কাবিননামার প্রত্যয়িত নকল: হারানো কপি সংগ্রহের নিয়ম
কাবিননামা হারিয়ে গেলে বা পুরোনো কপি পড়া না গেলে সাধারণত নতুন করে বিয়ে বা নতুন তারিখে কাবিন করার প্রয়োজন হয় না। যে নিবন্ধন বহিতে বিয়ের এন্ট্রি আছে, সেখান থেকে প্রত্যয়িত নকল সংগ্রহের ব্যবস্থা জানতে হয়। কাজী অফিস, বিবাহের তারিখ ও রেজিস্টারের তথ্য জানা থাকলে খোঁজ সহজ হয়।
প্রথম কপি ও পরে তোলা নকলের পার্থক্য
মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) আইন, ১৯৭৪-এর ৯ ধারা অনুযায়ী নিবন্ধন সম্পন্ন হলে পক্ষদের নিবন্ধন এন্ট্রির প্রত্যয়িত কপি দিতে হয় এবং সেই প্রথম কপির জন্য কোনো চার্জ নেওয়া যাবে না। পরবর্তী সময়ে বহি পরিদর্শন বা এন্ট্রির নকলের বিষয়ে ১৩ ধারায় নির্ধারিত ফি, যদি থাকে, সাপেক্ষে ব্যবস্থা আছে। প্রথম কপি বিনামূল্যে হওয়ার নিয়ম থেকে সব পরবর্তী নকলও বিনামূল্যে—এ সিদ্ধান্ত আসে না।
কোন অফিসে যোগাযোগ করবেন?
প্রথমে বিয়ে নিবন্ধনকারী লাইসেন্সপ্রাপ্ত নিকাহ রেজিস্ট্রারের অফিসে যোগাযোগ করুন। শুধু অনুষ্ঠান পরিচালনাকারী ব্যক্তির নাম জানা থাকলে তিনি নিজে নিবন্ধন করেছিলেন কি না খুঁজে দেখুন। আইনের ৫ ধারায় নিকাহ রেজিস্ট্রার নিজে বিয়ে পড়ালে তাৎক্ষণিক নিবন্ধনের নিয়ম এবং অন্য কেউ পড়ালে বরকে ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রারকে জানানোর নিয়ম রয়েছে।
কাজী মারা গেছেন, অবসর নিয়েছেন বা দায়িত্বে নেই? ১২ ধারা অনুযায়ী সম্পূর্ণ বহি বা দায়িত্ব ছাড়ার সময় বহি Registrar-এর হেফাজতে যাওয়ার বিধান আছে। সংশ্লিষ্ট জেলা রেজিস্ট্রার অফিসে বহির অবস্থান জানতে আবেদন করুন। বর্তমান কাজীর অফিসেই সব পুরোনো বহি থাকবে—এমন ধরে নেবেন না।
নকল সংগ্রহের ধাপ
- এন্ট্রির সূত্র জোগাড় করুন: বর-কনের নাম, পরিচয় ও ঠিকানা, বিয়ের তারিখ, নিবন্ধনের এলাকা, কাজীর নাম এবং জানা থাকলে বহি, পৃষ্ঠা বা ক্রমিক নম্বর লিখুন। পুরোনো ছবি বা ফটোকপি থাকলে সঙ্গে রাখুন।
- বহির হেফাজত নিশ্চিত করুন: সংশ্লিষ্ট নিকাহ রেজিস্ট্রার অথবা জেলা রেজিস্ট্রার অফিসকে এন্ট্রি খুঁজতে বলুন।
- আবেদন দিন: কোন নিবন্ধনের প্রত্যয়িত নকল চান তা স্পষ্ট করে লিখুন। প্রয়োজনীয় পরিচয় যাচাই ও অফিসের নির্ধারিত ফরম অনুসরণ করুন।
- ফি যাচাই করুন: প্রযোজ্য সরকারি নকল বা তল্লাশি ফি কোন বিধান অনুযায়ী চাওয়া হচ্ছে এবং রসিদ পাওয়া যাবে কি না জেনে নিন। অনুবাদ, কুরিয়ার বা অন্য সেবার খরচ আলাদা করে দেখুন।
- প্রত্যয়িত নকল মিলিয়ে নিন: নাম, তারিখ, দেনমোহর, উসুল, স্বাক্ষর ও এন্ট্রির তথ্য পরীক্ষা করুন। প্রত্যয়নকারী কর্মকর্তা, সিল ও এন্ট্রি শনাক্তের তথ্য দেখুন।
আবেদনের একটি সাধারণ কাঠামো
বরাবর: সংশ্লিষ্ট নিকাহ রেজিস্ট্রার/জেলা রেজিস্ট্রার
বিষয়: বিবাহ নিবন্ধন এন্ট্রির প্রত্যয়িত নকলের আবেদন।আমি [নাম], [পরিচয় ও ঠিকানা]। [বরের নাম] ও [কনের নাম]-এর [বিয়ের তারিখ]-এ সংঘটিত এবং [এলাকা/অফিস]-এ নিবন্ধিত বিবাহের প্রত্যয়িত নকল চাই। জানা বহি/পৃষ্ঠা/ক্রমিক নম্বর: [তথ্য]। নকল প্রয়োজনের কারণ: [কারণ]। সংযুক্তি: [প্রাসঙ্গিক পরিচয় ও পুরোনো কপি]।
তারিখ, আবেদনকারীর স্বাক্ষর ও যোগাযোগ।
এটি সাহায্যকারী কাঠামো; অফিসের নির্ধারিত আবেদনপত্র থাকলে সেটিই ব্যবহার করুন। মূল পরিচয়পত্র জমা রেখে যাওয়ার আগে অফিসের নিয়ম ও প্রাপ্তিস্বীকার বুঝে নিন।
এন্ট্রি পাওয়া না গেলে
অন্য বানান, সম্ভাব্য নিবন্ধনের তারিখ, সঠিক এলাকা ও বহির হেফাজত ধরে পুনরায় অনুসন্ধান করুন। বিয়ে সত্যিই নিবন্ধিত হয়েছিল কি না আলাদা প্রশ্ন। “এন্ট্রি পাইনি” মানেই “বিয়ে হয়নি”—এ সিদ্ধান্ত দেওয়া যায় না; আবার নিবন্ধন না থাকলে মিথ্যা তারিখ বা ভুয়া কাবিননামা বানানোও সমাধান নয়। প্রমাণ ও প্রয়োজন অনুযায়ী আইনজীবীর পরামর্শ নিন।
নামে ভুল বা বিদেশে ব্যবহারের প্রয়োজন
নকল পুরোনো এন্ট্রির তথ্য বহন করে। এন্ট্রিতে ভুল থাকলে নকলের ওপর নিজে কাটাকাটি বা সম্পাদনা করবেন না; দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসে সংশোধনের প্রক্রিয়া জানতে হবে। বিদেশে ব্যবহারে অনুবাদ, সত্যায়ন বা বৈধকরণের প্রয়োজন গন্তব্য দেশের কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী যাচাই করুন। বাংলা নকল, ইংরেজি অনুবাদ ও মূল এন্ট্রির প্রত্যয়ন একই জিনিস নয়।
প্রশ্নোত্তর
কাবিননামা হারালে কি জিডি করতেই হবে?
১৯৭৪ আইনের ১৩ ধারা নকলের জন্য সবার ক্ষেত্রে জিডিকে সাধারণ পূর্বশর্ত করে না। নথির অপব্যবহার বা নির্দিষ্ট অফিসের পরিচয় যাচাইয়ের প্রয়োজন হলে জিডি প্রাসঙ্গিক হতে পারে; অফিসে প্রয়োজনটি জেনে নিন।
কাজী মারা গেলে কপি কোথায় পাব?
বহি কোথায় হস্তান্তর হয়েছে জানতে সংশ্লিষ্ট জেলা রেজিস্ট্রার অফিসে যোগাযোগ করুন। ১৯৭৪ আইনের ১২ ধারায় বহি Registrar-এর হেফাজতে যাওয়ার বিধান আছে।
ফটোকপিই কি প্রত্যয়িত নকল?
সাধারণ ফটোকপি আর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের প্রত্যয়িত নিবন্ধন এন্ট্রির নকল এক নয়। গ্রহণকারী আদালত বা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন অনুযায়ী কপি সংগ্রহ করুন।
আরও পড়ুন: বিবাহ নিবন্ধনের ধাপ ও ফি, দেনমোহর দাবি ও উসুল। সূত্র যাচাই: ২ নভেম্বর ২০২৬।
