বার কাউন্সিলের লিখিত পরীক্ষার প্রথম রিভিউয়ে উত্তীর্ণদের ভাইভা নেওয়ার সিদ্ধান্ত
বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির (এনরোলমেন্ট) লক্ষ্যে লিখিত পরীক্ষার রিভিউ ফলাফলের বিষয়ে দেওয়া হাইকোর্টের রায়ের আলোকে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের ভাইভা বা মৌখিক পরীক্ষা নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রিট আবেদনকারী প্রার্থীদের পাশাপাশি হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী যারা রিট করেননি কিন্তু প্রথম রিভিউ ফলে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন, তাদেরও ভাইভা গ্রহণের আওতায় আনা হবে।
সোমবার (৫ অক্টোবর ২০২৬) অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট কমিটির এক বিশেষ সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তবে মৌখিক পরীক্ষা শুরুর সুনির্দিষ্ট তারিখ ও সময়সূচি তাৎক্ষণিকভাবে ঘোষণা করা হয়নি; এটি পরবর্তীতে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে বলে জানানো হয়েছে। বার কাউন্সিলের সচিব (জেলা ও দায়রা জজ) মোহাম্মদ কামাল হোসেন শিকদারের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের তথ্য প্রকাশ করা হয়।
এনরোলমেন্ট কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত
বিজ্ঞপ্তির তথ্যানুযায়ী, ৫ অক্টোবর বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট কমিটির সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন এনরোলমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হক।
উক্ত গুরুত্বপূর্ণ সভায় কমিটির সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মোহাম্মদ আলী এবং বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল ও বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস (কাজল)। এছাড়া কার্যক্রমে সাচিবিক দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বার কাউন্সিলের সচিব মোহাম্মদ কামাল হোসেন শিকদার।
সভায় উচ্চ আদালতে দায়ের হওয়া রিট পিটিশন নম্বর ৩৩৭৪/২০২৬ এবং এর সঙ্গে সম্পৃক্ত রিট পিটিশন নম্বর ৩৩৭৫/২০২৬, ৩৩৭৮/২০২৬ ও ৩৩৭৯/২০২৬-এ দেওয়া মহামান্য হাইকোর্টের রায় বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়। দীর্ঘ পর্যালোচনার পর রায়ের নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে রিট আবেদন-সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের এনরোলমেন্ট ভাইভা পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ভাইভা গ্রহণের তারিখ ও সময় পরবর্তীতে জানানো হবে।
হাইকোর্টের রায় ও প্রথম রিভিউ ফল বাতিলের প্রেক্ষাপট
এর আগে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে আইনজীবী হিসেবে সনদ প্রাপ্তির লিখিত পরীক্ষা সংক্রান্ত গত বছরের ১৮ নভেম্বর প্রকাশিত প্রথম রিভিউ ফল বাতিলের সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে ওই ফল বাতিল করে আবেদনকারীদের এনরোলমেন্ট প্রক্রিয়া থেকে বাদ দেওয়ার পদক্ষেপকে আইনগত কর্তৃত্ববিহীন ঘোষণা করে রায় দেন আদালত।
হাইকোর্টের রায়ে স্পষ্টভাবে রিট আবেদনকারী প্রার্থীদের মৌখিক বা ভাইভা পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি এনরোলমেন্ট কমিটিকে নিজেদের সুবিধাজনক সময় অনুযায়ী একটি যুক্তিসঙ্গত সময়ের মধ্যে ভাইভা পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণের নির্দেশনা প্রদান করা হয়। এছাড়া প্রথম রিভিউ ফলের ভিত্তিতে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও যেসব প্রার্থী আদালতে রিট দায়ের করেননি, তাদের ক্ষেত্রেও বৈষম্য না করে রিট আবেদনকারীদের মতো একইভাবে ভাইভা পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত।
গত ৮ জুলাই বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন। এর আগে গত ১০ জুন বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ বিষয়ে জারি করা রুল যথাযথ (অ্যাবসলিউট) ঘোষণা করে প্রথম রিভিউ ফল বাতিলের সিদ্ধান্তকে অবৈধ বলে রায় দিয়েছিলেন।
৬৩২ পরীক্ষার্থীর রিট ও দ্বিতীয় রিভিউ
নথি অনুযায়ী, বার কাউন্সিলে আইনজীবী সনদ পাওয়ার লিখিত পরীক্ষা সংক্রান্ত গত বছরের ১৮ নভেম্বর প্রকাশিত রিভিউ ফলাফল বাতিলের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সংক্ষুব্ধ ৬৩২ জন পরীক্ষার্থী উচ্চ আদালতে রিট দায়ের করেছিলেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৪ নভেম্বর বার কাউন্সিল ১৮ নভেম্বরের রিভিউ ফলাফল বাতিল করার ঘোষণা দেয় এবং প্রতিটি প্রার্থীর লিখিত পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনরায় মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত নেয়। পরবর্তীতে সেই সিদ্ধান্তের আলোকে দ্বিতীয় রিভিউয়ের ফলাফল প্রকাশ করা হয় এবং সেই ফলাফলে উত্তীর্ণদের ভাইভা পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়। তবে প্রথম রিভিউতে উত্তীর্ণ বহু প্রার্থী বাদ পড়ায় তারা আদালতের শরণাপন্ন হন। আদালতে পরীক্ষার্থীদের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল এবং ব্যারিস্টার এম আশরাফুল ইসলাম।


