ব্যারিস্টার সারোয়ারের বিরুদ্ধে হাইকোর্টের আদালত অবমাননার রুল

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম. সারোয়ার হোসেন এবং তাঁর দেওয়া একটি প্রেস ব্রিফিং প্রচারকারী একাধিক গণমাধ্যম ও অনলাইন নিউজ পোর্টালের সম্পাদকের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। পিরোজপুরের যুগ্ম জেলা জজ নাহিদ রুমানা মিতুর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে ওই প্রেস ব্রিফিং করা হয়েছিল। অভিযোগ ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে বিচার বিভাগের মর্যাদা ও আদালতের পবিত্রতা ক্ষুণ্ন হয়েছে কি না, তা রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে।

রোববার (৮ নভেম্বর) বিচারপতি জে.বি.এম. হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত (সুয়োমোটো) হয়ে এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ২৬ নভেম্বর ব্যারিস্টার এম. সারোয়ার হোসেনকে সশরীরে হাইকোর্টে উপস্থিত হয়ে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা প্রদানের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যে প্রেক্ষাপটে আদালত অবমাননার রুল

মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি পিরোজপুরের যুগ্ম জেলা জজ নাহিদ রুমানা মিতুর বিরুদ্ধে আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়ম এবং দুর্নীতির বিভিন্ন অভিযোগ তুলে একটি সংবাদ সম্মেলন বা প্রেস ব্রিফিং করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম. সারোয়ার হোসেন। পরবর্তীতে তাঁর ওই বক্তব্যের অডিও-ভিডিও বিভিন্ন মূলধারার গণমাধ্যম, সংবাদমাধ্যমের অনলাইন সংস্করণ এবং একাধিক নিউজ পোর্টালে ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়।

হাইকোর্ট বিষয়টি পর্যালোচনার পর পর্যবেক্ষণ প্রকাশ করেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়, কোনো বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ আইনি প্রক্রিয়ায় তদন্ত বা প্রমাণিত হওয়ার আগেই এভাবে প্রকাশ্যে সংবাদ সম্মেলন করে দুর্নীতির অভিযোগ তোলা এবং তা বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করার বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এ ধরনের প্রচারের মাধ্যমে বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি, আদালতের সার্বিক পবিত্রতা এবং বিচারালয়ের মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত হয়েছে কি না, তা আইনগতভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। এ কারণেই ব্যারিস্টার সারোয়ার এবং সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকদের প্রতি আদালত অবমাননার রুল ইস্যু করা হয়।

ভিডিও অপসারণ ও নথি তলবের নির্দেশ

শুনানি শেষে হাইকোর্ট দেশের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তদারককারী সংস্থা বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত বিটিআরসিকে নির্দেশ দেন, যাতে বিভিন্ন অনলাইন নিউজ পোর্টাল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটগুলো থেকে ওই প্রেস ব্রিফিংয়ের ভিডিও ও কনটেন্ট অনতিবিলম্বে সরিয়ে ফেলা হয়।

একই সাথে, আইন সংক্রান্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল ল’ইয়ার্স ক্লাব বাংলাদেশ ডটকমের কর্তৃপক্ষকে উক্ত প্রেস ব্রিফিংয়ের ধারণকৃত মূল ভিডিও কপি আদালতে সরাসরি দাখিল ও সরবরাহ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিচারকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অনুসন্ধানের নির্দেশ

প্রেস ব্রিফিংকে কেন্দ্র করে আদালত অবমাননার ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিচারকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকেও এড়িয়ে যাননি উচ্চ আদালত। যুগ্ম জেলা জজ নাহিদ রুমানা মিতুর বিরুদ্ধে যেসব দুর্নীতির অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছিল, সেগুলোর বস্তুনিষ্ঠতা ও সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধানে বিচারকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী যথাযথ প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আদালতে শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মোহাম্মাদ আরশাদ রউফ ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান। তাঁদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল দেলোয়ার হোসেন, ব্যারিস্টার মহিউদ্দিন মো. হানিফ, মারিয়া তানজিমাৎ, মাইনুল ইসলাম ও আমিনুল ইসলাম।

Related Articles

Back to top button