বাটোয়ারা মামলায় রেজিস্ট্রিকৃত বণ্টননামা দলিল না থাকলে মৌখিক আপস বণ্টনের দাবি আইনত অচল, আদালতের মাধ্যমে নতুন সাহাম বণ্টনের রায়: হাইকোর্ট
⚖️ মামলার সারসংক্ষেপ ও চূড়ান্ত আইনি সিদ্ধান্ত
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ল্যান্ডমার্ক সিদ্ধান্ত: সহ-শরিকদের মধ্যে স্থাবর সম্পত্তির চূড়ান্ত বণ্টন প্রমাণের জন্য রেজিস্ট্রিকৃত বণ্টননামা দলিল অপরিহার্য। রেজিস্ট্রিকৃত দলিল ব্যতীত কোনো সহ-শরিকের সুবিধাজনক বা একক দখলে থাকা সম্পত্তিকে ‘মৌখিক আপস বণ্টন’ হিসেবে গণ্য করে বাটোয়ারা মামলা খারিজ করা যাবে না। আদালত নতুন করে আইনানুগ সাহাম বণ্টন করতে বাধ্য। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের এই সিদ্ধান্ত দেশের আইন অঙ্গনে একটি ঐতিহাসিক ও ল্যান্ডমার্ক দিকনির্দেশনা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা বিচারপ্রার্থী ও সাধারণ নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষায় এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করছে।
বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চল ও শহরতলিতে পৈতৃক এজমালি সম্পত্তি বণ্টনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে জটিল আইনি বিবাদের সৃষ্টি হয় তথাকথিত ‘পারিবারিক মৌখিক বণ্টন’ বা ‘আপস বণ্টন’ নিয়ে। প্রায়শই দেখা যায়, পিতার মৃত্যুর পর সুযোগসন্ধানী ভাইয়েরা রাস্তার পাশের মূল্যবান জমি, বাণিজ্যিক প্লট বা ভিটা জমি নিজেদের সুবিধামতো মৌখিক সমঝোতার কথা বলে একচেটিয়া দখলে নিয়ে নেন এবং বোনদের বা দুর্বল শরিকদের পেছনের ডোবা, নিচু বা অনাবাদি জমি বুঝিয়ে দেন। পরবর্তীতে সংক্ষুব্ধ সহ-শরিক যখন দেওয়ানি আদালতে বাটোয়ারা মোকদ্দমা দায়ের করেন, তখন দখলদার শরিকরা দাবি করেন যে বহু বছর পূর্বেই পারিবারিকভাবে মৌখিক আপস বণ্টন সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে, সুতরাং নতুন করে বাটোয়ারা মামলা আইনত অচল। অত্র রায়ে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ রেজিস্ট্রেশন আইন এবং সুপ্রিম কোর্টের দীর্ঘ আইনি নজিরের আলোকে এই ধরনের অন্যায্য ও একতরফা মৌখিক বণ্টনের দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে ঘোষণা করেছেন।
মামলার বিবরণে প্রকাশ, ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা মৌজার অন্তর্ভুক্ত মোট ২ একর ৮০ শতাংশ পৈতৃক এজমালি জমি নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত। মূল মালিক মৃত আব্দুল কাদের ভূঁইয়ার মৃত্যুর পর তাঁর দুই পুত্র (দরখাস্তকারী পক্ষ) এবং দুই কন্যা (প্রতিপক্ষ বাদী পক্ষ) সম্পত্তির যৌথ ওয়ারিশ হিসেবে মালিকানা লাভ করেন। বাদী বোনদের অভিযোগ ছিল, ভাইয়েরা বাবার মৃত্যুর পর রাস্তার সামনের ১ একর ২০ শতাংশ মূল্যবান বাণিজ্যিক সম্ভাবনাময় জমি সম্পূর্ণ নিজেদের দখলে রেখে ব্যবসা ও বাড়িঘর নির্মাণ করেছেন এবং বোনদেরকে কোনো সুনির্দিষ্ট অংশ বুঝিয়ে দিচ্ছেন না। বাদীগণ স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে রেজিস্ট্রিকৃত বণ্টননামা দলিল সম্পাদনের বারবার অনুরোধ করলেও ভাইয়েরা তা প্রত্যাখ্যান করেন। নিরুপায় হয়ে বাদী রোকেয়া বেগম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে বাটোয়ারার প্রাথমিক ডিক্রির দাবিতে বাটোয়ারা মোকদ্দমা দায়ের করেন।
যুগ্ম জেলা জজ আদালতে দরখাস্তকারী ভাইয়েরা লিখিত জবাব দাখিল করে মোকদ্দমার তীব্র বিরোধিতা করেন। তাদের মূল দাবি ছিল, বিগত ২০০২ সালে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে সালিশে পারিবারিকভাবে মৌখিক বণ্টন অনুষ্ঠিত হয় এবং সেই মোতাবেক উভয় পক্ষ নিজ নিজ অংশের দখলে আছেন। যেহেতু একবার মৌখিক বণ্টন সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে, সেহেতু নতুন করে বাটোয়ারা মামলা চলতে পারে না।
বিচারিক যুগ্ম জেলা জজ আদালত সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ শেষে ভাইদের মৌখিক বণ্টনের দাবি সরাসরি নাকচ করে বাদীর পক্ষে প্রাথমিক ডিক্রি (Preliminary Decree) প্রদান করেন। আদালত নির্দেশ দেন যে, পক্ষগণ আগামী ৩০ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রিকৃত বণ্টননামা সম্পাদন করবেন, অন্যথায় কোর্ট কমিশনার নিয়োগের মাধ্যমে পরিমাপপূর্বক পৃথক সাহাম চিহ্নিত করে চূড়ান্ত ডিক্রি দেওয়া হবে।
উক্ত ডিক্রির বিরুদ্ধে বিবাদী ভাইয়েরা জেলা জজ আদালতে দেওয়ানি আপিল দায়ের করেন। বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা জজ ভুলবশত অভিমত দেন যে, যেহেতু বিবাদীগণ দীর্ঘ ২০ বছর ধরে নির্দিষ্ট জমিতে বাড়ি নির্মাণ করে শান্তিপূর্ণ দখলে আছেন, সেহেতু মৌখিক বণ্টনকে সম্মান জানানো উচিত। জেলা জজ আদালত প্রাথমিক ডিক্রি বাতিল করে মামলা খারিজ করে দেন। তদ্বিরুদ্ধে বাদী রোকেয়া বেগম হাইকোর্টে এই সিভিল রিভিশন দায়ের করেন।
👤 আবেদনকারী / দরখাস্তকারী পক্ষের আইনি যুক্তি
- দীর্ঘদিনের ভোগদখল ও এস্টপেল (Estoppel): বাদীগণ বিগত দুই দশক ধরে বিবাদীদের দখলে কোনো আপত্তি করেননি। বিবাদীগণ সেখানে বিপুল অর্থ ব্যয় করে পাকা স্থাপনা তৈরি করেছেন। সুতরাং সাক্ষ্য আইনের ১১৫ ধারা অনুযায়ী বাদী পক্ষ দীর্ঘদিনের এই পারিবারিক বণ্টনের বিরুদ্ধে কোনো নতুন দাবি তুলতে পারেন না।
- মৌখিক বণ্টনের আইনি বৈধতা: হিন্দু বা মুসলিম ব্যক্তিগত আইনে সহ-শরিকদের মধ্যে সুবিধাজনক চাষাবাদ বা বসবাসের জন্য মৌখিক আপস বণ্টন নিষিদ্ধ নয়। একবার বণ্টন কার্যকর হলে তা আর রদবদল করা যায় না।
- সংবিধানের মৌলিক অধিকার ও আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া (Due Process of Law) লঙ্ঘন করে কোনো সিদ্ধান্ত বহাল রাখা যায় না।
- সংশ্লিষ্ট সংবিধিবদ্ধ আইনের মূল উদ্দেশ্য ও আইনি অক্ষরের সঠিক প্রয়োগে আবেদনকারীর দাবি শতভাগ ন্যায্য।
👥 বিপরীতপক্ষ / বাদীর আইনি অবস্থান
- রেজিস্ট্রেশন আইনের ১৭(১) ধারার অলঙ্ঘনীয় বিধান: ২০০৪ সালের রেজিস্ট্রেশন আইন সংশোধনীর মাধ্যমে স্থাবর সম্পত্তির বণ্টননামা দলিল (Deed of Partition) রেজিস্ট্রি করা আইনত বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কোনো স্থাবর সম্পত্তির মালিকানা বিভক্ত করতে হলে রেজিস্ট্রিকৃত দলিল ছাড়া তা আইনের দৃষ্টিতে কোনো স্বত্ব সৃষ্টি বা রূপান্তর করতে পারে না।
- সুবিধাজনক ভোগদখল কখনই চূড়ান্ত সাহাম নয়: এজমালি সম্পত্তিতে কোনো সহ-শরিকের একক দখল থাকা মানে এই নয় যে তিনি ঐ নির্দিষ্ট দাগের একমাত্র মালিক হয়ে গেছেন। সুপ্রিম কোর্টের শত রায়ে বলা হয়েছে— একজন সহ-শরিকের দখল সকল সহ-শরিকের দখল হিসেবে গণ্য হয় (Possession of one co-sharer is the possession of all co-sharers)।
- ন্যায্যতার নীতি: রাস্তার পাশের সবচেয়ে মূল্যবান অংশ দুই ভাই ভোগ করবেন আর পেছনের অনাবাদি জমি দুই বোনকে দেওয়া হবে— এটি সাম্য, সমতা ও প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের চরম পরিপন্থী।
মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের সামনে মূল বিচার্য বিষয় ছিল: (১) সংশ্লিষ্ট বিশেষ আইনের বিধানাবলি কি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল, নাকি তা লংঘিত হয়েছে? (২) অধস্তন আদালত কি এখতিয়ারবহির্ভূত আদেশ প্রদান বা প্রমাণের ভুল ব্যাখ্যার মাধ্যমে গুরুতর বিচারিক ভুল (Jurisdictional Error) করেছেন? এবং (৩) মামলার সামগ্রিক ঘটনা ও নথিপত্র বিবেচনায় সংক্ষুব্ধ পক্ষের আবেদন কি আইনত মঞ্জুরযোগ্য?
বিজ্ঞ বিচারপতি উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানি গ্রহণ করেন, মামলার আরজি, জবাব ও মূল নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করেন এবং আইনের সুপ্রতিষ্ঠিত নীতির আলোকে প্রতিটি বিচার্য বিষয়ের নিষ্পত্তি করেন।
মাননীয় একক বেঞ্চ রেজিস্ট্রেশন আইনের বিধানাবলী, বণ্টন আইনের নীতিমালা এবং সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের প্রতিষ্ঠিত সিদ্ধান্তসমূহ বিস্তারিত পর্যালোচনা করেন:
ক) যৌথ মালিকানায় সহ-শরিকদের সমমর্যাদা ও সাহামের নীতি
আদালত উল্লেখ করেন, ওয়ারিশান সূত্রে প্রাপ্ত এজমালি সম্পত্তির প্রতিটি ধূলিকণায় সকল সহ-শরিকের অবিভাজ্য স্বত্ব বিদ্যমান থাকে। যতদিন পর্যন্ত না আদালত কর্তৃক অ্যাডভোকেট কমিশনার নিয়োগ করে প্রতিটি দাগের জমির গুণাগুণ, মূল্য ও অবস্থানের আনুপাতিক সমতা রক্ষা করে মেটস অ্যান্ড বাউন্ডস (Metes and Bounds) পদ্ধতিতে সুনির্দিষ্ট সাহাম বণ্টন করা হয়, ততদিন কোনো সহ-শরিক এককভাবে নিজেকে কোনো নির্দিষ্ট অংশের নিরঙ্কুশ মালিক দাবি করতে পারেন না।
খ) মৌখিক আপস বণ্টন বনাম সুবিধাজনক দখল (Convenient Possession)
মাননীয় বিচারপতি সুদৃঢ়ভাবে অভিমত দেন যে, পরিবারে ভাই-বোনদের মধ্যে সাময়িক চাষাবাদ বা বসবাসের সুবিধার্থে কোনো জমি ভোগদখল করাকে আইনগত অর্থে “চূড়ান্ত বণ্টন” (Final Partition) বলা যায় না। এটি নিছক একটি পারিবারিক ব্যবস্থা (Arrangement of convenience)। এই ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে কোনো সহ-শরিকের আইনি বাটোয়ারার অধিকার চিরতরে রুদ্ধ হয়ে যেতে পারে না। বাটোয়ারা মামলার কারণ (Cause of Action) একটি পুনরাবৃত্তিমূলক এবং চলমান অধিকার (Continuous cause of action)।
গ) সুপ্রিম কোর্টের নজিরসমূহের পর্যালোচনা
হাইকোর্ট বিভাগ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত Md. Bashir Miah vs. Mst. Ajhara Akter Koli (First Appeal No. 404 of 2013) এবং Chandraban Bibi vs. Azahar Uddin Bhuiyan (First Appeal No. 312 of 2018) স্মরণ করিয়ে দেন। আদালত বলেন:
“In the absence of a registered instrument of partition as contemplated under Section 17(1) of the Registration Act, 1908, a mere plea of oral partition setup by an influential co-sharer cannot defeat the statutory right of other co-sharers to seek partition through the court. Amicable possession is always subject to final adjustment of sahams by the Advocate Commissioner.”
অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতের পর্যবেক্ষণ সম্পূর্ণ বেআইনি ছিল। তিনি রেজিস্ট্রেশন আইনের বাধ্যতামূলক বিধান ও ন্যায়ের সমতার নীতিকে উপেক্ষা করে অন্যায় দখলকে প্রশ্রয় দিয়েছেন।
মহামান্য আদালত আরও অভিমত ব্যক্ত করেন যে, আইনের শাসন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার স্বার্থে বিচারিক আদালতগুলোর দায়িত্ব হলো কোনো যান্ত্রিক বা অন্ধ দৃষ্টিভঙ্গি পরিহার করে আইনের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া। উচ্চ আদালতের দীর্ঘ নজির ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এই ব্যাখ্যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
চূড়ান্ত রায় ও আদেশ: সার্বিক আইনি পর্যালোচনার ভিত্তিতে মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগ সিভিল রিভিশনটি পূর্ণাঙ্গভাবে মঞ্জুর করেন। জেলা জজ আদালতের রায় ও ডিক্রি রদ ও বাতিল ঘোষণা করা হয় এবং যুগ্ম জেলা জজ আদালতের প্রাথমিক ডিক্রি সম্পূর্ণ পুনর্বহাল করা হয়।
একই সাথে আদালত নির্দেশ দেন যে, অধস্তন আদালত অবিলম্বে একজন নিরপেক্ষ অভিজ্ঞ অ্যাডভোকেট কমিশনার নিয়োগ করবেন। কমিশনার সরেজমিনে গিয়ে নালিশি জমির রাস্তার পাশের সম্মুখভাগ ও পেছনের অংশের আনুপাতিক মূল্যায়ন করে চারজন সহ-শরিকের মধ্যে সমমূল্যের সাহাম বণ্টন করবেন। যদি কোনো সহ-শরিকের দখলে থাকা পাকা বাড়িঘর ভেঙে ফেলা অযৌক্তিক হয়, তবে সমমূল্যের অতিরিক্ত জমি অন্য শরিকদের ছেড়ে দিয়ে বা ক্ষতিপূরণ সমন্বয় (Owelty Money) করে সাহাম চূড়ান্ত করতে হবে।
- সুনির্দিষ্ট আইনি নীতি: বাটোয়ারা মামলায় রেজিস্ট্রিকৃত বণ্টননামা দলিল না থাকলে মৌখিক আপস বণ্টনের দাবি আ… সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের নীতি দেশের সকল আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক।
- সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদের বাধ্যবাধকতা: সুপ্রিম কোর্টের ঘোষিত এই রায় দেশের প্রতিটি আদালত ও ট্রাইব্যুনালকে নজির হিসেবে মেনে চলার বাধ্যবাধকতা তৈরি করে।
- প্রক্রিয়াগত ত্রুটির মারাত্মক প্রভাব: আইনের অলঙ্ঘনীয় বিধান অমান্য করে গৃহীত যেকোনো প্রশাসনিক বা বিচারিক পদক্ষেপ গোড়াতেই বাতিলযোগ্য।
- নাগরিক ও ব্যবসায়িক অধিকারের সুরক্ষা: সমতা, সততা এবং সুশাসনের স্বার্থে এই রায় বিচারপ্রার্থী ও পেশাজীবীদের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে।
- রেজিস্ট্রিকৃত আপস বণ্টননামা দলিল করুন: পৈতৃক জমি নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করতে চাইলে কোনোভাবেই মৌখিক কথা বা সাদা কাগজের সালিশনামায় নির্ভর করবেন না; সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে নকশা ও দাগসহ রেজিস্ট্রিকৃত বণ্টননামা দলিল সম্পাদন করুন।
- মৌখিক দখলে আস্থা রাখবেন না: ভাইদের মুখের কথায় পেছনের জমি বা ডোবা মেনে নেবেন না; রেজিস্ট্রি দলিল না থাকা পর্যন্ত আপনি আদালতের মাধ্যমে সম্মুখভাগের সমমূল্যের জমি পাওয়ার পূর্ণ অধিকারী।
- বাটোয়ারা মামলায় তামাদির কোনো বাধা নেই: সম্পত্তি যত বছর ধরেই অন্য শরিকের দখলে থাকুক না কেন, এজমালি সম্পত্তিতে বাটোয়ারা মোকদ্দমা দায়ের করার ক্ষেত্রে তামাদির কোনো আইনি বাধা থাকে না।
- মামলা বা যেকোনো আইনি নোটিশের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের এই সাম্প্রতিকতম নজিরটি সঠিকভাবে উদ্ধৃত করুন।
- বিচারিক আদালতে মামলা শুনানিকালে মূল সংবিধিবদ্ধ বিধানের সাথে তথ্যের সামঞ্জস্য প্রমাণে সচেষ্ট থাকুন।

