Evidence Act MCQ Model Test বাংলা | বার কাউন্সিল প্রস্তুতি ২০২৬
সাক্ষ্য আইন (Evidence Act) MCQ মডেল টেস্ট – বার কাউন্সিল প্রস্তুতি
বাংলাদেশ বার কাউন্সিল (Bangladesh Bar Council) এবং বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস (BJS) পরীক্ষার প্রস্তুতির ক্ষেত্রে সাক্ষ্য আইন ১৮৭২-এর উপর পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নিতে আইন প্রকাশ-এর এক্সক্লুসিভ ১৩টি র্যান্ডম এমসিকিউ (MCQ) মডেল টেস্টে আজই অংশগ্রহণ করুন।
আমাদের মডেল টেস্ট তালিকা
সাক্ষ্য আইন (Evidence Act): বিচার প্রক্রিয়ার মূল ভিত্তি ও প্রস্তুতির গাইড
সাক্ষ্য আইন কী?
সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ (The Evidence Act, 1872) বাংলাদেশের দেওয়ানী ও ফৌজদারি উভয় বিচার প্রক্রিয়ার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদ্ধতিগত আইন (Procedural Law)। আদালতে বিচার্য বিষয় (Fact in Issue) কীভাবে প্রমাণ বা অপ্রমাণ করতে হবে, কোন বিষয়গুলো প্রাসঙ্গিক (Relevant Fact), কোন ধরনের সাক্ষ্য আদালতে গ্রহণযোগ্য (Admissible) এবং প্রমাণের দায়িত্ব (Burden of Proof) কার উপর বর্তাবে—তার বিস্তারিত আইনি দিকনির্দেশনা এই আইনে রয়েছে। স্যার জেমস স্টিফেনের (Sir James Fitzjames Stephen) তৈরি করা এই আইনে ৩টি খণ্ড, ১১টি অধ্যায় এবং ১৬৭টি ধারা রয়েছে। এটি এমন একটি আইন যা বিচারকের সামনে সত্য উদঘাটনের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে কাজ করে।
Admission এবং Confession
সাক্ষ্য আইনের সবচেয়ে কনফিউজিং কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ দুটি টপিক হলো Admission (স্বীকৃতি) এবং Confession (দোষ স্বীকারোক্তি)। ধারা ১৭-এর অধীনে Admission হলো এমন একটি বিবৃতি যা বিচার্য বিষয় সম্পর্কে কোনো অনুমানের সৃষ্টি করে এবং এটি দেওয়ানী ও ফৌজদারি উভয় মামলায় প্রযোজ্য। অন্যদিকে, Confession হলো কোনো অপরাধে নিজের সংশ্লিষ্টতা সরাসরি স্বীকার করা, যা শুধুমাত্র ফৌজদারি মামলায় প্রযোজ্য (ধারা ২৪-৩০)। মনে রাখতে হবে, পুলিশের কাছে দেওয়া স্বীকারোক্তি আদালতে প্রমাণ করা যায় না (ধারা ২৫), তবে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দেওয়া হলে তা গ্রহণযোগ্য (ধারা ২৬)।
Burden of Proof (প্রমাণের দায়িত্ব)
আদালতে কে কোনো ঘটনা প্রমাণ করবে তা Burden of Proof বা প্রমাণের দায়িত্বের (ধারা ১০১-১১৪) ওপর নির্ভর করে। সাধারণ নিয়ম হলো “যিনি দাবি করেন, তাকেই প্রমাণ করতে হয়” (ধারা ১০১)। फौजদারি মামলায় আসামিকে দোষী প্রমাণ করার দায়িত্ব সবসময় রাষ্ট্রপক্ষের (Prosecution) উপর থাকে। তবে আসামি যদি দাবি করে যে সে ঘটনার সময় অন্য কোথাও ছিল (Alibi – ধারা ১১) বা সে আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করেছে (ধারা ১০৫), তবে তা প্রমাণের দায়িত্ব আসামির নিজের উপরই বর্তায়।
Estoppel (স্বীকৃতিজনিত বাধা)
Estoppel বা এস্টোপেল নীতি (ধারা ১15) হলো দেওয়ানী আইনের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী বিধান। এই নীতি অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি তার কথা বা কাজের মাধ্যমে অন্য কাউকে কোনো বিষয় বিশ্বাস করায় এবং সেই অনুযায়ী কাজ করতে প্ররোচিত করে, তবে পরবর্তীতে কোনো মামলায় সে ওই কথা অস্বীকার করতে বা তার অবস্থান পরিবর্তন করতে পারবে না।
Dying Declaration (মৃত্যুকালীন ঘোষণা)
মৃত্যুর আগে কোনো ব্যক্তি তার মৃত্যুর কারণ বা পরিস্থিতি সম্পর্কে যে বিবৃতি দেয়, তাকে Dying Declaration বলে (ধারা ৩২(১))। ব্যক্তি মারা গেলে এটি আদালতে অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য একটি সাক্ষ্য, কারণ আইন মনে করে “একজন মুমূর্ষু ব্যক্তি কখনো মিথ্যা বলে না” (Nemo moriturus praesumitur mentiri)।
Oral Evidence বনাম Documentary Evidence
সাক্ষ্য মূলত দুই ধরনের হতে পারে: Oral Evidence (মৌখিক সাক্ষ্য) এবং Documentary Evidence (দালিলিক সাক্ষ্য)। ধারা ৬০ অনুযায়ী, মৌখিক সাক্ষ্য অবশ্যই প্রত্যক্ষ (Direct) হতে হবে। অর্থাৎ সাক্ষী যা নিজে দেখেছে, শুনেছে বা অনুভব করেছে, শুধু সেটাই সাক্ষ্য হিসেবে দিতে পারবে; শোনা কথা (Hearsay) গ্রহণযোগ্য নয়। অন্যদিকে দালিলিক সাক্ষ্য প্রমাণের ক্ষেত্রে প্রাথমিক সাক্ষ্য বা Primary Evidence (মূল দলিল – ধারা ৬২) সবসময় গৌণ সাক্ষ্য বা Secondary Evidence (কপি বা ফটোকপি – ধারা ৬৩) এর চেয়ে উত্তম হিসেবে বিবেচিত হয়।
পরীক্ষায় সাক্ষ্য আইনের গুরুত্ব ও প্রস্তুতি
বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট প্রিলিমিনারি (MCQ) পরীক্ষায় সাক্ষ্য আইন থেকে ১৫ নম্বরের প্রশ্ন আসে। এই আইনের প্রস্তুতি নিতে হলে কোনোভাবেই শুধু ধারা মুখস্থ করা যাবে না, আইনের মূল ভিত্তি বা লজিক বুঝতে হবে। বিশেষ করে Expert Opinion (বিশেষজ্ঞের মতামত – ধারা ৪৫), বোবা সাক্ষী (ধারা ১১৯), এবং জেরায় Leading Question (ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন – ধারা ১৪৩) করার নিয়মগুলো সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে। কনসেপ্ট ক্লিয়ার করার পর আমাদের প্ল্যাটফর্মের ১৩টি এক্সক্লুসিভ Evidence Act MCQ Model Test বারবার অনুশীলন করলে পরীক্ষার হলের বিভ্রান্তি অনেকটাই কেটে যাবে।
বাংলাদেশ বার কাউন্সিল পূর্ণাঙ্গ MCQ মডেল টেস্ট
গুরুত্বপূর্ণ ২০টি Evidence Act MCQ (নমুনা প্রশ্ন)
বার কাউন্সিল ও জুডিশিয়ারি পরীক্ষার জন্য সাক্ষ্য আইন থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ২০টি প্রশ্ন ও উত্তর নিচে দেওয়া হলো:
১. সাক্ষ্য আইন (Evidence Act) কত সালে প্রণীত হয়?
২. সাক্ষ্য আইনের খসড়া কে তৈরি করেন?
৩. সাক্ষ্য আইন কবে থেকে কার্যকর হয়?
৪. ‘Fact in Issue’ (বিচার্য বিষয়) এর সংজ্ঞা কোন ধারায়?
৫. Res Gestae (একই কাজের অংশ) নীতিটি কোন ধারায় বর্ণিত?
৬. ‘Alibi’ (অন্যত্র থাকার অজুহাত) কোন ধারার বিধান?
৭. Admission (স্বীকৃতি) এর সংজ্ঞা কোন ধারায়?
৮. পুলিশের কাছে দেওয়া Confession (স্বীকারোক্তি) কি প্রমাণ করা যায়?
৯. Dying Declaration (মৃত্যুকালীন ঘোষণা) কোন ধারায়?
১০. Expert Opinion (বিশেষজ্ঞের মতামত) কোন ধারায় প্রাসঙ্গিক?
১১. Oral Evidence (মৌখিক সাক্ষ্য) অবশ্যই কেমন হতে হবে?
১২. Documentary Evidence (দালিলিক সাক্ষ্য) কত প্রকার?
১৩. Public Document (সরকারি দলিল) সম্পর্কে কোন ধারায় বলা হয়েছে?
১৪. Burden of Proof (প্রমাণের দায়িত্ব) মূলত কার উপর বর্তায়?
১৫. Estoppel (স্বীকৃতিজনিত বাধা) এর বিধান কোন ধারায়?
১৬. Accomplice (দুষ্কর্মের সহযোগী) কি যোগ্য সাক্ষী?
১৭. বোবা সাক্ষী (Dumb Witness) কীভাবে সাক্ষ্য দিতে পারে?
১৮. Leading Question (ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন) কখন করা যায়?
১৯. Hostile Witness (বৈরী সাক্ষী) ঘোষণার বিধান কোন ধারায়?
২০. সাক্ষ্য আইনে মোট কতটি ধারা আছে?
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) – Evidence Act
সাক্ষ্য আইন বা Evidence Act কী?
বার কাউন্সিলে Evidence Act থেকে কত মার্কস আসে?
Admission এবং Confession এর মধ্যে পার্থক্য কী?
Dying Declaration বা মৃত্যুকালীন ঘোষণা কী?
Burden of Proof বা প্রমাণের দায়িত্ব কার?
Estoppel বা এস্টোপেল নীতি কী?
Expert Opinion বা বিশেষজ্ঞের মতামত কখন প্রাসঙ্গিক?
Oral Evidence বা মৌখিক সাক্ষ্য কেমন হতে হবে?
Documentary Evidence বা দালিলিক সাক্ষ্য কী?
Fact in Issue এবং Relevant Fact এর পার্থক্য কী?
Leading Question বা ইঙ্গিতবাহী প্রশ্ন কখন করা যায়?
Hostile Witness বা বৈরী সাক্ষী কাকে বলে?
Accomplice বা দুষ্কর্মের সহযোগী কি যোগ্য সাক্ষী?
সাক্ষ্য আইনে কি Affidavit (হলফনামা) প্রযোজ্য?
Evidence Act MCQ প্রস্তুতির সেরা উপায় কী?