১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রত্যাহার ও আলামত উদ্ধারের ভিত্তিতে হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ড বহাল: হাইকোর্টের রায়

বিচারিক মূলনীতি: প্রত্যাহারকৃত স্বীকারোক্তি (Retracted Confession) ও বৈজ্ঞানিক আলামতের মেলবন্ধন

ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় বিজ্ঞ বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট স্বেচ্ছায় প্রদত্ত স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি পরবর্তীতে বিচার চলাকালে আসামি যদি “পুলিশের ভয়ে দিয়েছিলাম” বলে প্রত্যাহার (Retract) করে, তবে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায় না। আদালত যদি সন্তুষ্ট হন যে জবানবন্দিটি ছিল সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাপ্রণোদিত এবং সাক্ষ্য আইন (Evidence Act), ১৮৭২-এর ২৭ ধারা মতে আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র ও রক্তমাখা কাপড় উদ্ধার হয়েছে, তবে উক্ত প্রত্যাহারকৃত স্বীকারোক্তির ওপর ভিত্তি করেই দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করা আইনসঙ্গত।

১. মামলার প্রাথমিক তথ্য ও আদালত

মহামান্য বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ডেথ রেফারেন্স বেঞ্চে ২৫ পৃষ্ঠার এই পূর্ণাঙ্গ রায় ঘোষণা করেন মাননীয় বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী এবং মাননীয় বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজা। কুষ্টিয়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক ঘোষিত মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের রেফারেন্স এবং আসামির জেল আপিল নং ২১২/২০১৯ একত্রে নিষ্পত্তি করা হয়।

২. হত্যাকাণ্ডের ঘটনাপ্রবাহ

পারিবারিক আর্থিক কলহের জেরে আসামি মো. কামরুল ইসলাম গভীর রাতে নিজ স্ত্রীকে ধারালো বঁটি দিয়ে কুপিয়ে ও শ্বাসরোধ করে নৃশংসভাবে হত্যা করে লাশ বাড়ির পাশের ডোবায় ফেলে দেয়। গ্রেপ্তারের পর আসামি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হত্যার বিশদ বিবরণ দিয়ে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি প্রদান করে এবং তার দেখানো স্থান থেকে রক্তমাখা বঁটি উদ্ধার হয়।

৩. হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ ও সিদ্ধান্ত

ডিভিশন বেঞ্চ পর্যবেক্ষণ করেন যে, স্বীকারোক্তি গ্রহণের পূর্বে ম্যাজিস্ট্রেট আসামিকে ৩ ঘণ্টা চিন্তা করার সময় দিয়েছিলেন এবং পুলিশি পাহারা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রেখেছিলেন। ম্যাজিস্ট্রেটের নেওয়া সমস্ত সতর্কতা বিধিমোতাবেক ছিল। তদুপরি আসামির দেখানো স্থান থেকে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা সাক্ষ্য আইনের ২৭ ধারায় অকাট্য আলামত হিসেবে প্রমাণিত। ময়নাতদন্তের জখম ও স্বীকারোক্তির বিবরণ সম্পূর্ণ অভিন্ন হওয়ায় আসামির দোষ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত।

৪. চূড়ান্ত রায়

মহামান্য হাইকোর্ট ডিভিশন ডেথ রেফারেন্সটি অনুমোদন (Death Reference Accepted) করেন এবং আসামির মৃত্যুদণ্ডের সাজা বহাল রেখে ফৌজদারি ও জেল আপিল খারিজ করে দেন।

৫. অফিসিয়াল রেফারেন্স ও লিংক

মামলা নম্বর Death Reference No. 82 of 2019 with Criminal Appeal No. 8670 of 2019
বিচারপতি বেঞ্চ Mr. Justice Bhishmadev Chakrabortty & Mr. Justice K.M. Rasheduzzaman Raja
আইন ও ধারা Penal Code Sec 302; CrPC Sec 164, 374; Evidence Act Sec 24, 27
অফিশিয়াল কপি সুপ্রিম কোর্ট ওয়েবসাইট থেকে মূল রায় (PDF) ডাউনলোড করুন

Related Articles

✍️ আইনি মতামত বা প্রশ্ন প্রকাশ করুন

Back to top button