চুক্তি আইনের ১৩৩ ও ১৩৪ ধারায় ঋণগ্রহীতার সাথে ব্যাংকের মূল ঋণের শর্ত একতরফা পরিবর্তন হলে ব্যক্তিগত জামিনদার (Personal Guarantor) সম্পূর্ণ দায়মুক্ত: হাইকোর্টের নজির

⚖️ মামলার সারসংক্ষেপ ও চূড়ান্ত আইনি সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের ল্যান্ডমার্ক সিদ্ধান্ত: চুক্তি আইন, ১৮৭২ এর ১৩৩ ধারার সুপ্রতিষ্ঠিত বিধান অনুযায়ী— জামিনদারের (Surety / Guarantor) লিখিত পূর্বানুমতি বা সম্মতি ব্যতিরেকে যদি ঋণদাতা ব্যাংক এবং মূল ঋণগ্রহীতার মধ্যে ঋণের শর্তাবলী, সুদের হার, পরিশোধের সময়সীমা বৃদ্ধি বা নতুন ঋণ সুবিধা প্রদানের কোনো পরিবর্তন বা পরিমার্জন সাধিত হয়, তবে উক্ত একতরফা পরিবর্তনের মুহূর্ত হতেই ব্যক্তিগত জামিনদার তাঁর সমুদয় আর্থিক দায় থেকে আইনত সম্পূর্ণ অবমুক্ত বা খালাস (Discharged from liability) হয়ে যান। পরবর্তীতে ঋণ খেলাপি হলে উক্ত জামিনদারের সম্পদ বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে অর্থ ঋণ মামলা বা কোনো আর্থিক ডিক্রি চলতে পারে না। সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের এই সিদ্ধান্ত দেশের আইন অঙ্গনে একটি ঐতিহাসিক ও ল্যান্ডমার্ক দিকনির্দেশনা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা বিচারপ্রার্থী ও সাধারণ নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষায় এক যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করছে।

১. মামলার প্রেক্ষাপট ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ (Facts of the Case)

ব্যাংকিং অর্থায়নে ব্যক্তিগত জামিননামা (Personal Guarantee) একটি বহুল ব্যবহৃত দলিল। ব্যাংকগুলো ঋণ মঞ্জুর করার সময় গ্রাহকের পাশাপাশি কোনো আত্মীয় বা ব্যবসায়িক অংশীদারকে ‘ব্যক্তিগত জামিনদার’ হিসেবে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। কিন্তু প্রায়শই দেখা যায়, মূল ঋণের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ঋণগ্রহীতা যখন খেলাপি হন, তখন ব্যাংক জামিনদারকে কোনো নোটিশ না দিয়েই গোপনে মূল ঋণগ্রহীতার সাথে বসে ঋণের মেয়াদ একাধিকবার বৃদ্ধি করে, ঋণের সীমা বাড়িয়ে দেয় কিংবা অতিরিক্ত সুবিধাদি মঞ্জুর করে। পরবর্তীতে সমস্ত প্রতিষ্ঠান যখন দেউলিয়া হয়ে যায়, তখন ব্যাংক হঠাৎ গিয়ে বৃদ্ধ বা নিরীহ জামিনদারের বিরুদ্ধে অর্থ ঋণ আদালতে কোটি কোটি টাকার মামলা দায়ের করে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পত্তি ক্রোকের চেষ্টা করে। অত্র মামলায় মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ চুক্তি আইনের শতাব্দী প্রাচীন নীতিমালার কঠোর প্রয়োগের মাধ্যমে ব্যক্তিগত জামিনদারদের এই ধরনের অন্যায্য শোষণ থেকে চিরতরে মুক্ত করেছেন।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে প্রকাশ, অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির একটি বাণিজ্যিক শাখা থেকে একটি ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানকে ৫ কোটি টাকার সিসি (Cash Credit) ঋণ সুবিধা মঞ্জুর করা হয়। উক্ত ঋণের বিপরীতে রেসপনডেন্ট আলহাজ্ব মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম একখানা ব্যক্তিগত জামিননামা সম্পাদন করেন। জামিননামার নির্দিষ্ট মেয়াদ ছিল ১ বছর।

উক্ত ১ বছর মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর ঋণগ্রহীতা টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হন। কিন্তু অগ্রণী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জামিনদার নুরুল ইসলামকে কিছুই অবগত না করে মূল ঋণগ্রহীতার আবেদনের প্রেক্ষিতে পর পর তিনবার ঋণের মেয়াদ এক বছর করে বৃদ্ধি করে এবং ঋণের সীমা ৫ কোটি থেকে বৃদ্ধি করে ৮ কোটি টাকায় উন্নীত করে। পরিমার্জিত এই নতুন ঋণ চুক্তিতে জামিনদার নুরুল ইসলামের কোনো স্বাক্ষর বা সম্মতি গ্রহণ করা হয়নি। চার বছর পর যখন ঋণগ্রহীতা সম্পূর্ণ লাপাত্তা হয়ে যান এবং ঋণটি খেলাপি হয়, তখন ব্যাংক সর্বমোট ১২ কোটি টাকা আদায়ের জন্য অর্থ ঋণ আদালতে মূল ঋণগ্রহীতা এবং জামিনদার নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে যৌথভাবে মোকদ্দমা দায়ের করে।

যুগ্ম জেলা জজ ও অর্থ ঋণ আদালতে জামিনদার নুরুল ইসলাম উপস্থিত হয়ে চুক্তি আইনের ১৩৩ ও ১৩৪ ধারার বিধান তুলে ধরে লিখিত জবাব দাখিল করেন। তিনি প্রমাণ করেন যে, ব্যাংকের সাথে তাঁর জামিননামা ছিল ১ বছরের জন্য এবং ৫ কোটি টাকার জন্য। ব্যাংক তাঁর অজান্তে মূল চুক্তি একতরফাভাবে পরিবর্তন করে ঋণ বৃদ্ধি করেছে, সুতরাং চুক্তি আইন অনুযায়ী তিনি বহু পূর্বেই দায়মুক্ত হয়েছেন।

বিজ্ঞ অর্থ ঋণ আদালত সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা শেষে চুক্তি আইনের বিধান সঠিক প্রয়োগ করে জামিনদার নুরুল ইসলামকে মামলার দায় থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি প্রদান করেন এবং শুধুমাত্র মূল ঋণগ্রহীতার বিরুদ্ধে ডিক্রি জারি করেন। সংক্ষুব্ধ হয়ে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি হাইকোর্ট বিভাগে এই নিয়মিত দেওয়ানি প্রথম আপিল দায়ের করে।

২. পক্ষদ্বয়ের আইনি দাবি ও যুক্তিতর্ক (Pleadings & Contentions)

👤 আবেদনকারী / দরখাস্তকারী পক্ষের আইনি যুক্তি

  • অর্থ ঋণ আদালত আইনের ৬(৫) ধারার প্রভাব: অর্থ ঋণ আদালত আইনের ৬(৫) ধারায় বলা হয়েছে মূল ঋণগ্রহীতা ও জামিনদারের দায় যৌথ ও পৃথক (Joint and Several Liability)। জামিনদার একবার স্বাক্ষর করলে তিনি ঋণ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত দায়বদ্ধ থাকেন।
  • ব্যাংকের স্ট্যান্ডার্ড গ্যারান্টি ফর্ম: ব্যাংকের জামিননামায় একটি ছোট ছাপানো শর্ত থাকে যে ব্যাংক যেকোনো সময় ঋণ নবায়ন করতে পারবে। অতএব জামিনদারের আলাদা অনুমতির প্রয়োজন নেই।
  • সংবিধানের মৌলিক অধিকার ও আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া (Due Process of Law) লঙ্ঘন করে কোনো সিদ্ধান্ত বহাল রাখা যায় না।
  • সংশ্লিষ্ট সংবিধিবদ্ধ আইনের মূল উদ্দেশ্য ও আইনি অক্ষরের সঠিক প্রয়োগে আবেদনকারীর দাবি শতভাগ ন্যায্য।

👥 বিপরীতপক্ষ / বাদীর আইনি অবস্থান

  • চুক্তি আইনের ১৩৩ ধারার অলঙ্ঘনীয় বিধান: চুক্তি আইনের ১৩৩ ধারায় সুস্পষ্ট বলা হয়েছে— “Any variance, made without the surety’s consent, in the terms of the contract between the principal debtor and the creditor, discharges the surety as to transactions subsequent to the variance.” ব্যাংকের স্ট্যান্ডার্ড ছাপানো ক্লজ চুক্তি আইনের সুনির্দিষ্ট আইনি নিষেধাজ্ঞাকে বাতিল করতে পারে না।
  • ধারক ও জামিনদারের ঝুঁকির বৃদ্ধি (Impairment of Surety’s Remedy): ব্যাংক জামিনদারের অজ্ঞাতে ঋণের পরিমাণ ৫ কোটি থেকে ৮ কোটি টাকায় বৃদ্ধি করে জামিনদারের ঝুঁকিকে মারাত্মকভাবে বিপজ্জনক করে তুলেছে। ধারা ১৩৯ অনুযায়ী জামিনদারের অধিকার ক্ষুণ্ন হলে তিনি সম্পূর্ণ দায়মুক্ত হন।
  • অধস্তন আদালতের রায় ও আদেশ সাক্ষ্যপ্রমাণ এবং প্রচলিত বিচারিক চর্চার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
  • আবেদনকারী পক্ষের বক্তব্য মামলার মূল আইনি ভিত্তি ও নথিপত্রের বিপরীতে দাঁড়ায় না।

৩. বিচার্য বিষয় ও অধস্তন আদালতের বিচারিক ত্রুটি (Issues & Flaws)

মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের সামনে মূল বিচার্য বিষয় ছিল: (১) সংশ্লিষ্ট বিশেষ আইনের বিধানাবলি কি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল, নাকি তা লংঘিত হয়েছে? (২) অধস্তন আদালত কি এখতিয়ারবহির্ভূত আদেশ প্রদান বা প্রমাণের ভুল ব্যাখ্যার মাধ্যমে গুরুতর বিচারিক ভুল (Jurisdictional Error) করেছেন? এবং (৩) মামলার সামগ্রিক ঘটনা ও নথিপত্র বিবেচনায় সংক্ষুব্ধ পক্ষের আবেদন কি আইনত মঞ্জুরযোগ্য?

বিজ্ঞ বিচারপতি উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানি গ্রহণ করেন, মামলার আরজি, জবাব ও মূল নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করেন এবং আইনের সুপ্রতিষ্ঠিত নীতির আলোকে প্রতিটি বিচার্য বিষয়ের নিষ্পত্তি করেন।

৪. হাইকোর্টের আইনি ব্যাখ্যা, রেশিও ও নজির বিশ্লেষণ (High Court’s Ratio)

মাননীয় ডিভিশন বেঞ্চ চুক্তি আইনের অধ্যায় ৮ (জামানত ও ক্ষতিপূরণ), ব্যাংক-কোম্পানী আইন এবং সুপ্রিম কোর্টের দীর্ঘ আইনি নজিরসমূহ বিস্তারিত পর্যালোচনা করেন:

ক) জামিনদারের অধিকার একটি সংবিধিবদ্ধ বিশেষ অধিকার

আদালত উল্লেখ করেন, ব্যক্তিগত জামিনদার কোনো দানশীল প্রতিষ্ঠান নন; তিনি একটি সুনির্দিষ্ট চুক্তির ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য জামিনদার হয়েছিলেন। ব্যাংক যখনই সেই মূল চুক্তিতে সামান্যতম কোনো পরিবর্তন (Variance) আনবে— তা হতে পারে সুদের হার বৃদ্ধি, পরিশোধের তারিখ পেছানো বা ঋণের অংক বৃদ্ধি— তখনই আইন জামিনদারকে তৎক্ষণাৎ সমস্ত দায় থেকে চিরতরে মুক্তি দেয়। জামিনদারকে অন্ধকার রেখে ব্যাংক ও মূল ঋণগ্রহীতা মিলে কোনো গোপন বোঝাপড়া করলে তার দায় কোনো তৃতীয় ব্যক্তির ওপর চাপানো যায় না।

খ) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবিসংবাদিত নজির

হাইকোর্ট বিভাগ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের ল্যান্ডমার্ক সিদ্ধান্ত Sonali Bank vs. M/S. Azizur Rahman (46 DLR (AD) 19), State Bank of Saurashtra vs. Chitranjan Rangnath Raja (AIR 1980 SC 1528) এবং বিখ্যাত M.S. M.N. Enterprise vs. Agrani Bank Ltd. (First Appeal No. 38 of 2020) উদ্ধৃত করে বলেন:

“It is an axiomatic principle of law under Section 133 of the Contract Act that any variance made without the surety’s consent discharges the guarantor. When a bank grants extension of time or enhances credit limit without the explicit written concurrence of the personal guarantor, the surety is completely discharged from all liabilities. The bank cannot invoke the summary provisions of the Artha Rin Adalat Ain against a discharged guarantor.”

অর্থ ঋণ আদালত সম্পূর্ণ সঠিক ও ন্যায়সঙ্গত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ব্যাংকের নিজের অবহেলা ও অনিয়মের দায় একজন নিরীহ জামিনদারের ওপর চাপানোর অপচেষ্টা আদালত প্রত্যাখ্যান করতে বাধ্য।

মহামান্য আদালত আরও অভিমত ব্যক্ত করেন যে, আইনের শাসন এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার স্বার্থে বিচারিক আদালতগুলোর দায়িত্ব হলো কোনো যান্ত্রিক বা অন্ধ দৃষ্টিভঙ্গি পরিহার করে আইনের প্রকৃত উদ্দেশ্য ও জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া। উচ্চ আদালতের দীর্ঘ নজির ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় এই ব্যাখ্যা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

“Under Sections 133 and 134 of the Contract Act, 1872, any material alteration of the terms of the principal contract between the creditor bank and borrower without the guarantor’s consent operates as a complete discharge of the personal guarantor.”

৫. হাইকোর্টের চূড়ান্ত রায় ও দিকনির্দেশনা (Final Verdict)

চূড়ান্ত রায় ও আদেশ: সার্বিক আইনি পর্যালোচনার ভিত্তিতে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ অগ্রণী ব্যাংক পিএলসির ফার্স্ট আপিলটি সরাসরি খারিজ করেন। নিম্ন অর্থ ঋণ আদালত কর্তৃক প্রদত্ত জামিনদার আলহাজ্ব মোহাম্মদ নুরুল ইসলামকে দায়মুক্তির রায় ও আদেশ সম্পূর্ণ বহাল রাখা হলো।
আদালত ঘোষণা করেন যে, নালিশি ঋণের কোনো বকেয়া বা অর্থদণ্ডের জন্য নুরুল ইসলামের ব্যক্তি বা সম্পত্তির বিরুদ্ধে কোনো প্রকার কার্যধারা চালানো যাবে না। ব্যাংকের সমস্ত আর্থিক দাবি কেবল মূল ঋণগ্রহীতা ও তাদের বন্ধকী সম্পত্তির ওপর সীমাবদ্ধ থাকবে।

৬. রায়ের মূল আইনি শিক্ষা ও নজির (Core Principles)
  • সুনির্দিষ্ট আইনি নীতি: চুক্তি আইনের ১৩৩ ও ১৩৪ ধারায় ঋণগ্রহীতার সাথে ব্যাংকের মূল ঋণের শর্ত একতরফা পরিব… সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের নীতি দেশের সকল আদালতের জন্য বাধ্যতামূলক।
  • সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদের বাধ্যবাধকতা: সুপ্রিম কোর্টের ঘোষিত এই রায় দেশের প্রতিটি আদালত ও ট্রাইব্যুনালকে নজির হিসেবে মেনে চলার বাধ্যবাধকতা তৈরি করে।
  • প্রক্রিয়াগত ত্রুটির মারাত্মক প্রভাব: আইনের অলঙ্ঘনীয় বিধান অমান্য করে গৃহীত যেকোনো প্রশাসনিক বা বিচারিক পদক্ষেপ গোড়াতেই বাতিলযোগ্য।
  • নাগরিক ও ব্যবসায়িক অধিকারের সুরক্ষা: সমতা, সততা এবং সুশাসনের স্বার্থে এই রায় বিচারপ্রার্থী ও পেশাজীবীদের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে।

৭. আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের জন্য জরুরি পরামর্শ (Practical Guidance)
  1. মেয়াদের সুনির্দিষ্ট শর্ত: জামিননামায় স্বাক্ষর করার পূর্বে নিশ্চিত করুন যে এতে ঋণের নির্দিষ্ট মেয়াদ ও সর্বোচ্চ অংক সুস্পষ্ট লেখা রয়েছে।
  2. নবায়নপত্রে স্বাক্ষর করবেন না: ঋণগ্রহীতা ভবিষ্যতে ব্যাংকের ঋণ রিসিডিউল বা বৃদ্ধি করতে চাইলে না বুঝে কোনো নতুন কাগজে স্বাক্ষর করবেন না; আপনার স্বাক্ষর না থাকলেই আপনি পূর্বের মেয়াদ শেষে চুক্তি আইনের ১৩৩ ধারায় মুক্ত থাকবেন।
  3. মামলা হলে ১৩৩ ধারার প্রয়োগ: ব্যাংক মামলা করলে বিজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে চুক্তি আইনের ১৩৩ ও ১৩৪ ধারার প্রতিরক্ষা তুলে ধরুন; জামিনদারের দায় বাতিলের জন্য এটি আদালতে সবচেয়ে অকাট্য আইনি অস্ত্র।
  4. মামলা বা যেকোনো আইনি নোটিশের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের এই সাম্প্রতিকতম নজিরটি সঠিকভাবে উদ্ধৃত করুন।
  5. বিচারিক আদালতে মামলা শুনানিকালে মূল সংবিধিবদ্ধ বিধানের সাথে তথ্যের সামঞ্জস্য প্রমাণে সচেষ্ট থাকুন।

📑 মামলার পরিচিতি ও অফিসিয়াল রেকর্ড রেফারেন্স
মামলার নম্বর First Appeal No. 204 of 2020
মোকদ্দমার পক্ষগণ Agrani Bank PLC (Appellant) Vs. Alhaj Mohammad Nurul Islam (Guarantor-Respondent)
বিচারপতি ও বেঞ্চ Mr. Justice Sheikh Abdul Awal & Mr. Justice Md. Rafizul Islam
আইনি ক্ষেত্র ও অধিশাখা অর্থ ঋণ আদালত আইন ২০০৩, চুক্তি আইন ১৮৭২, সালিশ আইন ২০০১ ও বাণিজ্যিক রিট এখতিয়ার
অফিসিয়াল রায় ও পূর্ণাঙ্গ নথি
📥 সুপ্রিম কোর্ট অফিসিয়াল রায় ডাউনলোড (PDF)

Related Articles

✍️ আইনি মতামত বা প্রশ্ন প্রকাশ করুন

Back to top button