সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্ত ব্যক্তির আইনজীবী হওয়ার যোগ্যতা: বার কাউন্সিল অর্ডার

প্রশ্ন: একজন ৪২ বছর বয়স্ক ব্যক্তি সরকারি চাকরি থেকে গত ০২/০১/২০২০ খ্রিঃ তারিখে বরখাস্ত (Dismissed) হন। এখন তিনি আইনজীবী হিসাবে তালিকাভুক্তির জন্য বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের পরীক্ষা দিতে ইচ্ছুক। একজন শুভাকাঙ্খী হিসাবে আইন ও যুক্তিসহ তাকে উপযুক্ত পরামর্শ দিন।
ভূমিকা ও প্রাসঙ্গিক আইন: বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার জন্য কিছু নির্দিষ্ট যোগ্যতার পাশাপাশি কিছু অযোগ্যতার বিধানও রয়েছে। বাংলাদেশ লিগ্যাল প্র্যাকটিশনার্স অ্যান্ড বার কাউন্সিল অর্ডার, ১৯৭২ (P.O. No. 46 of 1972) এর ২৭ অনুচ্ছেদে (Article 27) অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্তির যোগ্যতা ও অযোগ্যতা সম্পর্কে বিস্তারিত বলা হয়েছে [cite: 139, 140]৷
আইনি বিশ্লেষণ ও অযোগ্যতার বিধান (Disqualification for Enrollment):
অত্র অর্ডারের ২৭(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার যোগ্য হবেন না যদি—
- তিনি সরকারি চাকরি বা অন্য কোনো চাকরি হতে ‘নৈতিক স্খলনজনিত’ (Moral Turpitude) কোনো অপরাধের কারণে বরখাস্ত (Dismissed) হন।
- দুই বছর অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত: উক্ত অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ার তারিখ হতে ২ (দুই) বছর অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি তালিকাভুক্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন না।
ব্যক্তির বর্তমান অবস্থা ও আইনি পরামর্শ:
প্রদত্ত তথ্যানুযায়ী, ব্যক্তিটি ০২/০১/২০২০ তারিখে সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্ত হয়েছেন। একজন শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে আমার পরামর্শ নিম্নরূপ হবে:
- সময়ের সীমাবদ্ধতা অতিক্রম: যেহেতু বরখাস্তের তারিখ (০২/০১/২০২০) হতে বর্তমানে ২ বছরের বেশি সময় অতিবাহিত হয়েছে, তাই সময়ের দিক থেকে তিনি এখন আবেদনের যোগ্য হতে পারেন।
- বরখাস্তের কারণ বিশ্লেষণ: মূল বিচার্য বিষয় হলো তার বরখাস্তের ‘কারণ’। যদি তিনি দুর্নীতি, জালিয়াতি বা অন্য কোনো ‘নৈতিক স্খলনজনিত’ কারণে বরখাস্ত হয়ে থাকেন, তবে ২ বছর পার হলেও তিনি আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির জন্য অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।
- আদালতের নজির: বার কাউন্সিল এবং উচ্চ আদালতের নজির অনুযায়ী, নৈতিক স্খলনের কারণে বরখাস্তকৃত ব্যক্তি আইন পেশার মতো একটি সম্মানজনক পেশায় আসার সুযোগ সাধারণত পান না, কারণ এটি পেশার পবিত্রতা নষ্ট করতে পারে।
লিগ্যাল ম্যাক্সিম ও আইনি নীতি (Legal Maxims and Principles):
- “Ex turpi causa non oritur actio” (একটি অনৈতিক কাজ হতে কোনো আইনগত অধিকারের উদ্ভব হয় না): যদি কোনো ব্যক্তি নৈতিক স্খলনের দায়ে দণ্ডিত বা বরখাস্ত হন, তবে সেই অনৈতিকতার দাগ থাকা অবস্থায় তিনি আইনজীবী হওয়ার মতো আইনি অধিকার দাবি করতে পারেন না।
উপসংহার (Conclusion):
পরিশেষে, উক্ত ব্যক্তিকে আমার চূড়ান্ত পরামর্শ হলো— তিনি যদি সাধারণ প্রশাসনিক কারণে বা নৈতিক স্খলন নেই এমন কোনো কারণে বরখাস্ত হয়ে থাকেন এবং ইতোমধ্যে ২ বছর পার হয়ে গিয়ে থাকে, তবে তিনি বার কাউন্সিল পরীক্ষায় অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিতে পারেন। তবে যদি তার বরখাস্তের পেছনে নৈতিক স্খলনের কোনো প্রমাণ থাকে, তবে তার পক্ষে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়া আইনত অসম্ভব হবে। সুতরাং, পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার আগে তাকে তার ‘বরখাস্তের আদেশ’ (Dismissal Order) গভীরভাবে পর্যালোচনা করার পরামর্শ দিচ্ছি।

