ব্যক্তিগত কেনা জমি সরকারি খতিয়ান বা অর্পিত সম্পত্তিতে অন্তর্ভুক্তি বেআইনি: এসি ল্যান্ডের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের যুগান্তকারী রায়
আইনি সারসংক্ষেপ: রাজস্ব কর্তৃপক্ষের ক্ষমতার সীমা ও নাগরিকের সম্পত্তির সাংবিধানিক অধিকার
রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন (SAT Act), ১৯৫০-এর ১৪৩ ধারা অনুযায়ী সহকারী কমিশনার (ভূমি) কেবল রেকর্ড সংশোধন বা নামজারির ক্ষমতা রাখেন, কিন্তু কোনো অবস্থাতেই তিনি বিচারিক আদালতের মতো কারো মূল দলিলি স্বত্ব (Title) বাতিল বা নির্ধারণ করতে পারেন না। কোনো নাগরিকের বৈধ খরিদকৃত ও দখলে থাকা জমিকে যথাযথ নোটিশ, শুনানি এবং অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনের সুস্পষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে একতরফাভাবে সরকারি ১ নং খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত করা সংবিধানের ৪২ অনুচ্ছেদে স্বীকৃত সম্পত্তির মৌলিক অধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন।
১. মামলার পরিচিতি ও আদালত
মহামান্য বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের দেওয়ানি আপিল জুরিসডিকশনে শুনানি সম্পন্ন হয়। রায় প্রদান করেন মাননীয় বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান এবং মাননীয় বিচারপতি তামান্না রহমান খালিদী। সহকারী কমিশনার (ভূমি), খুলনা এবং জেলা প্রশাসনের আদেশের বিরুদ্ধে যুগ্ম জেলা জজ আদালতে স্বত্ব ঘোষণার মোকদ্দমায় সংক্ষুব্ধ হয়ে বাদী এস এম জাহাঙ্গীর হাবিব এই ফার্স্ট আপিল দায়ের করেন।
২. বিরোধের মূল ঘটনা
বাদী এস এম জাহাঙ্গীর হাবিব সিএস ও এসএ রেকর্ডীয় মূল মালিকদের নিকট থেকে উপযুক্ত মূল্যে রেজিস্ট্রি কবলা দলিলের মাধ্যমে জমি খরিদ করে ভোগদখলে থাকেন এবং নিয়মিত সরকারি খাজনা পরিশোধ করে আসছিলেন। পরবর্তী জরিপের সময় স্থানীয় ভূমি অফিসের কর্মচারীদের যোগসাজশে উক্ত জমিকে ‘অর্পিত সম্পত্তি’ (Vested Property) মর্মে প্রচার করে সরকারি ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত করা হয় এবং বাদীর নামজারি জমাভাগ বাতিল করা হয়।
৩. মহামান্য হাইকোর্টের কড়া পর্যবেক্ষণ
ডিভিশন বেঞ্চ রায় প্রদানকালে উল্লেখ করেন যে, অর্পিত সম্পত্তি ঘোষণা করতে হলে ১৯৬৫ সালের প্রতিরক্ষা বিধি এবং পরবর্তী অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন অনুসারে সম্পত্তিটি শত্রুর সম্পত্তি হিসেবে গেজেটভুক্ত থাকতে হয়। কোনো প্রকার সরকারি গেজেট বা প্রমাণপত্র ব্যতিরেকে কোনো রাজস্ব কর্মকর্তা নিজ ক্ষমতাবলে কোনো ব্যক্তির বংশানুক্রমিক বা খরিদকৃত সম্পত্তিকে ১ নং খতিয়ানভুক্ত করতে পারেন না। এ জাতীয় খেয়ালখুশিমতো পদক্ষেপ বেআইনি, এখতিয়ারবিহীন (Without jurisdiction) এবং বাতিলযোগ্য।
৪. চূড়ান্ত রায় ও সরকারের প্রতি নির্দেশ
মহামান্য হাইকোর্ট ডিভিশন ফার্স্ট আপিলটি মঞ্জুর করেন এবং বিতর্কিত জমিকে সরকারি ১ নং খতিয়ানভুক্ত করার আদেশকে অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করেন। একই সাথে বাদীর নামে পূর্বের নামজারি রেকর্ড পুনর্বহাল এবং খাজনা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
৫. ভূমির মালিকদের জন্য পরামর্শ
- খতিয়ান হালনাগাদ রাখুন: নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) প্রদান করুন এবং দাখিলা সংরক্ষণ করুন।
- ১ নং খাস খতিয়ানে গেলে করণীয়: জমি হঠাৎ করে সরকারি ১ নং খতিয়ানে দেখা গেলে বিলম্ব না করে দেওয়ানি আদালতে স্বত্ব ঘোষণার মামলা (Title Suit) করুন।
- এসি ল্যান্ডের নোটিশ: নামজারি বাতিলের কোনো নোটিশ পেলে শুনানিতে আইনজীবীর মাধ্যমে উপস্থিত হয়ে দলিল ও পূর্বের রেকর্ড প্রদর্শন করুন।
৬. অফিসিয়াল তথ্য ও রেফারেন্স
| মামলা নম্বর | First Appeal No. 639 of 2019 |
| বিচারপতি বেঞ্চ | Mr. Justice S M Kuddus Zaman & Ms. Justice Tamanna Rahman Khalidi |
| আইন ও ধারা | State Acquisition and Tenancy Act, 1950 Sec 143; Vested Property Return Act; Constitution Article 42 |
| অফিশিয়াল কপি | সুপ্রিম কোর্ট ওয়েবসাইট থেকে মূল রায় (PDF) ডাউনলোড করুন |

