১৮তম বিজেএসে প্রথম সিয়ামসহ ডিজুরি একাডেমির ৩৪ জনের বাজিমাত
বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষার মাধ্যমে বিচারক হিসেবে ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন দেখেন দেশের আইন অঙ্গনের হাজারো শিক্ষার্থী। সম্প্রতি প্রকাশিত ১৮তম বিজেএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফলাফলে সেই স্বপ্নপূরণের বড় অংশীদার হয়ে উঠেছে আইন শিক্ষার প্রস্তুতিমূলক প্রতিষ্ঠান ‘ডিজুরি একাডেমি’। এবারের ঘোষিত মেধা তালিকায় প্রথম ও তৃতীয় স্থান অধিকার করাসহ প্রতিষ্ঠানটি থেকে মোট ৩৪ জন শিক্ষার্থী সহকারী জজ (সিভিল জজ) হিসেবে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।
এবারের মেধা তালিকায় দেশসেরা প্রথম স্থান অর্জন করা আরিফুল ইসলাম সিয়াম ডিজুরি একাডেমির নিয়মিত শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি প্রতিষ্ঠানটির ‘Run for 18th BJS Preli’ এবং ‘18th BJS Written Exam batch’-এর সঙ্গে যুক্ত থেকে নিজের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেন।
নিজের এই অভাবনীয় অর্জনে একাডেমি ও শিক্ষকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন আরিফুল ইসলাম সিয়াম। নিজের প্রস্তুতি পর্বের স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, “যখন আমি পরীক্ষাগুলো দিতাম, রিটেন বা এমসিকিউ প্রশ্ন নিয়ে কোনো কনফিউশন তৈরি হলে বা বুঝতে অসুবিধা হলে মেন্টরদের জানাতাম, আর তারা সবসময়ই আমাকে হেল্প করতেন।” সিয়াম ছাড়াও মেধা তালিকায় তৃতীয় স্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থীও এই প্রতিষ্ঠান থেকেই সাফল্য পেয়েছেন। তাঁদের এমন গৌরবোজ্জ্বল সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, মেন্টর ও সহপাঠীরা।
ধারাবাহিক সাফল্যের পরিসংখ্যান
বিচারক নিয়োগ পরীক্ষায় ডিজুরি একাডেমির এই অভাবনীয় সাফল্য হঠাৎ করে আসা কোনো বিষয় নয়, বরং বিগত বছরগুলোর ধারাবাহিক অর্জনেরই প্রতিফলন। তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত চার বছরে প্রতিষ্ঠানটি ধারাবাহিকভাবে মেধা তালিকার শীর্ষে অবস্থান ধরে রেখেছে।
- ১৫তম বিজেএস: প্রথম স্থানসহ মোট ৭ জন শিক্ষার্থী সহকারী জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হন।
- ১৬তম বিজেএস: দ্বিতীয় স্থানসহ মেধা তালিকা থেকে মোট ১১ জন সুপারিশ পান।
- ১৭তম বিজেএস: তৃতীয় স্থানসহ মোট ২৬ জন সহকারী জজ হিসেবে নিয়োগের জন্য মনোনীত হন।
- ১৮তম বিজেএস: প্রথম ও তৃতীয় স্থানসহ মোট ৩৪ জন সিভিল জজ পদে সুপারিশ পেয়েছেন।
সব মিলিয়ে বিগত চার বছরে কেবল এই একটি প্রতিষ্ঠান থেকেই বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিসে বিচারক হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন মোট ৭৮ জন মেধাবী শিক্ষার্থী।
বার কাউন্সিল পরীক্ষায় অবদান
শুধু বিচার বিভাগের প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাতেই নয়, বরং সামগ্রিক আইন পেশার অন্যান্য ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থীরা বিশেষ অবদান রাখছেন। বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তির পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এখন পর্যন্ত ডিজুরি একাডেমির ৯৪৯ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন। বর্তমানে তাঁরা দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের আদালতে সুনামের সঙ্গে অ্যাডভোকেট হিসেবে আইন পেশায় দায়িত্ব পালন করছেন।
প্রযুক্তিনির্ভর প্রস্তুতি ও শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ
বিজেএস পরীক্ষার মতো অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এবং সুবিশাল সিলেবাস সহজে আয়ত্তে আনতে প্রযুক্তিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজে লাগাচ্ছে ডিজুরি একাডেমি। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব মোবাইল অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইন এবং অফলাইন উভয় মাধ্যমেই লাইভ ক্লাস ও পরীক্ষা গ্রহণের ব্যবস্থা রয়েছে। এর ফলে রাজধানীসহ দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা ঘরে বসেই নিয়মিত প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এছাড়া নারী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুবিধার্থে ক্যাম্পাসে একটি নিরাপদ ও শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করায় প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের মাঝে আলাদা গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।
ক্যারিয়ার সেশনে বরেণ্য ব্যক্তিত্বদের দিকনির্দেশনা
শিক্ষার্থীদের শুধু বাঁধাধরা সিলেবাস বা রুটিনমাফিক পড়াশোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাঁদের মানসিক দৃঢ়তা তৈরি এবং জড়তা কাটাতে নিয়মিত অনুপ্রেরণামূলক সেশনের আয়োজন করা হয়। এসব বিশেষ ক্যারিয়ার সেশনে বিচার বিভাগ ও আইন অঙ্গনের দিকপাল ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত হয়ে দিকনির্দেশনা দেন। এর আগে বিচার বিভাগের ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব মাজদার হোসেন এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ১৮তম অ্যাটর্নি-জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজলের মতো বরেণ্য ব্যক্তিরা ক্যাম্পাসে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করেছেন।
সাফল্যের রহস্য জানালেন পরিচালক
বিজেএস পরীক্ষায় প্রতি বছর এমন নজরকাড়া ও ধারাবাহিক সাফল্য বজায় রাখার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন ডিজুরি একাডেমির পরিচালক রফিকুল ইসলাম শিমুল। সার্বিক প্রস্তুতি ও খাতা মূল্যায়ন পদ্ধতির গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমাদের এই অর্জনের মূল চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে সাবজেক্টিভ ও মডেল টেস্টের প্রশ্নপত্রের গুণগতমান এবং অত্যন্ত যত্নের সাথে খাতা মূল্যায়নের মধ্যে। আমাদের সম্মানিত মেন্টররা সবসময় চূড়ান্ত পরীক্ষার স্ট্যান্ডার্ড ও প্যাটার্ন মাথায় রেখে ক্লাসগুলো পরিচালন করেন। প্রতিটি পরীক্ষার খাতা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে শিক্ষার্থীদের ভুলগুলো শুধরে দেওয়া হয়। এই নিখুঁত ও বাস্তবমুখী প্রস্তুতির ফলে মূল পরীক্ষার হলে প্রশ্নপত্রটি শিক্ষার্থীদের কাছে অনেকটাই পরিচিত ও সহজবোধ্য মনে হয়, যা তাদের চূড়ান্ত বিজয়কে ত্বরান্বিত করে।”


