রে দেওয়া কিউআর কোড স্ক্যান করে সরাসরি সারসংক্ষেপ জমাদানের বিস্তারিত নির্দেশনা ও নিয়মাবলি জানতে পারবেন।
এ ছাড়া সংগঠনটির প্রাতিষ্ঠানিক ওয়েবসাইট www.fulmos.org অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ই-মেইল fulmos2019@feniuniversity.ac.bd-এর মাধ্যমে যে কেউ সম্মেলনের যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ ও যোগাযোগ করতে পারবেন। গবেষণাভিত্তিক মুক্ত জ্ঞানচর্চার বিকাশ এবং দেশের আইন অঙ্গনকে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে এগিয়ে নিতে এই সম্মেলন অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।


