[গেজেট] ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৬: ১৮টি জোনিং ও কঠোর দণ্ডবিধির পূর্ণাঙ্গ অফিশিয়াল গেজেট বিশ্লেষণ

📜 বাংলাদেশ গেজেট অতিরিক্ত সংখ্যা | ভূমি মন্ত্রণালয়

ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৬: ১৮টি জোনিং ও কঠোর দণ্ডবিধি

রেফারেন্স / গেজেট নম্বর:
অধ্যাদেশ নং ১২, ২০২৬ (Land Zoning Ordinance)
গেজেট প্রকাশের তারিখ:
১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
কর্তৃপক্ষ / উৎস:
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
আইনের প্রয়োগ ক্ষেত্র:
কৃষিভূমি সুরক্ষা, জোনিং ক্লাসিফিকেশন ও মোবাইল কোর্ট

📥 অফিশিয়াল সরকারি গেজেট ও প্রজ্ঞাপন PDF ডাউনলোড

বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় (BG Press) / সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রকাশিত মূল গেজেট ও প্রজ্ঞাপন কপি নিচে সরাসরি ডাউনলোড ও ব্রাউজারে পড়ার জন্য উন্মুক্ত রয়েছে:

📜 ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৬ (অধ্যাদেশ নং ১২, ২০২৬)
প্রকাশের তারিখ: ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬ | পৃষ্ঠা: ১৬ | আকার: ১.০৫ মেগাবাইট | বাংলাদেশ গেজেট অতিরিক্ত সংখ্যা | উৎস: বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় (বিজি প্রেস) / সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়

📄 এই পেজেই সরাসরি মূল অফিশিয়াল গেজেট প্রিভিউ দেখুন (ক্লিক করুন)


অধ্যাদেশের পটভূমি ও জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তার সুরক্ষা

দ্রুত নগরায়ন, যত্রতত্র শিল্পকারখানা স্থাপন ও ইটভাটার কারণে আশঙ্কাজনক হারে কৃষিজমি হ্রাস পাওয়ায় বাংলাদেশ সরকার গত ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে জারি করেছে “ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৬ (২০২৬ সনের ১২ নং অধ্যাদেশ)”।

১৬ পৃষ্ঠার এই পূর্ণাঙ্গ অধ্যাদেশে দেশের সমস্ত ভূমিকে ১৮টি সুনির্দিষ্ট জোনে বিভক্ত করা হয়েছে এবং অনুমোদনহীন জমি শ্রেণি পরিবর্তন বা ভরাটের বিরুদ্ধে কঠোর ফৌজদারি দণ্ডের বিধান করা হয়েছে।

তফসিল ১: ভূমির ১৮টি জোনিং ক্লাসিফিকেশন (Schedule 1)

অধ্যাদেশের প্রথম তফসিল অনুযায়ী সারাদেশে ভূমির ব্যবহার নিম্নরূপ ১৮টি জোনে বিভক্ত থাকবে:

  1. কৃষি অঞ্চল (Agricultural Zone – AZ): খাদ্যশস্য, রবিশস্য ও উদ্যানজাত ফসল উৎপাদনের জন্য সংরক্ষিত।
  2. বিশেষ কৃষি অঞ্চল (Special Agricultural Zone – SAZ): উচ্চ ফলনশীল ও ভৌগোলিক নির্দেশক (GI) ফসলের ভূমি; এটি কোনোভাবেই অন্য কাজে ব্যবহার করা যাবে না।
  3. কৃষি-বন অঞ্চল (Agro-Forestry Zone – AFZ): কৃষি ও বনায়নের সমন্বিত এলাকা।
  4. বন অঞ্চল (Forestry Zone – FRZ): সংরক্ষিত ও প্রাকৃতিক বনাঞ্চল।
  5. জলাশয় ও প্লাবন অঞ্চল (Waterbody & Flood Flow Zone – WFZ): নদী, খাল, হাওর, বিল ও বন্যা প্রবাহ এলাকা; ভরাট সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
  6. গ্রামীণ বসতি অঞ্চল (Rural Settlement Zone – RSZ): গ্রামাঞ্চলের প্রথাগত আবাসিক ভিটা।
  7. নগর অঞ্চল (Urban Zone – UZ): পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন এলাকা।
  8. আরবান রিজার্ভ অঞ্চল (Urban Reserve Zone – URZ): ভবিষ্যতের সুপরিকল্পিত সম্প্রসারণের জন্য নির্ধারিত সংরক্ষিত নগর ভূমি।
  9. শিল্প ও বাণিজ্যিক অঞ্চল (Industrial & Commercial Zone – ICZ): অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের জন্য অনুমোদিত জোন।
  10. পর্যটন ও বিনোদন অঞ্চল (Tourism & Recreation Zone – TRZ): পর্যটন এলাকা।
  11. বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (Special Economic Zone – SEZ): রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ ও বেজা অনুমোদিত এলাকা।
  12. উপকূলীয় ও মোহনা অঞ্চল (Coastal & Estuary Zone – CEZ): উপকূল ও চরাঞ্চল।
  13. হাওর ও বিল অঞ্চল (Haor & Beel Zone – HBZ): প্রাকৃতিকভাবে সুরক্ষিত হাওর এলাকা।
  14. পাহাড় ও টিলা অঞ্চল (Hilly & Undulating Zone – HUZ): পাহাড় কাটা ও টিলা বিনাশ রোধে সংরক্ষিত এলাকা।
  15. প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহ্য অঞ্চল (Archaeological & Heritage Zone – AHZ): জাতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক এলাকা।
  16. পরিবেশগত সংকটাপন্ন অঞ্চল (Ecologically Critical Area – ECA): পরিবেশ আইন দ্বারা ঘোষিত ইসিএ।
  17. সরকারি প্রকল্প ও অবকাঠামো অঞ্চল (Public Project & Infrastructure Zone – PPIZ): জাতীয় অবকাঠামো এলাকা।
  18. মিশ্র ব্যবহার অঞ্চল (Mixed-Use Zone – MUZ): আবাসিক ও হালকা বাণিজ্যিক মিশ্রণ।

তফসিল ২: অপরাধ ও কঠোর দণ্ডবিধি (Schedule 2 Penalties)

অপরাধের বিবরণ সংশ্লিষ্ট ধারা নির্ধারিত সর্বোচ্চ শাস্তি
অনুমতি ছাড়া ভূমির নির্ধারিত জোন পরিবর্তন ধারা ১৭ ৬ মাস কারাদণ্ড বা ১ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড
কৃষি জমি ভরাট বা অন্য কাজে ব্যবহার ধারা ১৮ ১ বছর কারাদণ্ড বা ২ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড
জলাশয় ভরাট করে বাণিজ্যিক আবাসন নির্মাণ ধারা ১৯ ২ বছর কারাদণ্ড বা ৪ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড
ইটভাটার জন্য কৃষিজমির টপসয়েল বা পাহাড় কাটা ধারা ২০ ২ বছর কারাদণ্ড বা ৫ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড
বিশেষ কৃষি অঞ্চল (SAZ) নষ্ট করা ধারা ২১ ৩ বছর কারাদণ্ড বা ১০ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড

মোবাইল কোর্ট এখতিয়ার: অধ্যাদেশের ধারা ২২ অনুযায়ী মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯-এর তফসিলে এই অধ্যাদেশ অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সাজা ও জরিমানা প্রদান করতে পারবেন।

❓ গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)

ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৬ অনুযায়ী নিজের কৃষি জমিতে কি বাড়ি তৈরি করা যাবে?
নিজের বসবাসের জন্য গ্রামীণ বসতি অঞ্চলে সীমিত পরিসরে বাড়ি নির্মাণ করা গেলেও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে বা বড় আবাসন প্রকল্পের জন্য কৃষি জমি বা জলাশয় ভরাট করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
ইটভাটার জন্য কৃষিজমির মাটি কাটার শাস্তি কী?
অধ্যাদেশের ২০ ধারা অনুযায়ী ২ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড আরোপের বিধান রয়েছে।

Related Articles

Back to top button