বিচারকের খাস কামরায় একতরফা আদেশ ও বার কাউন্সিলে নালিশী দরখাস্ত মুসাবিদা – ২০১৪

🏛️ বাংলাদেশ বার কাউন্সিল লিখিত পরীক্ষার বিগত সালের প্রশ্নব্যাংক (২০১১–২০২৫):
বার কাউন্সিল অ্যাডভোকেট তালিকাভুক্তি লিখিত পরীক্ষা ২০১৪ — গ্রুপ ‘চ’ (বার কাউন্সিল ও আচরণবিধি)

কোর্ট বিরতিকালে খাস কামরায় মুলতবি আদেশ হাসিল: পেশাগত অসদাচরণ ও বার কাউন্সিলে নালিশি দরখাস্তের পূর্ণাঙ্গ মুসাবিদা

১. মূল প্রশ্ন (Examination Question)

১২. একজন এ্যাডভোকেট কোর্ট বিরতিকালে একজন বিচারকের খাস কামরায় প্রবেশ করেন এবং অপর পক্ষের অনুপস্থিতিতে একটি মুলতবী আদেশ প্রাপ্ত হন। তিনি এই ধরনের কাজ প্রায়ই করেন। আপনি কি মনে করেন যে, তার এই কাজ Canons of Professional Conduct and Etiquette পরিপন্থী? এক্ষেত্রে আপনি তার বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করতে চান। আইনের উদ্ধৃতি দিয়ে যথাযথভাবে একটি নালিশী দরখাস্ত মুসাবিদা করুন। [পূর্ণমান: ২০]

২. আইনগত মতামত ও সিদ্ধান্ত (Legal Opinion & Determination)

সিদ্ধান্ত: হ্যাঁ, উক্ত এ্যাডভোকেট সাহেবের এহেন কার্যকলাপ বাংলাদেশ বার কাউন্সিল প্রণীত Canons of Professional Conduct and Etiquette-এর সুস্পষ্ট এবং মারাত্মক লঙ্ঘন এবং এটি চরম পেশাগত অসদাচরণ (Gross Professional Misconduct)।

আচরণবিধির সুনির্দিষ্ট লঙ্ঘন (Violation of Specific Canons):

  1. আদালতের প্রতি কর্তব্যের অধ্যায় ১, নিয়ম ৪ (Chapter I, Rule 4 – Duty to the Court):
    “An Advocate should not communicate privately with a Judge on the merits or disposition of a pending cause, and he deserves rebuke and denunciation for any device or attempt to gain from a Judge personal considerations.”
    কোনো আইনজীবী বিচারাধীন মামলার বিষয়ে অপর পক্ষের আইনজীবীর অনুপস্থিতিতে বিচারকের সাথে গোপনে বা একান্তে যোগাযোগ করতে পারবেন না। বিরতিকালে বিচারকের খাস কামরায় প্রবেশ করে একতরফা আদেশ হাসিল করা বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে ধ্বংস করে।
  2. মক্কেলের প্রতি কর্তব্যের অধ্যায় ২, নিয়ম ১ (Chapter II, Rule 1):
    আইনজীবীকে সর্বদা আইনসম্মত ও উন্মুক্ত বিচারিক পন্থায় মোকাদ্দমা পরিচালনা করতে হবে; বিচারকের সাথে ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতা বা অনানুষ্ঠানিক সমঝোতার মাধ্যমে সুবিধা অর্জন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
  3. The Bangladesh Legal Practitioners and Bar Council Order, 1972-এর অনুচ্ছেদ ৩২: পেশাগত বা অন্যান্য অসদাচরণের (Professional or other misconduct) দায়ে তিনি বার কাউন্সিল ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক কঠোর শাস্তির যোগ্য।

৩. বার কাউন্সিলে নালিশী দরখাস্তের পূর্ণাঙ্গ মুসাবিদা (Legal Draft of Complaint)

৪. সুপ্রিম কোর্টের নজির (Judicial Precedents)

১. 32 DLR 154: সুপ্রিম কোর্ট পরিষ্কারভাবে সতর্ক করেন যে, বিচারকের সাথে বিচারবহির্ভূত গোপন যোগাযোগ কোনো কৌশল নয়, এটি বিচার ব্যবস্থার প্রতি বিষপ্রয়োগের শামিল। বার কাউন্সিল এ ধরনের আইনজীবীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে বাধ্য।

২. AIR 1954 SC 557: যে আইনজীবী আদালত প্রাঙ্গণে পেশাগত মর্যাদা বজায় রাখতে পারে না, তাকে আইন পেশা থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করাই একমাত্র সমাধান।

Related Articles

Back to top button