সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ৯ ধারায় বিবাদীর স্বত্বের দাবি ও আইনি মূল্যায়ন – বার কাউন্সিল লিখিত ২০১১

বাংলাদেশ বার কাউন্সিল লিখিত পরীক্ষা ২০১১: প্রশ্ন ৪ (খ) এর পূর্ণাঙ্গ মডেল সমাধান

মূল প্রশ্ন:

৪. খ) উপরোক্ত মোকদ্দমাতে বিবাদী তার লিখিত বর্ণনায় উল্লেখ করে যে, বিরোধীয় সম্পত্তিতে তার স্বত্ব রয়েছে। কারণ, তিনি উক্ত সম্পত্তি প্রকৃত মালিকের নিকট হতে ক্রয় করেছেন। বিবাদীর এই যুক্তি আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?

১. সমস্যার আইনগত প্রেক্ষাপট

আলোচ্য সমস্যাটিতে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭ এর ৯ ধারা অনুযায়ী দখল পুনরুদ্ধারের একটি মোকদ্দমায় বিবাদী তার লিখিত বর্ণনায় (Written Statement) স্বত্ব বা মালিকানার অজুহাত তুলে দাবি করেছেন যে, তিনি প্রকৃত মালিকের নিকট হতে সম্পত্তি খরিদ করায় উক্ত সম্পত্তিতে তার বৈধ স্বত্ব রয়েছে। প্রশ্ন হলো—৯ ধারার মামলায় বিবাদীর এই স্বত্বের দাবি আইনগতভাবে কতটুকু গ্রহণযোগ্য?

২. সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৯ ধারার আইনি বিধান ও বৈশিষ্ট্য

সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন, ১৮৭৭-এর ধারা ৯ স্পষ্টভাবে বলে:

“Nothing in this section shall bar any person from suing to establish his title to such property and to recover possession thereof.”

এই বিধিমালার প্রত্যক্ষ আইনি ফলাফলসমূহ নিম্নরূপ:

  1. স্বত্ব বনাম দখল (Title vs. Possession): ৯ ধারার মামলার উদ্দেশ্য কোনো স্বত্ব বা মালিকানা নির্ধারণ করা নয়; এর একমাত্র উদ্দেশ্য হলো শক্তিপ্রয়োগের মাধ্যমে দখলচ্যুতির তাৎক্ষণিক প্রতিকার প্রদান।
  2. বিবাদীর স্বত্বের অজুহাত অপ্রাসঙ্গিক: বিবাদীর যদি সম্পত্তিতে ১৬ আনা বৈধ স্বত্বও থাকে, তবুও তিনি আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে একজন শান্তিপূর্ণ দখলদারকে জোরপূর্বক বেদখল করতে পারেন না। আইন অনুযায়ী প্রকৃত মালিককেও দখল পেতে হলে আদালতের মাধ্যমে (৮ ধারা মোতাবেক) মামলা করতে হবে।
  3. লিখিত জবাবে স্বত্বের দাবি আইনত অগ্রহণযোগ্য: ৯ ধারার মামলায় আদালত বিবাদীর স্বত্ব বা মালিকানার কোনো দলিল বা প্রমাণ বিবেচনা করবেন না। আদালত কেবল দুটি বিষয় দেখবেন:
    • বাদী বেদখল হওয়ার পূর্বমুহূর্তে সম্পত্তিতে প্রকৃত দখলে ছিলেন কি না।
    • মামলা দায়েরের ৬ মাসের মধ্যে বাদীর সম্মতি ছাড়া বেআইনিভাবে বেদখল করা হয়েছে কি না।

৩. বিবাদীর যুক্তির আইনগত মূল্যায়ন

বিজ্ঞ আইনজীবী হিসেবে বিবাদীর যুক্তির মূল্যায়ন হবে নিম্নরূপ:

  • আইনত মূল্যহীন ও প্রত্যাখ্যাত হওয়ার যোগ্য: বিবাদীর যুক্তি যে তিনি “প্রকৃত মালিকের নিকট থেকে জমি খরিদ করেছেন”, তা ৯ ধারার সামারি মোকদ্দমায় সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক এবং আইনত অকার্যকর (Inadmissible and irrelevant)।
  • বিবাদীর সঠিক আইনি পথ: ৯ ধারায় যদি বাদীর পক্ষে দখল প্রত্যার্পণের ডিক্রি হয়, তবে বিবাদীর প্রতিকার রুদ্ধ হয় না। বিবাদী পরবর্তীতে সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইনের ৮ ও ৪২ ধারা অনুযায়ী উপযুক্ত আদালতে স্বত্ব ঘোষণা ও দখল পাওয়ার জন্য নিয়মিত স্বত্ব মোকদ্দমা (Title Suit) দায়ের করতে পারবেন। ৯ ধারার ডিক্রি উক্ত নিয়মিত স্বত্ব মোকদ্দমায় কোনো বাধা (Res Judicata) হবে না।

৪. উচ্চ আদালতের নজির (Precedents)

  • Abdul Aziz vs. Sk. Amir Ali (32 DLR 143): ৯ ধারার মামলায় স্বত্বের প্রশ্ন সম্পূর্ণভাবে বর্জিত। বিবাদী যদি প্রমাণ করতেও সক্ষম হন যে তিনি জমির মূল মালিক, তবুও বাদী যদি পূর্ববর্তী দখল ও বেআইনি বেদখল প্রমাণ করেন, তবে আদালত বাদীর অনুকূলেই ডিক্রি প্রদান করতে বাধ্য।
  • Mvi. Abdul Jalil vs. Haji Abdul Gani (21 DLR 755): কোনো ব্যক্তি আইনকে পাশ কাটিয়ে জবরদস্তিমূলকভাবে দখল নিলে তাকে সেই দখল ছেড়ে দিতে হবে; মালিকানা প্রমাণের স্থান ৯ ধারার মোকদ্দমা নয়।

৫. উপসংহার

অতএব, বিবাদীর উত্থাপিত যুক্তির কোনো আইনি ভিত্তি ৯ ধারার মোকদ্দমায় নেই। আদালত বিবাদীর স্বত্বের দাবি সরাসরি অগ্রাহ্য করবেন এবং বাদীর দখল ও ৬ মাসের মধ্যে বেআইনি বেদখল প্রমাণিত হলে বাদী দখল পুনরুদ্ধারের ডিক্রি লাভ করবেন।

Related Articles

Back to top button