অবসরে যাচ্ছেন ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলাম
ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলামকে সরকারি চাকরি থেকে অবসর দেওয়া হয়েছে। আগামী ৩০ নভেম্বর থেকে তাঁর অবসর কার্যকর হবে। একই সঙ্গে তাঁকে এক বছরের অবসর-উত্তর ছুটি (পিআরএল) মঞ্জুর করেছে সরকার।
গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ (বিচার শাখা-৩) থেকে প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
৫৯ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ায় অবসর
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মো. রফিকুল ইসলামের জন্ম তারিখ ১৯৬৭ সালের ১ ডিসেম্বর। তাঁর বয়স ৫৯ বছর পূর্ণ হওয়ায় ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’-এর ৪৩(১)(ক) ধারা অনুযায়ী আগামী ৩০ নভেম্বর তাঁকে সরকারি চাকরি থেকে অবসর দেওয়া হলো।
আইনের সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবীদের বয়স নির্ধারিত সীমায় পৌঁছালে বাধ্যতামূলকভাবে অবসরে যেতে হয়। মো. রফিকুল ইসলামের ক্ষেত্রেও সেই বিধান অনুসরণ করেই অবসরের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে।
এক বছরের পিআরএল মঞ্জুর
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, ছুটি প্রাপ্যতা থাকায় একই আইনের ৪৭ ধারা অনুযায়ী ২০২৬ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ১২ মাসের জন্য তাঁকে পূর্ণ গড় বেতনে অবসর-উত্তর ছুটি (পিআরএল) মঞ্জুর করা হয়েছে।
অবসর-উত্তর ছুটি বা পিআরএল হলো এমন একটি সুবিধা, যার মাধ্যমে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নির্ধারিত সময় পর্যন্ত পূর্ণ গড় বেতনে ছুটি ভোগ করতে পারেন। এই সময়ের মধ্যে তাঁর চাকরির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক থাকলেও নিয়মিত দায়িত্ব পালন করতে হয় না।
দায়িত্ব হস্তান্তরের নির্দেশনা
প্রজ্ঞাপনে আগামী ৩০ নভেম্বর বিকেলে বর্তমান পদের দায়িত্বভার পরবর্তী জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কাছে অর্পণ করে অবসর-উত্তর ছুটিতে যাওয়ার জন্য মো. রফিকুল ইসলামকে অনুরোধ করা হয়েছে।
অর্থাৎ, নির্ধারিত দিনের বিকেল পর্যন্ত তিনি ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং এরপর দায়িত্বভার পরবর্তী জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করে পিআরএল-এ যাবেন।
জেলা ও দায়রা জজের ভূমিকা
জেলা ও দায়রা জজ হলেন জেলা পর্যায়ের বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা। তিনি একদিকে জেলার দায়রা আদালতের গুরুত্বপূর্ণ মামলার বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করেন, অন্যদিকে জেলার অধীনস্থ আদালতগুলোর প্রশাসনিক তদারকির দায়িত্বও পালন করেন। ঢাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলায় এই পদে দায়িত্ব পালন বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
মো. রফিকুল ইসলামের অবসরের পর ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ পদে কে নিয়োগ পাবেন, তা এখনো জানা যায়নি। সাধারণত এ ধরনের শূন্য পদে সুপ্রিম কোর্ট ও আইন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়।
বিচার বিভাগে দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে নিয়মানুযায়ী অবসরে যাওয়া একজন জ্যেষ্ঠ বিচারকের জন্য স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। মো. রফিকুল ইসলামের অবসরও সেই প্রক্রিয়ারই অংশ হিসেবে কার্যকর হচ্ছে।

