অবহেলার ফাঁকফোকর পূরণে দেওয়ানী মামলা রিমান্ডে পাঠানো বেআইনি: হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়

⚖️ মামলার সারসংক্ষেপ ও যুগান্তকারী আইনি সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ দেওয়ানী কার্যবিধির ৪১ আদেশের অধীন আপিল আদালতের রিমান্ড (Remand) এখতিয়ার এবং মামলার কার্যধারার চূড়ান্ত সমাপ্তি (Finality of Litigation) নিয়ে এক ঐতিহাসিক ও সুদূরপ্রসারী রায় প্রদান করেছেন। হাইকোর্ট আপিল বিভাগের সুপ্রতিষ্ঠিত নজিরসমূহ (৫৩ ডিএলআর এডি ১১০ এবং ৫৪ ডিএলআর এডি ৭৪) পুনর্ব্যক্ত করে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, বিচারাধীন অবস্থায় পর্যাপ্ত সুযোগ পেয়েও যে পক্ষ নিজের গাফিলতি ও অবহেলার কারণে ট্রায়াল কোর্টে সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেনি, আপিল পর্যায়ে এসে তার মামলার দুর্বলতা ও ফাঁকফোকর পূরণ করার (To fill up the lacuna) উদ্দেশ্যে মামলা পুনর্বিচারের জন্য ট্রায়াল কোর্টে রিমান্ডে পাঠানো সম্পূর্ণ বেআইনি ও ন্যায়বিচারের পরিপন্থী। আপিল আদালত কোনো নিষ্ক্রিয় পর্যবেক্ষণকারী ফোরাম (Passive reviewing forum) নয়; বরং আপিল আদালত তথ্যের চূড়ান্ত আদালত (Final Court of Fact)। বিচারিক অসম্পূর্ণতা দূর করতে কোনো দলিলের প্রয়োজন হলে আপিল আদালত নিজেই ৪১ আদেশ ২৭ বিধিতে অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ করতে পারে, কিন্তু বিচারিক অর্থনীতি নস্যাৎ করে পাইকারি হারে (Wholesale remand) নিম্ন আদালতে মামলা পাঠানো বিচারিক মনের প্রয়োগহীনতা।

১. মামলার প্রেক্ষাপট ও সুদীর্ঘ বিচারিক ইতিহাস (Facts & Procedural History)

মামলাটি বগুড়া জেলার গাবতলী সহকারী জজ আদালতে ২০০৬ সালে দায়েরকৃত অগ্রক্রয় মোকদ্দমা Pre-emption Case No. 22 of 2006 থেকে উদ্ভূত।

মামলার মূল প্রেক্ষাপট ও বিচারিক ঘটনাবলী নিম্নরূপ:

  • নালিশি জমি ও অগ্রক্রয়ের দাবি: নালিশি জমি সি.এস. ১৩ নম্বর খতিয়ান ও এম.আর.আর. ১৬ নম্বর খতিয়ানভুক্ত। অগ্রক্রয়কারী আবুল করিম মোল্লার পিতা ও প্রতিপক্ষগণ ওয়ারিশ ও খরিদাসূত্রে উক্ত জোতের মালিক ছিলেন। পিতা ২০০৪ সালের ২৬ জানুয়ারি ১০৬৮ নম্বর রেজিস্ট্রিকৃত হেবা-বিল-এওয়াজ দলিলের মাধ্যমে ৬ শতাংশ জমি অগ্রক্রয়কারী পুত্রের অনুকূলে হস্তান্তর করায় পুত্র জোতের বৈধ সহ-শরিক হন।
  • বিতর্কিত বিক্রয় ও মোকদ্দমা: অগ্রক্রয়কারীর পিতা ২০০৬ সালের ২৭ জুন তারিখে ৩২২৯ নম্বর রেজিস্ট্রি কবলা দলিলের মাধ্যমে ৫ শতাংশ জমি ১ নম্বর প্রতিপক্ষ সাদেক আলী মোল্লার নিকট বিক্রয় করেন। অগ্রক্রয়কারী উক্ত হস্তান্তরের বিষয়ে অবগত হয়ে ২০০৬ সালে গাবতলী সহকারী জজ আদালতে অগ্রক্রয়ের মামলা দায়ের করেন।
  • বিবাদীর জবাব ও বিচারিক আচরণ: ১ নম্বর প্রতিপক্ষ (ক্রেতা) লিখিত আপত্তি দাখিল করে হেবা-বিল-এওয়াজ দলিলের বৈধতা অস্বীকার করেন। কিন্তু মামলার ট্রায়াল চলাকালে বিবাদী অগ্রক্রয়কারীর সাক্ষীকে জেরা করলেও নিজের প্রতিরক্ষার সমর্থনে আদালতে কোনো সাক্ষী বা দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করেননি।
  • সহকারী জজ আদালত কর্তৃক অগ্রক্রয় ডিক্রি: সাক্ষ্য-প্রমাণ মূল্যায়ন শেষে গাবতলী সহকারী জজ ২০১৩ সালের ২৬ নভেম্বর অগ্রক্রয় মামলাটি মঞ্জুর করে বাদীর পক্ষে রায় প্রদান করেন।
  • আপিল আদালতে বিবাদীর রিমান্ডের দরখাস্ত: উক্ত রায়ের বিরুদ্ধে বিবাদী বগুড়া জেলা জজ আদালতে Miscellaneous Appeal No. 181 of 2014 দায়ের করেন। আপিলটি পরবর্তীতে ৩য় অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে বদলি হয়। আপিল চলাকালে বিবাদী দেওয়ানী কার্যবিধির ৪১ আদেশ ২২ বিধি ও ১৫১ ধারার অধীন একটি দরখাস্ত দিয়ে দাবি করেন যে পূর্ববর্তী আইনজীবীর গাফিলতিতে তিনি ট্রায়াল কোর্টে সাক্ষ্য দিতে পারেননি, তাই সাক্ষ্য দেওয়ার সুযোগ দিয়ে মামলা রিমান্ডে পাঠানো হোক।
  • অতিরিক্ত জেলা জজের রিমান্ড আদেশ: বগুড়ার ৩য় অতিরিক্ত জেলা জজ ২০১৮ সালের ৪ জুন ২,০০০ টাকা খরচ প্রদানের শর্তে দরখাস্ত মঞ্জুর করেন এবং সহকারী জজের ডিক্রি বাতিল করে মামলাটি পুনরায় ট্রায়াল কোর্টে রিমান্ডে প্রেরণ করেন।
  • হাইকোর্টে দেওয়ানী রিভিশন: রিমান্ডের এই আদেশের বিরুদ্ধে সংক্ষুব্ধ হয়ে অগ্রক্রয়কারী আবুল করিম মোল্লা হাইকোর্ট বিভাগে Civil Revision No. 2741 of 2018 দায়ের করেন।

২. বাদি ও বিবাদি পক্ষের আইনি অবস্থান ও দ্বন্দ্ব (Pleadings of the Parties)

🏛️ দরখাস্তকারী অগ্রক্রয়কারীর যুক্তি (Petitioner)

  1. নিজের অবহেলার সুযোগে রিমান্ড নিষিদ্ধ: বিবাদী ট্রায়ালে সাক্ষ্য না দেওয়ার সম্পূর্ণ সুযোগ পেয়েও সাক্ষী হাজির করেননি। আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত মতে (৫৩ ডিএলআর এডি ১১০) নিজের ফাঁকফোকর পূরণে রিমান্ড চাওয়া সম্পূর্ণ বেআইনি।
  2. আইনজীবীর দোষে প্রতিপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে না: আইনজীবীর ওপর দোষ চাপিয়ে ১০ বছর পর চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হওয়া মোকদ্দমা নতুন করে শুরু করা বিচারিক অর্থনীতির ধ্বংস ডেকে আনে।
  3. আপিল আদালতের এখতিয়ারের অপপ্রয়োগ: অতিরিক্ত জেলা জজ নিজে কোনো সাক্ষ্য গ্রহণ না করে পাইকারি হারে ট্রায়াল কোর্টে রিমান্ড পাঠিয়ে বিচারিক মনের প্রয়োগহীনতা ঘটিয়েছেন।

🛡️ প্রতিপক্ষ ক্রেতার প্রতিরক্ষা যুক্তি (Opposite Party)

  1. ন্যায়বিচারের স্বার্থে রিমান্ড প্রয়োজন: মূল মালিকদের ওয়ারিশান ও ১৯৪৯ সালের অকৃষি প্রজাস্বত্ব আইনের ২৪ ধারার বিধান ট্রায়াল কোর্ট বিবেচনা করেনি; প্রকৃত সত্য উদঘাটনে সাক্ষ্য প্রয়োজন।
  2. আইনজীবীর অকার্যকর ভূমিকার বলি: তৎকালীন আইনজীবীর চরম অবহেলার কারণেই বিবাদী সাক্ষ্য দাখিল করতে পারেননি; মক্কেলের মৌলিক অধিকার রক্ষায় আদালত প্রতিকার দিয়েছে।
  3. বিকল্পে আপিল আদালতে পুনর্বিচার: যদি ট্রায়াল কোর্টে রিমান্ড বহাল না থাকে, তবে আপিল আদালতেই উভয়পক্ষকে দলিল দাখিলের সুযোগ দিয়ে আপিলটি পুনর্বিবেচনার প্রার্থনা জানান।

৩. রিমান্ডের আইনি কাঠামো: দেওয়ানী কার্যবিধির ৪১ আদেশ ও আপিল বিভাগের অনুশাসন

দেওয়ানী কার্যবিধির ৪১ আদেশে আপিল আদালতের রিমান্ড মঞ্জুর করার এখতিয়ারকে অত্যন্ত সংযত ও ব্যতিক্রমী ক্ষমতা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে।

আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত: ৫৩ ডিএলআর (এডি) ১১০ ও ৫৪ ডিএলআর (এডি) ৭৪:

আপিল বিভাগ পরিষ্কারভাবে নির্ধারণ করেছেন যে—
“Remand cannot be ordered for the purpose of enabling a party to fill up the lacuna in his pleadings or evidence. A litigant is ordinarily bound by the consequences of his own omission, negligence or failure to avail himself of an opportunity duly afforded by the Court.”

অর্থাৎ, রিমান্ড কোনো নিয়মিত বা স্বাভাবিক প্রতিকার (Matter of course) নয়। কোনো পক্ষ ট্রায়ালে সুযোগ পেয়েও সাক্ষ্য না দিলে আপিলে এসে নিজের ফাঁকফোকর পূরণ করতে রিমান্ড দাবি করতে পারে না। পদ্ধতিগত আইন ন্যায়বিচার সহজ করার জন্য, বিচারিক চূড়ান্ততাকে বিনষ্ট করে কোনো অদূরদর্শী পক্ষকে অন্যায় সুবিধা প্রদানের জন্য নয়।

৪. হাইকোর্ট বিভাগের চুলচেরা বিশ্লেষণ ও আইনি পর্যবেক্ষণ

মাননীয় বিচারপতি আব্দুর রহমান রিভিশনাল দরখাস্ত এবং অধস্তন আদালতের কার্যবিবরণী পর্যালোচনা করে নিম্নোক্ত তাৎপর্যপূর্ণ নীতিগুলো লিপিবদ্ধ করেন:

ক. ট্রায়াল কোর্টে অংশগ্রহণ করার পর সাক্ষ্য না দেওয়া ইচ্ছাকৃত ব্যর্থতা:

হাইকোর্ট লক্ষ্য করেন যে বিবাদী কোনো একতরফা আদেশের শিকার হননি। তিনি লিখিত জবাব দিয়েছেন এবং বাদীর সাক্ষীকে বিষদভাবে জেরা করেছেন। সুতরাং তার আত্মপক্ষ সমর্থনের পূর্ণ সুযোগ ছিল। পর্যাপ্ত সুযোগ পেয়েও সাক্ষী হাজির না করার পর পরবর্তীতে ব্যর্থতার দায় আইনজীবীর ওপর চাপিয়ে নতুন ট্রায়াল (De novo trial) চাওয়া কোনো আইনসঙ্গত ভিত্তি হতে পারে না।

খ. আপিল আদালত কোনো নিষ্ক্রিয় ফোরাম নয় (Appellate Court is Final Court of Fact):

রায়ে মহামান্য বিচারপতি এক গভীর বিচারিক অন্তর্দৃষ্টি প্রকাশ করেন— আপিল হলো মূল মামলারই চলমান রূপ (Continuation of suit)। আপিল আদালত কেবল একটি নিষ্ক্রিয় পর্যালোচনাকারী ফোরাম নয়। যদি কোনো নির্দিষ্ট দলিল বিরোধ নিষ্পত্তিতে অপরিহার্য হয়, তবে আপিল আদালত নিজেই দেওয়ানী কার্যবিধির ৪১ আদেশ ২৭ বিধির শর্তাধীনে তা অতিরিক্ত সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করতে পারে। আপিল আদালত নিজে সেই চেষ্টা না করে পুরো মামলা ট্রায়াল কোর্টে ফেরত পাঠালে তা বিচারিক দীর্ঘসূত্রতাকে অহেতুক বাড়িয়ে তোলে।

গ. প্রকৃত ত্রুটি সংশোধন বনাম মামলা শোধরানোর অবৈধ রিমান্ড:

হাইকোর্ট নির্দেশ করেন যে, রিমান্ডের দুটি রূপ রয়েছে— প্রথমত, বিচার প্রক্রিয়ার কোনো মৌলিক ত্রুটি দূর করার জন্য রিমান্ড, যা ন্যায়বিচারের স্বার্থে অনুমোদিত; এবং দ্বিতীয়ত, কোনো অবহেলাকারী পক্ষকে তার অসম্পূর্ণ মামলা শুধরে নেওয়ার দ্বিতীয় সুযোগ প্রদানের রিমান্ড, যা আইনে সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।

ঘ. বিচারিক অর্থনীতি ও মামলা সমাপ্তির নীতি (Judicial Economy & Finality):

রিমান্ড মানেই কার্যধারা পুনরুজ্জীবিত হওয়া, নতুন করে সাক্ষ্য গ্রহণ, বাড়তি আর্থিক খরচ এবং দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা। পদ্ধতিগত ছাড় কখনো এমন পর্যায়ে যেতে পারে না যা মোকদ্দমার চূড়ান্ত নিষ্পত্তিকেই ধ্বংস করে ফেলে।

৫. হাইকোর্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও আপিল আদালতের প্রতি নির্দেশনা
  • রুল অ্যাবসলিউট (Rule Absolute): হাইকোর্ট বিভাগ অগ্রক্রয়কারী আবুল করিম মোল্লার রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করে রুল অ্যাবসলিউট ঘোষণা করলেন।
  • ট্রায়াল কোর্টের রিমান্ড আদেশ বাতিল: বগুড়ার ৩য় অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত কর্তৃক ট্রায়াল কোর্টে পাঠানো ২০১৮ সালের ৪ জুনের রিমান্ড আদেশ সম্পূর্ণরূপে বাতিল ও রদ করা হলো।
  • আপিল পুনরুজ্জীবিত: মিস আপিল নং ১৮১/২০১৪ অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে তার মূল নম্বরে পুনরুজ্জীবিত করে সেখানে স্বগুণে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হলো।
  • অতিরিক্ত সাক্ষ্যের সীমাবদ্ধতা: আপিল আদালত শুনানিকালে যদি কোনো অতিরিক্ত সাক্ষ্য একান্ত আবশ্যক মনে করেন, তবে তা ৪১ আদেশ ২৭ বিধির কঠোর শর্ত মেনে গ্রহণ করবেন; কিন্তু কোনো পক্ষকে তাদের ফাঁকফোকর পূরণের অবাধ লাইসেন্স দেওয়া যাবে না।
  • ৬ মাসের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তির নির্দেশ: নথি পৌঁছার দিন থেকে পরবর্তী ৬ (ছয়) মাসের মধ্যে আপিলটির চূড়ান্ত শুনানি ও নিষ্পত্তি সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হলো।

৬. আইনি কারণ ও রেশিও ডেসিডেন্ডাই (Ratio Decidendi)

এই রায়ের মৌলিক আইনি নীতিসমূহ (Core Legal Principles):

  1. অবহেলার পরিণাম পক্ষকেই বহন করতে হবে: ট্রায়াল চলাকালে সাক্ষ্য দাখিলে ব্যর্থ কোনো পক্ষ আপিল পর্যায়ে এসে সেই অসম্পূর্ণতা ঢাকার অজুহাতে নতুন ট্রায়ালের সুযোগ পেতে পারে না।
  2. পাইকারি রিমান্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞা: কোনো সুনির্দিষ্ট অমীমাংসিত বিচার্য বিষয় চিহ্নিত না করে নিছক ‘ন্যায়বিচারের স্বার্থে’ ঢালাওভাবে ট্রায়াল কোর্টে রিমান্ড পাঠানো আইনত অচল।
  3. আপিল আদালতের সক্রিয় ভূমিকা: আপিল আদালতকে বিদ্যমান নথির ভিত্তিতেই বিরোধ নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করতে হবে। ৪১ আদেশ ২৭ বিধির অধীন অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণ কেবল তখনই সম্ভব যখন আদালত নিজে সন্তুষ্ট হয় যে উক্ত সাক্ষ্য ছাড়া রায় দেওয়া অসম্ভব।
  4. মোকদ্দমার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির স্বার্থ: বিচারহীন দীর্ঘসূত্রতা রোধ ও বিচারিক ব্যয় সংকোচন আদালতের অন্যতম প্রাথমিক সাংবিধানিক ও আইনি দায়িত্ব।

৭. প্র্যাকটিসিং আইনজীবীদের জন্য ৫টি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহারিক সতর্কতা
১. ট্রায়াল কোর্টেই যাবতীয় সাক্ষ্য সমাপ্ত করুন:

কখনোই এই ভরসায় থাকবেন না যে আপিলে গিয়ে নতুন সাক্ষ্য দেওয়া যাবে। ট্রায়াল কোর্টের ক্লোজিংয়ের আগেই সমস্ত সাক্ষী ও নথিপত্র একজিবিট করান।

২. আপিলে রিমান্ড প্রার্থনার ভিত্তি প্রস্তুত করুন:

রিমান্ড চাইতে হলে প্রমাণ করতে হবে যে ট্রায়াল কোর্ট কোনো মৌলিক ইস্যু ফ্রেম করেনি বা কোনো আইনি প্রতিকার এড়িয়ে গেছে; নিছক নিজের সাক্ষ্য ঘাটতি দেখালে রিমান্ড বাতিল হবে।

৩. ৪১ আদেশ ২৭ বিধির শর্তাবলি কঠোরভাবে অনুসরণ করুন:

অতিরিক্ত সাক্ষ্য দাখিল করতে হলে প্রমাণ করতে হবে যে ট্রায়াল কোর্টে যথাসাধ্য চেষ্টা সত্ত্বেও দলিলটি উপস্থাপন করা সম্ভব ছিল না অথবা ট্রায়াল কোর্ট বেআইনিভাবে তা প্রত্যাখ্যান করেছিল।

৪. প্রতিপক্ষের অবৈধ রিমান্ড আদেশের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক রিভিশন:

আপিল আদালত যদি ভুলভাবে মামলা ট্রায়াল কোর্টে ফেরত পাঠায়, তবে সেখানে হাজির না হয়ে তাৎক্ষণিকভাবে হাইকোর্টে ১১৫(১) ধারায় রিভিশন করে রিমান্ড আদেশ বাতিল চান।

৫. ৫৩ ডিএলআর (এডি) ১১০ নজিরটি উদ্ধৃত করুন:

রিমান্ডের বিরোধিতায় আপিল বিভাগের এই ক্লাসিক নজির উপস্থাপন করলে যেকোনো অযৌক্তিক রিমান্ড আবেদন নস্যাৎ করা সম্ভব।

৮. মামলার রেফারেন্স ও বিচারিক তথ্যের সারসংক্ষেপ
মামলার শিরোনাম ও নম্বর দেওয়ানী রিভিশন নং ২৭৪১ / ২০১৮ (Civil Revision No. 2741 of 2018)
উচ্চ আদালত ও বেঞ্চ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, হাইকোর্ট বিভাগ (একক বেঞ্চ: মাননীয় বিচারপতি আব্দুর রহমান / Mr. Justice Abdur Rahman)
পক্ষসমূহ মো: আবুল করিম মোল্লা (দরখাস্তকারী/অগ্রক্রয়কারী) বনাম মো: সাদেক আলী মোল্লা ও অন্যান্য (প্রতিপক্ষগণ/ক্রেতা ও অন্যান্য)
বিজ্ঞ আইনজীবীবৃন্দ দরখাস্তকারী পক্ষে: জনাব মো: শামসুর রহমান ও মোছা: রীনা বেগম, অ্যাডভোকেট | প্রতিপক্ষ ১ নম্বর পক্ষে: জনাব মো: হাবিবুর রহমান, অ্যাডভোকেট
অধস্তন আদালতের মামলা ও রায় ১. সহকারী জজ আদালত, গাবতলী, বগুড়া (অগ্রক্রয় মোকদ্দমা নং ২২/২০০৬, রায়: ২৬.১১.২০১৩ – অগ্রক্রয় মঞ্জুর)
২. ৩য় অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত, বগুড়া (বিবিধ আপিল নং ১৮১/২০১৪, রায়: ০৪.০৬.২০১৮ – ট্রায়াল কোর্টে রিমান্ড)
মূল আইনি বিষয়বস্তু ও নজির দেওয়ানী কার্যবিধির ৪১ আদেশের অধীন রিমান্ড নীতি; গাফিলতি ও ফাঁকফোকর পূরণে রিমান্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞা (53 DLR (AD) 110, 54 DLR (AD) 74); আপিল আদালতের ৪১ আদেশ ২৭ বিধির অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণের ক্ষমতা; বিচারিক অর্থনীতি ও মামলা সমাপ্তির নীতি।
হাইকোর্টের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রুল অ্যাবসলিউট (Rule Absolute); অতিরিক্ত জেলা জজের রিমান্ড আদেশ বাতিল; মিস আপিল ১৮১/২০১৪ পুনরুজ্জীবিত করে ৬ মাসের মধ্যে আপিল আদালতে স্বগুণে নিষ্পত্তির নির্দেশ।
শুনানি ও রায়ের তারিখ শুনানি: ২৬ জুলাই, ০২ ও ০৩ আগস্ট ২০২৬ | চূড়ান্ত রায় প্রদান: ১০ আগস্ট ২০২৬ (২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ) | আপলোড: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
অফিসিয়াল রায়ের লিংক ও PDF 📄 সুপ্রিম কোর্টের অফিসিয়াল PDF ডাউনলোড
🏛️ সুপ্রিম কোর্ট জাজメント পোর্টাল
আইন প্রকাশ (Ain Prokash) — বাংলাদেশের আইন শিক্ষা, সুপ্রিম কোর্টের নির্ভরযোগ্য রায় এবং জুডিশিয়াল প্রশ্নব্যাংকের গবেষণা ও প্রকাশনা মাধ্যম।

Related Articles

Back to top button