পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্যের অবিচ্ছিন্ন ধারাবাহিকতা ও মোটিভের প্রমাণে হত্যা মামলায় ফাঁসির রায়: সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত

বিচারিক মূলনীতি: পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্যের শিকল (Chain of Circumstances) ও প্রমাণের মানদণ্ড

ফৌজদারি বিচারব্যবস্থায় সরাসরি কোনো চাক্ষুষ সাক্ষী না থাকলেও পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্যের (Circumstantial Evidence) ওপর ভিত্তি করে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা যায়, যদি উপস্থাপিত প্রতিটি পারিপার্শ্বিক প্রমাণ এমন একটি অবিচ্ছিন্ন শিকল গঠন করে যার একমাত্র যৌক্তিক উপসংহার আসামির অপরাধ এবং আসামির নির্দোষ হওয়ার আর কোনো বিকল্প সম্ভাবনা অবশিষ্ট থাকে না। ঘটনার পরপরই আসামির আত্মগোপন (Abscondence) সাক্ষ্য আইনের ৮ ধারা মতে আসামির অপরাধমূলক মানসিকতার পরিচায়ক।

১. মামলার পরিচিতি ও আদালত

মহামান্য বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ডেথ রেফারেন্স বেঞ্চে মামলাটির বিশদ শুনানি সম্পন্ন হয়। রায় প্রদান করেন মাননীয় বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী এবং মাননীয় বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজা। সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত কর্তৃক দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় ঘোষিত মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারায় মামলাটি রেফারেন্স হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছিল।

২. ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ

আসামি মোমিন গাজী ভিকটিমকে গভীর রাতে জরুরি কাজের কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরদিন সকালে স্থানীয় নদীর চরে ভিকটিমের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ পাওয়া যায়। ঘটনার পর থেকেই আসামি এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয় যে ভিকটিমকে শ্বাসরোধ করে এবং ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।

৩. হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ ও সিদ্ধান্ত

ডিভিশন বেঞ্চ রায়ে উল্লেখ করেন যে, ভিকটিমকে শেষবারের মতো আসামির সাথে জীবিত দেখা গিয়েছিল (Last Seen Together Theory)। সাক্ষীগণ আদালতে দৃঢ়ভাবে বলেছেন যে মোমিন গাজী নিজেই ভিকটিমকে ডেকে নিয়ে গিয়েছিল। ভিকটিম কীভাবে মারা গেল বা তার সাথে থাকা অবস্থায় কী ঘটেছিল, সাক্ষ্য আইনের ১০৬ ধারা মতে সেই বিশেষ জ্ঞান কেবল আসামির কাছেই ছিল। আসামি দীর্ঘকাল আত্মগোপনে থাকায় এবং কোনো যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা না দেওয়ায় সমস্ত পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য কেবল আসামির অপরাধের দিকেই নির্দেশ করে।

৪. চূড়ান্ত রায়

মহামান্য হাইকোর্ট ডিভিশন বিচারিক আদালত কর্তৃক প্রদত্ত মৃত্যুদণ্ডের আদেশ অনুমোদন (Death Reference Accepted) করেন এবং পলাতক আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে পরোয়ানা জারির নির্দেশ প্রদান করেন।

৫. অফিসিয়াল রেফারেন্স ও লিংক

মামলা নম্বর Death Reference No. 100 of 2019
বিচারপতি বেঞ্চ Mr. Justice Bhishmadev Chakrabortty & Mr. Justice K.M. Rasheduzzaman Raja
আইন ও ধারা Penal Code, 1860 Section 302; Evidence Act Sections 8, 106; CrPC Sec 374
অফিশিয়াল কপি সুপ্রিম কোর্ট ওয়েবসাইট থেকে মূল রায় (PDF) ডাউনলোড করুন

Related Articles

✍️ আইনি মতামত বা প্রশ্ন প্রকাশ করুন

Back to top button